রাম ও রাবণ

বামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়


প্রমথবাবু আমাদের পাড়ার প্রাচীন বাসিন্দা। প্রায় তিনশো বছরের বাস তাঁদের এই পাড়ায়। ওঁদের বাড়ির বয়স দুশো পেরিয়েছে কয়েক বছর হল। অনেকখানি জায়গা নিয়ে তাঁদের বাড়িটি, ভেতরে বাগানটাগানও ছিল একসময়। দোল দুর্গোৎসব হতে আমরাও দেখেছি বেশ কয়েকবছর আগে পর্যন্ত। এখন লোকলস্কর তথা মা লক্ষীর চঞ্চলা স্বভাবের জন্য সে সব আর হয়ে ওঠে না। তবে প্রতি একাদশীতে বাড়িতে রামনাম হয়। পাড়ার বয়স্ক লোকজন আসেন। ঘণ্টা দেড়েক ধরে তাঁদের ঘর থেকে ভেসে আসে হারমোনিয়াম আর খঞ্জনিসহ কীর্তনের শব্দ। সব শেষে শাঁখের ধ্বনি শুনে বুঝে যাই অনুষ্ঠান শেষ হল। প্রমথবাবু আমাকে বলেই ঐ রামের জন্যই তিনি বেঁচে বর্তে আছেন মনের সুখে। একদিন তাঁর যে স্বপ্নে হনুমান দর্শনও হয়েছিল সে কথাও মনে মনে জানিয়েছিলেন আমাকে। ঈশ্বরপ্রেম তাঁকে সবসময় হাসিখুশি রাখে।
সেদিন দেখলাম উনি খুব গম্ভীর। কারণ জিজ্ঞাসা করায় বললেন; পাড়ার দাদারা এসেছিল। বলে গেছে এ পাড়ায় অন্য পার্টির স্থান নেই। হয় শ্রীরামকে ডাকা এবং বাড়িতে গেরুয়াধারীদের আসা বন্ধ করুন নয় বাড়ি বেঁচে দিন আমাদের। কাছেপিঠে মল টল নেই, এখানে বানালে পাড়ার লোকের সুবিধে হবে। এসব কথা বলে উনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা, অযোধ্যাপতি কি রাজনীতি করতেন বলে জানা আছে আপনার? আমি হেসে বললাম তখন করতেন না বটে কিন্তু এখন করছেন। আর তিনি ফিরে এসেছেন বলে রাবণরাজাও সদলবলে হাজির।

আপনার মতামত জানান