কবিতাগুচ্ছ

জিয়াবুল ইবন



প্রসব বেদনা

চা-এর কাপটা হাতে ধরিয়ে দিয়ে ফিরছো কিচেনে
সেখানে তোমার গুরুত্বপূর্ণ প্রাকটিক্যাল ক্লাশ

এদিকে
প্রসব বেদনায় কাতর একটি চুমুর যন্ত্রণা, একা আমাকে সইতেই হলো
চা চিবোতে চিবোতে


রেসিপি

ঝালমুড়িওয়ালার কাছে আর যেতে হয় না
খরচা করে খেতে হয় না
কৌটো উপুড় করা
সেনপাড়া মোড়ের ঝালমুড়ি

ইদানিং
তুমি বিনাপারিশ্রমিকেই
আমাকে রেঁধে দিচ্ছো ঝাল সম্পর্কের
যতো ঝাল ঝাল রেসিপি


হাইফেন

সলতেটা জ্বেলে রাখলে একাই
বললামÑ জানালার খিলটা খুলে দিই
একটু রিলাক্স পাবে

তুমি চাঁদকে সতিন ভাবলে
বিছানায় জ্বলে উঠলে
       খনিজ গহিন গরম


সজনেফুল

সজনেগাছের সাথে অনেকের অনেক রকম সম্পর্ক রয়েছে
যেমন
ডালের সাথে
ডাটার
চিরন্তন রন্ধন

সজনেফুলের ছোপালো
মায়া
আমাদের আঙিনায় বটেশ্বর-ওয়ারীর ছায়ার সমান





এ জার্নি বাই পোয়েম

চাষাড়া রেলস্টেশনে হাইওয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে

গাঢ় লিকারে চা খেতে খেতে প্রেরণা
মোবাইল নম্বর ঘেঁটে প্রতিটি দরজার কড়া নেড়েও
কোন সাড়াশব্দ পেল না

রিংটোন ও ভায়াব্রেটিং এলার্ট অফ করে ঘুমোচ্ছে
ভরদুপুর

কবিতা কোথায় থাকে সবাই তা জানলেও
এ জার্নি বাই পোয়েম রচনাটি কেহ-ই বুঝতে আগ্রহী
নয়


হিজলের কান্না

এখন শ্রাবণ, এ মাসে হিজলেরা সারারাত কাঁদে
বৃষ্টিপতনের শব্দের কাছে সে কান্না পরাজিত হয়েছে বলে আমরা তার
ইতিহাস জানি না

এ মাসে
হিজলের ডানাগুলো কেটে পুকুরে মাছের আধার তৈরি হবে


প্রাণবিক টান

হিজলবিচির অভিমানে একবর্ষা বিরহে ডোবা ডাহুক
এসেছি ফেলে তারে

পোনাটাকির ঝাঁকে
মা মাছের সজাগ সাহচর্যের মতো কচুরিছাওয়া দীর্ঘ পুকুর আর
জংলার বেতকাঁটায় বিঁধে থাকে প্রাণবিক টান

নয়াজল জোয়ারে ভেসে যাওয়া গাছের গুঁড়ি
স্নানঘাটের সম্পর্ক ছিঁড়ে এসেছি ফেলে তার অভিমানের খাল
উপচানো ভাসান


চারণকবি দূর্গাপ্রসাদ দে

চারণকবি দূর্গাপ্রসাদ দেÕর ভিটেটা আজো খালি পড়ে আছে কিনা জানি না
তার বেহাত পাণ্ডুলিপিটা কি এসেছে ফিরে?
নাকি বেদখলই হলো?

কজন কাব্যচাষা চাষ-বাস করে খায় আর দেখেশুনে রাখে কবির ভিটেটা
তাদের মাথার ওপর কালীতলা বটগাছ
আছে মাটিময় তার ঢালাই ছায়ার বাঞ্ছা
সে ছায়ায় শরীর জুড়ায় সাতভাই পাখি আর সাতটি ডানার দুপুর


পাথরকুচি

কবি সফি সরকারকে মনে পড়ে...

একটি গাছ। গাছটি পাথরকুচি
একটি বাগান। ফুল আঁকা। ক’জনই বা বুঝতো ফুলের ভাষা?

গাছটি তবুও ক্রসফায়ারে গেলো
মিডিয়া বললো, সে বড়ো কুখ্যাত ছিলো

গুলিবিদ্ধ দেহটিকে নিয়ে পাতারা তো শেষ পর্যন্ত মাটিতেই ঢলে পড়লো
রক্ত ভেজা বিশাল সে মাটি জন্ম দিলো কচিকাঁচা সবুজ চারা

গাছটি যে পাথরকুচি—
ক্রসফায়ারের আগে কে-ই বা জানতো তা


একটি সমুজ্জ্বল সূর্যের দিকে

এমুহূর্তে নিজেকে পুরোপুরি উন্মোচন করে দিলে বন্ধুর প্রজাপতিটাই মুছে যেতে পারে

এখন তো সন্ধ্যামাত্র। মিনারে মঙ্গলালোর কর্মসূচি...

একটি রাত্রির যা যা উপকরণ লাগে, তা সব ডাউনলোড দিচ্ছি

রাত্রিকে ধুম বৃষ্টিতে ভিজিয়ে একটি সমুজ্জ্বল সূর্যের দিকে উস্কে দেয়াই আমাদের কাজ

আপনার মতামত জানান