করিবো এবং ফেলিবো

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়


(ইউসড এন্ড থ্রোন’সগন ... আমরা রিসাইকেল্ড হতে পারি... হই...)


“ আচ্ছা ইউস এনড থ্রো বললে তোর কিসের কথা মনে পরে?”
“ অগ্নি জেল, বেশ্যা আর হিমেশ”

এই কথাটার পর বাকি লেখাটুকু ক্যামোন য্যানো ভেবলে গ্যালো । অগ্নি জেলটা আমারো এসেছিল। বেশ্যাটাও। কিন্তু হিমেশ? না। সাল্লা মালটার কি লেভেল। পুরো দিয়ে দিলো। সেই চন্দ্রবিন্দু যোগে এবং গুনে ঊ। ঊঁঊঁঊঁঊঁঊঁঊঁঊঁ। কি ফেটেছিলো কয়েক পুজো তে। নাকি সুরে হবার প্র্যাক্টিস করছে তখন আমাদের তনয় দা। ট্র্যাক চালিয়ে গাইতো। মেনলি কিশোর আর রফি। সেই বছর নাকি হিমেশ দরকার ছিলো । মহালয়ার সকালে যখন সব বাড়িতে ঐতিহাসিক এবং প্রাগৈতিহাসিক রেডিও চলছে, তখন তনয় দা দরজা, জানলা বন্ধ করে ট্র্যাক চালিয়ে প্র্যাক্টিস করছে। ঘেমে এক্সা। কিছুতেই চন্দ্রবিন্দু টা ঠিকঠাক লাগছে না। লাগ্লেও দম ধরে রাখা যাচ্চে না। বেশিক্ষন গাইলে নাক সুরসুর করে। হাঁচি পায়। তনয় দা তখন সব সময় এক্টা টুপি পরতো । মাথার পিছনদিকে দাগ হয়ে গেছিলো। সে বছর অষ্টমী তে ফাটিয়ে দিয়েছিলো । ওর প্রেমিকার মাতাল বাবা পর্যন্ত দশ টাকার তোড়া উড়িয়েছিলো ওর গায়ে। এখন তনয় দা অরিজিত সিং গায়।মানে গাইবে। প্রয়ক্টিস শুরু হয়ে গ্যাছে যে।

হাফ প্যাডেল ছাড়িয়ে তখন সদ্য ফুল প্যাডেলে। সিটে পেছন বসে না। হারকিউলিস লম্বা সাইকেল্টা তখন ঘোড়া। আমি জকি। রেস করতাম। ছ্যাঁতরে পরতাম । লাল ওষুধ । তবু থামতো না। আবার। সাইকেল টার নাম দিয়েদিলাম হায়াবুসা। ধুমের ধুমকি তখন ঘন। ইচ্ছাকৃত ভাবে স্যাট্রল ব্রেক। রাস্তায় কালো বিঘত খানেক দাগ সঙ্গে একটা খ্যারখ্যারে শব্দ। উফফ। ড্রিম ড্রিম।

ফার্স্ট ইয়ারে বাবা একখানা সেকেন্ড হ্যান্ড স্প্লেন্ডার কিনে দিয়েছিলো। মাইরি তখন ওটাই হায়াবুসা। লুকিং গ্লাস। ব্যাক সিট। বাইকের সময় আমি বেশ শান্ত । অতো রেস ফেস মারাতাম না। শয়তানের চাকা বলে কথা। দপদপ করত। সাইকেলটা গ্যারাজে ঠাঁই হলো। রোববার করে বাবা চালায়। একদিন বাইক লিক। সকালে পড়াতে যেতেই হবে। যথারীতি সাইকেল। উফফ। পা টনটন করছে। ঘেমে নেয়ে এক্সা। অভ্যেস চলে গ্যাছে বছর চারেক । সেই কালো ওল্ড লুকিং স্প্লেন্ডার টাও আর চালাই না। আরেকটা নতুন চামকিলা এসেছে। এখন রোব্বারে করে পুরোনো “হায়াবুসা” টা বার করি , বাবা যে ভাবে আমার তস্য পুরোনো “হায়াবুসা” টা বার করে। বুঝতে পারি আমার ওপর ওদের সহ অনেকের অভিমান জমেছে। জমছে।


সম্পর্কে ইউস এন্ড থ্রো হয়েছি বলে দুঃখবিলাশ এই লেখাটায় মানাচ্ছেনা। লিখবো না। কিন্তু সময়ের সাথে বুঝেছি মুহুর্ত গুলো ইউস এন্ড থ্রো ছিলো না,আর বাদবাকি যাই হয়ে থাকুক না ক্যানো ।

একটা সময় উইদাউট ডকুমেন্টে সিম পাওয়া যেত কম দামে। টকটাইম সহ। এরকম অনেকগুলো নাম্বারের সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিলো। একদিন দেখতাম সুইচড অফ। বুঝতাম বন্ধুত্ব কিনবা সিম এর ভ্যালিডিটি শেষ হয়ে গ্যাছে। আর কোনোদিন ফোন’ও করবে না। করেও নি কেউ। অনেকে দেখা করতে চাইতো। আমি জানতাম, মানুষগুলো সামনাসামনি অনেকটা আলাদা হবে। কন্সেপ্টে ঠোক্কর খাবো।

এক বান্ধবী রাত ২টো তে হাফাতে হাফাতে ফোন করে জানালো (বলা ভালো বল্লো) , তার বি.এফ (হ্যা, সে কথা বলার সময়’ও অদ্ভুত ভাবে বয়ফ্রেন্দ কে বি.এফ’ই বলে...কি অস্বস্তিকর মাইরি) চিটিংবাজ...আমাকে কিছু করতে হবে। আমি তখন সুদীপ্ত সেন আর সেই ছেলেটার মধ্যে মিল খুঁজছি। “কিরে করবি কিনা বল” । “করবো”, “করবি” “কর” এইসব শব্দগুলো হঠাত কানে এলে “ইয়ে”র কথা মনে পরে। এরকম হঠাত প্রস্তাবে আমি থতমত(সম্পুর্ন আমার অ্যাস্পেক্ট থেকে)। কি বলবো ভাবছি। “প্লিজ ভাই খুলে দে এক খানা... আর্জেন্ট” । ভাই আবার খোলাখুলি আবার ইয়েমার্কা প্রস্তাব । আমি কনফিউসড পপকর্ন। ধাতস্ত হয়ে জিগালাম , কি খুলতে হবে। জানালো একখানা বিশ্বাসযোগ্য ফেক ফেসবুক অ্যাকাঊন্ট। আমার খুব নোংরা লেগেছিলো। জানি নজরদারী চালানোর জন্য। আবার ছেলেটার লয়াল্টি নিয়েও ... । আমার সাহায্য ছাড়াই সে সেটা খুলে এবং ইত্যদি করে। ঘটনা হলো ছেলেটা লয়াল্টি টেস্টে পাস করে চুমু সহ প্রেমিকা’র থেকে কথা আদায় করে নিয়েছিল সেই ফেক অ্যাকাউন্টা ডিলিটের।আর মেয়েটা নিজেই পরে ওই ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে একটা রিলেশানে জড়িয়ে পরে।

আপনার মতামত জানান