ইমেল লিক্স ও মধ্যমা প্রদর্শন

সৌরাংশু


দেখুন দাদা এই যে জিনিসটা নিয়ে আমি লিখতে যাচ্ছি তাতে হতে পারে আগামী বছর খানেক আমার প্রিয় কোলকেতায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল অথবা দিল্লির বাঙালীগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আমার দুর্গাপূজোয় প্রবেশ বন্ধ করে দিল। কিন্তু মাঝে মাঝে খবরের খাতিরে কিছু কিছু জিনিস কার্পেটের তলা থেকে তুলে আনতেই হয়।
চলুন তাহলে ফিরে যাই ২০০৪-এ যখন ভারতীয় ক্রিকেটে রাইট জমানা শেষ হতে চলেছে আর কিউই সাহেবের ঘরের টান ভারতীয় ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের উপরেও পড়তে শুরু করেছে। ভারত ১৯৬৯-এর পর প্রথমবারের জন্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে ঘরোয়া সিরিজ গচ্চা দিয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ১-০ এগিয়ে থাকা অবস্থায় মোহালিতে আব্দুল রজ্জাক আর মইন খানকে সারা দিন চেষ্টা করেও ক্রিজ থেকে উৎপাটিত না করতে পেরে এবং পরের ইডেন টেস্টটি অসাধারণ অবস্থায় হেরে সিরিজ ড্র করেছে এবং তার পর ২-০ এগিয়ে থাকা অবস্থায় শেষ চারটি একদিনের ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়েছে।
বলতে পারেন এসব আর এমন কি! ভারতীয় ক্রিকেটে এরকম ভাল খেলিয়াও পরাজিত তো আকছার হয়েছে। দু কদম গেলেই মাউন্ট এভারেস্ট এই অবস্থায় হ্যামস্ট্রিং পুল বার বার ঘটেছে। কিন্তু সে তো আগের জমানায়। গাঙ্গুলীর অধিনায়কত্বে ভারতীয় দল ঝুলির ভিতর থেকে সিংহ বার করে ফেলেছে। ফলো-অন করেও ৯ মিনিট বাকি থাকতে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছে। ইংল্যাণ্ডে গিয়ে সোয়া তিনশো তাড়া করে পাঁচ উইকেট পড়ে গেলেও তরুণ তুর্কীদের হাত ধরে লর্ডসের ব্যালকনিতে বিদ্রোহের নীল ঝাণ্ডা উড়েছে খালি গায়ে। পর পর সাতটি ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফাইনাল খেলেছে।
যাই হোক কাউকে তো একটা ধরতে হবে, তাই রাইট বাবুকেই ধরা হল যে তাঁর আমাদের দেশকে দেবার আর কিছু নেই। তাই পত্রপাঠ বিদেয় করা হল।
আনা হবে কাকে? ভারতীয় ক্রিকেটের বহু চর্চিত এবং বহু লাঞ্ছিত পদের জন্য মাথা গোনার তো শেষ নেই। ডেভ হোয়াটমোর, টম মুডি, জন এম্বুরি, মোহিন্দার অমরনাথ, গ্রাহাম ফোর্ড পেরিয়ে চ্যাপেলের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল। সেই চ্যাপেল যিনি ক্রিকেট খেলায় সর্বাধিক জনপ্রিয় অঙ্গ ব্যাটিংকে গুলে খেয়েছেন। প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে জীবনের প্রথম এবং শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। কব্জির রাজা আজহারউদ্দিনের সামান্য গ্রিপের হেরফের ঘটিয়ে রানে ফিরিয়ে এনেছেন এবং সর্বোপরি ভারতীয় ক্রিকেটের যুগপুরুষ শ্রীমান গাঙ্গুলীর স্ট্যান্সে সামান্য হেরফের করিয়ে ব্রিসবেনের বুকে লড়াকু ১৪৪ দিয়ে পালটা দেবার যুগের গোড়াপত্তন করেছেন।
তবে এক বালতি দুধের মধ্যে এক ফোঁটা চোনা কি ছিল না? বিলক্ষণ ছিল, ওনার ভাইকে জিজ্ঞাসা করুন। ৬ রান জিততে দরকার এই অবস্থায় ট্রেভর চ্যাপেলকে দিয়ে নিয়মানুগ কিন্তু ক্রিকেটের চরিত্রের পরিপন্থী পন্থায় আণ্ডারআর্ম বল করতে কে বলেছিল? না না সেটা চোনা কেন হবে? ভারতীয় ক্রিকেটের পরিবর্তিত আবহাওয়ায় সে তো যে কোন মূল্যে জেতার ইচ্ছা পোষণ করা। সে সব নিন্দুকেরা বন্দুক পরিষ্কার করার জন্য বাজে কাপড় হিসাবে ব্যবহার করে। আমাদের তো সামনের দিকে তাকানো দরকার, তাই ব্রিসবেনের ১৪৪ গেল জিতে। দেশজ প্রার্থী মোহিন্দার অমরনাথের দুর্দান্ত পাওয়ার পয়েন্ট পাস নম্বর বার করতে পারল না।
দাদা খুশী, ছোটু খুশী, জ্যামি জাম্বো সবাই খুশী। চ্যাপেল সাহেবও নিশ্চয়ই খুশী হয়েছিলেন। অন্তত তাঁর বিখ্যাত ওয়েবসাইট চ্যাপেলওয়ে তো তাই বলে। অবশ্য আয়ে দিন টিভি চ্যানেলে মুখ দেখাবার সৌভাগ্য অস্ট্রেলিয়ার মতো একটা ছোট্ট দেশে তাঁর প্রধানমন্ত্রীরই হয় না তো ক্রিকেট কোচের কি ভাবে হবে। ভারতে তো তিনি হাঁচলে খবর, চাটলে খবর, নাচলে খবর।
চ্যাপেলবাবু এসব ব্যাপার স্যাপারে বিলক্ষণ পটু। তবে ক্রিকেটটা তিনি অস্ট্রেলীয় কায়দায় গুলে খেয়েছিলেন বিয়ার টিয়ার দিয়ে। তাই কপাৎ করে রোগ ধরে ফেললেন। ব্রিসবেন তখন ইতিহাস। বীরেন্দর, জাহির, যুবি, ভাজ্জি পেরিয়ে তাঁর চোখ চলে গেল সেই বাঁহাতির ব্যাটে যিনি দেশ তো জেতাচ্ছেন, কিন্তু ব্যাট তাঁর বন্ধক রেখে দিয়েছেন লর্ডসের ব্যালকনিতে। অবশ্য দুষ্টু লোকেরা বলে যে তাঁর হাত ধরেই নাকি চ্যাপেলের চকিত চপলা পদক্ষেপ ভারতের মাটিতে পড়েছিল। তবে সে সব কথা তো বৃহত্তর স্বার্থে ভাবলে কি আর চলে? স্বজন পোষণ ভারতীয় চরিত্র হতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলীয় ঋজুতায় তা বেমানান। তাই দে গরুর গা ধুইয়ে।
অবশ্য চ্যাপেল সাহেবকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তিনি সুশিক্ষকের মতো বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চোখ যদি সাফল্যের আপাত অভিজ্ঞতার রঙিন রুমালে ঢাকা থাকে তাহলে কি আর সহজ কথা সহজে কানে ঢোকে। তার উপর দুই কানের মধ্যে জায়গা ভগবান দিয়েছেন কি করতে।
না না সাহেব আপুনি ভুল বলেছেন। আমি তো অফসাইডের ভগবান, খুন্নাস মনোবৃত্তির খুদা। ফর্ম ইজ টেম্পো চড়ে ক্লাস ইজ পিপারমেন্ট। লর্ডসের সেঞ্চুরি ভাঙিয়ে আমি আরও বছর পাঁচেক খেলে যাব। কিছু বললে বাংলায় হরতাল আর হিন্দিতে বনধ করে দেব না? তাই হরলিক্স!
আরে হরলিক্স তো নয়, উইকিলিকসও নয়। এ হল ইমেল লিক! চ্যাপেলবাবু, চ্যাপেলওয়ে দেখিয়েছেন এবং মূল কথা বলেছেন যে, মাথায় জং ধরে গেছে মাথা বদলাও। যদিও তাঁর কথার মধ্যে সারবত্তা ছিল কিন্তু মিডিয়ার সেসব নিয়ে কি কাজ। কোথা থেকে বোর্ড প্রেসিডেন্টের ইমেল লিক হল এবং তাঁর বিশেষ বিশেষ অংশই প্রকাশ পেল সে সব চুলোর দোরে।
অতএব, রাম চন্দ্রের বনবাস, কোলকাতায় পোড়া বাস, পার্লামেন্টে আছোলা বাঁশ, আর আসমুদ্র হিমাচল বঙ্গ সন্তানদের দীর্ঘকালীন উপবাস। ভারত কিন্তু খারাপ খেলছে না। তারা পাকিস্তানকে ওড়াচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৭১-এর পর সিরিজে হারাচ্ছে। কিন্তু তাতে কি? বাঙালীর আঁতে ঘা লাগলে দেব না কামড়ে? ফলস্বরূপ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একদিনের ম্যাচে বিদেশীদের সুবিধা করে দিয়ে বাউন্সি পিচ- চ্যাপেলবাবুর মধ্যমা প্রদর্শন এবং শ্বশুরবাড়ির মাঠে নেমে তদানীন্তন অধিনায়কের বিখ্যাত উক্তি, “উফ কতদিন পর দেশে ফিরলাম!”
তখন ইডেন গার্ডেন্সের মণিহারা ফণী অবস্থা। প্রিয় ক্রিকেটার লক্ষণ ক্যাচ ফেললেও তাকে চোদ্দ পুরুষের নামগান করানো হচ্ছে। ভারতীয় উইকেটে উল্লাস প্রদর্শন হচ্ছে। দাদার ভাইয়েরা সব অনাথ হবার আশঙ্কায় কালোয়াতি গাইছেন।
তারপর আর কি? সেই বিখ্যাত ফিরে আসার লড়াই, রণদেবের সঙ্গে বহুযুগ পর ফিটনেস ট্রেনিং। ইণ্ডোর জিম ঘুরে দিল্লির নাহার সিং স্টেডিয়ামে দ্বিশতরান। তারপর মুখের মতো জবাব মাখায় এনটিনিকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে বাপি বাড়ি যা।
তা বাপি বাড়ি তো যাবেনই। তিনি তো আবার উৎসাহের আতিশয্যে ইরফান পাঠান মুনাফ প্যাটেল সহ হাফ ডজন সম্ভাবনার বিনাশ ঘটিয়েছেন এবং সর্বোপরি চটিয়েছেন ঈশ্বরকে। অগত্যা চ্যাপেল নিজেই নিজের ওয়ে দেখলেন আর একদিনের আন্তর্জাতিক সরে গেলেও টেস্ট ক্রিকেটে দাদার মহিমা সগৌরবে স্থাপিত হল।
কিন্তু সব শীত কি এক মাঘে যায় রে মামা? তার জন্য তো আবহাওয়া দপ্তর আর বিশ্ব ঊষ্ণায়ন বসে আছে। অতএব কাট টু কাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের নির্বাচন। তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীর আগ বাড়িয়ে চর্মশিল্পের বিতর্কিত অধ্যায়কে ক্রিকেটের মাঠে টেনে আনা। প্রসুন মুখোপাধ্যায়ের ক্রিকেট সম্প্রসারণ এবং আবার ইমেল লিক।
এই মেরেছে। লিকিং ইজ আ ভেরি ব্যাড হ্যাবিট। ও হ্যাঁ প্রসুন বাবুকে মনে আছে? সেই রিজওয়ানুরকে শহীদ বানিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি তো দাপটে পুলিশ ও প্রশাসন একাধারে সামাল দিচ্ছিলেন। এবার এসেছেন বঙ্গ ক্রিকেট থেকে তথাকথিত দুর্নীতি দূর করতে। সঙ্গে তিস মার খাঁরাও আছেন। আর আছেন স্নেহাশিস গাঙ্গুলী। দাদা থাকলে ভাই কি আর দূরে থাকতে পারে? তাই সেই অমোঘ ইমেল- যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস- তাদের ভোট বাক্সে যেন লেখা থাকে ডাবর চ্যবনপ্রাশ। সেই চ্যাপেলের ইমেল লিকের সিবিআই তদন্ত না হলেও ফলাফল প্রকাশিত। ডালমিয়াই সুকৌশলে নাকি ইমেল প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।
ডালমিয়া কে জানেন না? আরে কোলকাতার বিখ্যাত চর্ম শিল্প ব্যবসায়ী এবং ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের এক সময়ের অবিসংবাদিত প্রভু যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে সাহেবদের মৌরসিপাট্টায় হাত মারেন প্রথম বাদামী মানুষ হয়ে। ক্রিকেটকে টাকার মুখ দেখান আর ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রথম বৈজ্ঞানিক কায়দায় অগ্রগতির রাস্তা দেখান।
ও আরেকটি কাজও করেন। চণ্ডী গাঙ্গুলীর কনিষ্ঠ সন্তানকে ভেটো প্রয়োগ করে প্রথমে রঞ্জি ফাইনালে অভিষেক করান এবং তারপর আঞ্চলিক ক্রিকেট রাজনীতির সাহায্যে লর্ডসের মঞ্চ তৈরী করে দেন। তারপর তাকে বসিয়ে দেবার অপরাধে ভারতীয় কোচ সন্দীপ পাতিলকে তিন মাস জেল আর সাতদিনের কারাবাস দেন বলেও নিন্দুকদের অভিযোগ।
কিন্তু দাদা তো সেই চ্যাপেলের থেকেই শিক্ষা নিয়েছেন। পেটি সেন্টিমেন্টের চক্করে নিজের স্বার্থে ঘা তো পড়বেই না। তাই হর ইয়ে মানে ইমেল লিক্স। তা বিধি যদি ‘বাম’ হয় তাহলে তো ক্রিকেট প্রতিনিধিই বা কি করতে পারেন। ফলস্বরূপ সুশাসনের প্রতিভূ প্রসূনের সাম্রাজ্য স্থাপন এবং আইপিএলে নাইট রাইডারের দলগঠন।
দাদা তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান হওয়া সত্বেও অবসর নিয়েছেন এবং আইপিএলকে পাখীর চোখ করেছেন।
রঞ্জি খেলার মোটিভেশন পান না। শুধুমাত্র বৃহত্তর স্বার্থে আইপিএলে কোলকাতার মুখোজ্জ্বল করার জন্য মাঝে সাঝে খেলে দেন। অবশ্য বাংলা অবনমনের আওতায় পড়লেও বুক চিতিয়ে ৬৬ করে দেন।
কিন্তু পরিবর্তনটা দেখা যায় অন্যত্র। প্রসুনবাবু তদ্দিনে ক্রিকেটের পাট চুকিয়েছেন। একগাদা হিসাব নিকাশ আইপিএলের পাওনা গণ্ডা চুক্তি ফুক্তি জলে ফেলে দিয়ে। তাই সবেধন নীলমণি জগুদাদাই ফিরে এসেছেন। দাদাও তখন আপত্তি জানাচ্ছেন না ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বনাশকারী ইমেললিককারী জগুদাদার সঙ্গে এক মঞ্চে গল্প গুজব করতে।
পট পরিবর্তন হচ্ছে। কোলকাতার পারফরম্যান্স উন্নত হচ্ছে না। পুনেরও কচু হচ্ছে। বাংলা থেকেও মনোজ আর ঋদ্ধি ছাড়া কেউ উঠে আসছে না। কিন্তু তাতে কি? সার্বিক ক্রিকেটে শুধু বাংলার কথা ভাবলে চলে? অবশ্য ভাবতেও হয়। না হলে লোকে কি বলবে। আরও মনোজ আর ঋদ্ধি তুলে আনতে মুরলীধরণ আর ওয়াকারের আগমন ঘটে আকাশ ছোঁয়া দরের বিনিময়ে।
জগুদাদাও খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তাই যুবরাজ হিসাবে তৈরী করা শুরু হয়েছে একদা যুগপুরুষকেই। দক্ষ প্রশাসক হিসাবে ইতিমধ্যেই জাম্বো নাম কিনেছেন। আর দাদা তো চিরকালই বুদ্ধিমান ও বলিয়ে কইয়ে। আশা করা যাচ্ছে। বঙ্গ ও ভারতীয় ক্রিকেটের সুদিন এল বলে।
কিন্তু সেই ২০০৪-২০০৭এর ঘটনাগুলোকে বাঙালী কেন যে একবার ভেবে দেখল না বলুন দেখি? রিয়েলিটি শোয়ে চোখের জলে ইমোশনে গুলে খেয়ে ফেলে, লড়াইয়ের কথা বলে কিন্তু সিংহাসন টলোমলো হলেই কেন উঠতি ছেলে ছোকরাদের গাল দেয় বলুন দেখি? চ্যাপেল ভুল ছিল না সৌরভ। ডালমিয়া সত্যিই কি সৌরভের কেরিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন? নাকি তিনি সবসময় সৌরভের ভালই চেয়ে এসেছেন। আমি জানি না, ঠিক ঠাকভাবে ঘটনাগুলো সাজাতে পারলাম কি না! জানি না এটা বোঝাতে পারলাম কি না যে, সৌরভ গাঙ্গুলী সত্যিই বাংলার ক্রিকেটের যুগপুরুষ ছিলেন। সুঁটে ব্যানার্জী, অম্বর রায়, প্রকাশ পোদ্দার, গোপাল বসু, বরুণ বর্মনের ব্যর্থতার ইতিহাস পেরিয়ে এসে সাফল্যের নতুন যুগের সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছে যে সাফল্যের মায়া অঞ্জনে তিনি অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন। পতন আসন্ন সেটা বুঝতে পারেন নি। চ্যাপেল নিজের মতো করে বুঝিয়ে দিয়ে যান। তাতে আখেরে উন্নতিই হয় এবং টেস্ট ক্রিকেটের শেষ চরণে এসে সেরা ব্যাটিংটাই করে দিয়ে যান সৌরভ।
কিন্তু তারপর? অন্ধকার থেকে বার করে নিয়ে আসতে পারবেন কি তিনি বঙ্গ ক্রিকেটকে? সত্যিই কি আমরা পরবর্তী সৌরভকে দেখতে পাব? নাকি বঙ্গ ক্রিকেটের একমেবদ্বিতীয়ম ঈশ্বর হয়ে তিনিই থেকে যাবেন সমগ্র বঙ্গ জাতিকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন থেকে চোখ সরিয়ে রেখে শুধুমাত্র নস্টালজিক করে? ভাবুন ভাবুন ভাবা প্র্যাকটিস করুন। ব্যাট ব্যবহার করার পর নামিয়ে রাখা হয়েছে নাকি তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে নিরুদ্দেশের ঠিকানায়।

আপনার মতামত জানান