কবিতাগুচ্ছ

পৃথা বন্দ্যোপাধ্যায়


(১)
একটু একটু জ্বলছে আগুন,
পাতার ফাঁকে ফাঁকে --
পোড়া শরীরের ধ্বংসস্তূপে
উঁকি দিয়ে যায়
বাবরের পোড়ামুখ,
শেরশাহ ও তার বীরত্বগাথা,
এবং...

মীরজাফর ।


(২)

শব্দগুলো ছেঁড়াতার, কোন শান্তি দেয়না। ধুপ ও আগুনে জ্বলে,
সুগন্ধ কর্পূর - আগুন দাবানল। বিচিত্র দিনযাপন,আরও কত
তাপ চাই সোনার নিখাদে? সব কি কবিতা হতে হয়?

স্মৃতি চেটে দু-অক্ষর বিষণ্ণতা,
তুমি এবার তফাৎ যাও --

(৩)
গায়ে কিছু শ্যাওলা ফুটেছে
ফুলের সাজ...
মনের মাঝে শীতল জমি,
হাত বাড়ায়...
এই সবুজে বিজ-বিজ
লালিত চিঁন্তা...অলসতা।
এই ভিজেতে ক্রমে
বট্‌, বিটপী...
শেকড়ে স্থির হক অস্থির,
হোক আত্মপরিচয়।

(৪)

উটকো তুমি অশান্তির গরমিলে,
চাকার ঘূর্ণি
শৈবালে আকৃষ্ট --
লুব্ধ চেতনার পরাকাষ্ঠা প্রমাণিত
নটরাজ নৃত্যে;
সিন্ধুঘোটকের দুরন্ত দৌড়,
ধরণী আলোড়িত
সতীর ব্যাবচ্ছেদে --

(৫)

ইতিহাস খোঁজে সভ্যতার শুরুয়াৎ
বীরত্বগাথা --
শুধু অন্দরের কিটেরাই জানে
নষ্ট হওয়া পাণ্ডুলিপি।



(৬)

উত্তরন, আরো...আরো...
শৃঙ্গ বহুদূর --
অক্লান্তি, অনমনীয় দায়;
একনাগাড়ে যতদুর অতিক্রম্য,
সবটাই হোক ঊর্ধ্বমুখে --
চূড়ার হাতছানি নিরন্তর...

এরপরের নিয়ম খুবই সাধারণ, সাবলীল।
অকুলান স্থান পর্বতচূড়ায় --
দীর্ঘ উতরাই পথ শেষ;

শ্রান্ত মনে
মাধ্যাকর্ষণ হাত বাড়ায় --

(৭)

পৃথিবী বদলায় প্রতি প্রদক্ষিণে
মানচিত্র-ও তারই হাত ধরে --





(৮)

বিস্ময় ছিল কিছু,
কিছু বা পর্যবেক্ষন;
দৃষ্টির মাপে ছিল বুঝে নেবার তাগিদ;
পলকহীন
মুহূর্তকটা --
শুধুই কি তাকানো, না দেখা?
বুঝতে অবকাশ ছিলনা
চকিত ছোবলে সম্বিত ফেরে,

নাহ্‌, --
সেই চোখে কোন বিষ ছিলনা।

(৯)

চোখের তারায় পাখির উড়ান,
দানার খোঁজে তবু নামতেই হয়

মধ্যবিত্ত উঠোনে --

(১০)

জলেই জীবন।
-- চোখের জলে? --
(১১)

মাটির প্রতিমা..ভাসান দেখলাম কতো!
ঝকমকি সব স্রোতের চুমকি,
গলামাটি, খড়কাঠ...
শ্যাওলাদলে...
এককালে এর চক্ষুদানে
কতো দিব্যদৃষ্টি আশায়,
ভরেছিলো বুক --

অদৃষ্ট সে সকল আজ
গলিত কাঠামোতে...

(১২)

কেউ কেউ একা হবে বারবার,
ভিড়গুলো ভারি হবে বলেই --

আপনার মতামত জানান