বাপ কা বেটা

দীপঙ্কর বেরা


বাবা মহীতোষবাবু যখন ঠাকুরদাকে খেতে দিত না এবং ঝগড়াঝাটি করত মনোজ তখন
ছোট । পাড়ার লোক বলাবলি করত - ছেলে মনোজ কিন্তু সব দেখছে । বড় হয়ে মনোজও
তাই করবে ।
ঠাকুরদার সম্পত্তি বাবা ঠিক বাগিয়ে নিল । কাকু পিসিদের একটুও দিল না ।
মনোজ আর একটু বড় হয়ে তাও দেখল । পাড়ার লোক বলল - মনোজের হাতে ওকেও তো
কষ্ট পেতে হবে ।
নানান প্যাঁচে ফেলে সম্পত্তি ফাঁকি দিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে মহীতোষবাবু
নিজের পাকা চাকরি , মনোজ পড়াশুনায় ভাল নয় বলে ভাল ব্যবসা , এমন কি মোটা
টাকা দিয়ে মেয়েদের বিয়েও দেন । আরো কিছু সম্পত্তিও করে ফেলে । কিছু
মনোজের নামে করে দেয় । যাতে মনোজ বা অন্য কেউ কিছু না বলতে পারে ।
মনোজের প্রতিপত্তিতে পাড়ার লোক বলল - এই না হলে ছেলে আর আদর্শ বাবা ।
ইতিমধ্যে ঠাকুরদা ঠাকুরমা মারা গেল । কাকু , পিসিদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ ।
কোন যোগাযোগ নেই । আর মনোজ মহীতোষবাবুর এত খেয়াল রাখে যে যা দেখে পাড়ার
লোক বলে - আহা! বাবা অন্ত প্রাণ । কি সুন্দর সংসার । বাবা বাবার কর্তব্য
করেছে , ছেলে ছেলের কর্তব্য করছে ।
হিসাব মেলাবার জন্য কাউকে তখন পাওয়া গেল না।

আপনার মতামত জানান