কোলাহল

শ্রেয়স সরকার


চরাচরে বসে বসে খদ্যোতের গোধূলিস্নানের আয়োজন-
'আমি তো আছি, এই তো আছি'
দিগন্ত জোড়া আশ্বাস, উন্মনা উন্মাদ;
হৃদয়ের প্রত্ন-গহ্বরে কখন খনন শুরু হয়েছে,
কারা যেন লুটে-পুটে নিচ্ছে,
মানবিকাতার সমস্ত মণি-মানিক্য!

হাঁতড়ে হাঁতড়ে যখন প্রত্যেকটি 'তুমি'কে খুঁজে পেলে,
কেউ কবন্ধ, কারোর হাত-কাটা গৌরব-
তাদের মেরামত করতে করতে লেগে গেল
একটি মেয়ের বিবস্ত্রতা, একটি মেয়ের দেবীত্ব-হরণ।
সারাতে সারাতে নিমগ্নতা নিদ্রাভিমুখী-
জরাজীর্ণ হৃডপিন্ডে তখন,
অমাবস্যা নামা রাত্রি অস্তিত্ত্বের ঝুঁটি ধরে নাড়িয়ে চলেছে
আতপ ও সিদ্ধ চাল ভাত-গন্ধ হারিয়ে ফেলেছে !

এ সমস্ত না-অস্তিত্ত্বের বিনুনি দিয়ে নদী তৈরী হয় না।
এ এ-ফোঁড় ও-ফোঁড় খত, রক্তপাতের বিভূতি দরকার;
যে সব খেয়ার ওপার নেই,
যে সব যাত্রাশেষের মোমবাতি নেই
সে সব শেষের পর, খানিকটা অস্তিত্ত্ব
শুকনো মোমবাতি হয়ে রয়ে যায়।

কোলাহল অনেক সময়ে বারণ করা যায় না
কোলাহল অনেক সময়ে সঙ্গীত হয়ে ওঠে

বৈপ্লবিক নাগরিকতা, নির্মাণ কর নিজেকে
থর থর প্রাচীরে ,শ্রবণ দাও একাগ্র করে
তোমার অবাধ্য সত্তায়
ভূমিকম্প ধরিয়ে
কেমন করে জানি,রাত্রির মধ্যযাম চিরে
ধীরে ধীরে স্ফুটমান
একটা লতানো ভোরবেলা !

আপনার মতামত জানান