ছ'টি কবিতা

তাপস কিরণ রায়



(১)

দেবী !

নক্ষত্রের ছিদ্রে সেই কমলা রঙ
অলঙ্করণ বিভূষিতা
তুমি দেবী !

আলোক চন্দ্রিকায় ঢুবে থাকো
সেখান থেকেই টুকরো টুকরো
চেহারা ভাসা তুমি তিল তিল
পারদর্শী কাঁচখণ্ডে তোমার হাজার মুখ
ওই দেওয়াল ছবি ঘেঁষা সার সার মুখ ছুঁয়ে
বুকের পাশটিতে সেই ঠিকরানো নক্ষত্র দানা--
সহস্রাধার।

(২)

পূর্বপুরুষ

সেই গুহাতেও প্রাণীজ ঘ্রাণ
অসংখ্য বাদুড়ের ঝুলে থাকা আকর্ষ
জানি এখানে সেই পূর্বপুরুষের এলেম ঘোড়া দৌড়
মুদ্রার উড়ন্ত ধূল পরত
পরাক্রান্ত সিংহ ভাগ গাঁথা দণ্ডায়মান স্ট্যাটাস
ধনুক ভেঙেছ তুমি,তাই ক্ষাত্র রেখা তোমার ভাল
জ্বলে ওঠে অলক্ষ্য মাছের চোখ
আর সহস্র পাতাল থেকে তাক করে ধনুর্ধর পূর্বপুরুষেরা।

(৩)

রুটি

সেই রুটির টুকরোয় মাঝ রাস্তা গড়াগড়ি খাচ্ছিল,
সমস্ত শরীর পোড়া ছিল--আলকাতরা কঙ্কাল শরীর,

মাটির পরত গাঁথা,
খড়মণ্ডে ভাসমান ডুব দীঘি জল,
আর উঠে আসা গ্রিনরুম ঢেকে থাকা পর্দা
নয়ন দান পর্বের শেষ ঢাক কাঠি,
শিউলি তলার সাদা চাদর ঢাকা
কমলা বৃন্ত তার জেগে থাকে শিশির দোলক।

(৪)

ব্রক্ষ্মনাদ !


ওই শীর্ষ দেশ উচ্চতার ঝাপসা
তবু পদানত সেই চরণ ধূলি
আব্রু সরে গিয়ে সেই হাড় পিঞ্জর কঙ্কাল,
পোশাকে মোড়ানো আছে রঙ প্রলেপ
বিছে থাকা পথ
পিচ রঙ কালো
হেঁটে চলে সেই ঘোড়া এবং অসংখ্য পদছাপ,
শিকল বেঁধেছে পা,অথবা ছিঁড়েছে যেমনটা
ফেটে পড়ার ক্ষোভ
বারুদ পাথর ফাটল ডেনামাইট চিড়ে
ব্রক্ষ্মনাদ !

(৫)

বিভ্রম

আলোক বিভ্রম
আলো গ্রস্ত অন্ধকার
এবং অঙ্গার্ধ অন্ধকার

শুধু দুঃখের পংতি সাজান যায় না,
দুঃখ বেছে নিয়ে জীবন যদি...

সে আলোকিত জ্যোৎস্না মেখে
হেঁটে চলা বনজ আঁধার
তোমার হৃদয় কন্দেই আনন্দ গহ্বর
অন্ধকার আরও ঘন হয়--লজ্জাতুর মুখ উচ্ছ্বাসে ম্রিয়মাণ
আনন্দ সংক্ষিপ্ত অবসাদ
বিছানা ও চাদর ভেসে যাচ্ছে ছায়া উপচ্ছায়ার তন্দ্রায়িত জোছনা।

(৬)

আয়না

আয়না আছে--সূর্য তার প্রতিঘাত জ্যোৎস্নাধার
সমস্ত পথ ঘাট মাঠ জীবন ও
যন্ত্রণা ধরা আছে বুকের ভিতর।

তোমার গল্প,স্মৃতি,স্বপ্ন ও কান্নার ছবি
গোধূলির বাঁকে পথ,তারপর মাঠ-ময়লায়
কমলা রঙ মাখা সেই বেণুধর
কালান্তর মানুষী ছায়াবৃক্ষ
বাঁশি কখন বেজেছে জানে না তা মন আলোক
বিম্বে তুমি,আমি ভালবাসা,বিরহ রাখা শব্দ অবিধান।

আপনার মতামত জানান