দাঁড়ি

শৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়



(১)
“আজ হতে তুমি হৃদয়ের রাজা...”
শ্রোতার আসনে আমি, একধারে।
আমিই তোমার সকল সত্তা জুড়ে, এ ভাবনায়
এত বড় ফাঁক ছিল!

মায়াবী বৈশাখী সন্ধ্যা
আস্তিনের নীচের তাসগুলো
এতটা আড়ালে রেখে ছিল!

বুঝিনি তো কই...

(২)
সেভাবে ভাবলে
তুমিও কিছু বলনি
আমিও কিছু বলিনি।

বলাবলি সব ভেসে গেছে
আমাদের স্বকীয় শ্রাবণজলে।

(৩)
ছাতিমের চড়া গন্ধ নিয়ে
পুজো
এসেছিল, চলে গেছে।

একাদশীর সকালে দুর্গাতলার পবন ঢাকী
বাড়ি বাড়ি ঘুরে
পয়সা- চাল- ডাল
শাড়ি- জামা- পায়জামা
এইসব
জড়ো করছিল,
বিকেলের ট্রেন ধরবে ও।

তোমার কথা জিগেস করছিল।
কী বলি?

পঞ্চাশ টাকা দিয়েছি।
আর কী দিই…

(৪)
এখনও উনোনে রান্না হয়?
কে করে?
সন্ধে হলেই ধোঁয়ায় ধোঁয়া
পাতলা হতেই চায় না।
আর সন্ধেও
কী তাড়াতাড়ি নেমে আসে।

রাতের দিকে হালকা শিশির
এ সময় তোমার গলাব্যথা হত খুব।
সাবধানে থেকো।

ভালোই করেছ।
কোথাও তো দাঁড়ি টানতেই হয়, না?

(৫)
জাঁকিয়ে পড়েছে ঠাণ্ডাটা, তবে
লেপটা আর বার করিনি।
অতো বড়, ধোক্কড়...
আমার কাঁথাতেই কুলিয়ে যায়।

অনু বউদি পিঠে দিয়ে গেল
একটু আগে। বলছিল, ‘পার্বণ তো,
তুমি ভালোবাসো’।

হাসলাম।

(৬)
“গুনগুন ফাগুন শেষ হলে...”
ফিরে আসার সম্ভাবনা
আর নেই।
মৌমাছি- প্রজাপতি, অথবা
চড়াই- শালিখের বিনিময়ে
নতুন একটা সিম নিয়ে নিলাম...


আপনার মতামত জানান