পুরুষ

সরোজ দরবার



ক’দিন ধরেই টুয়া সমানে বলে চলেছে কথাটা- ‘জামাকাপড়গুলো নিয়ে এসে তুলে রেখেছ। একবার পরে দেখে নাও। ফিটিংসে গণ্ডগোল হলে এখনও চেঞ্জ করা যাবে। এরপর আর হবে না।’
কথাটা ঠিক। এই পুজোর সময় যেরকম তাড়াহুড়োয় কাজ হয়, তাতে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তবে রসিকদার উপর সুতনুর অগাধ ভরসা। এই পাড়ায় অনেকগুলো টেলারিং শপ আছে। সুতনুর কিন্তু রসিকদার দোকানই পছন্দ। রসিকদার হাতের কাজ যেমন, তেমনই খাসা দোকানের নাম। জোড়াতালি। যে দোকানে ছিটকাপড় থেকে এত ভালো ভালো পোশাক তৈরি হয়, তার নাম যে কেন জোড়াতালি? সুতনু একবার জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এরকম নাম দেওয়ার সময় তোমার মনে হয়নি, দোকান চলবে কিনা?’ রসিকদা হেসে পালটা প্রশ্ন করেছিল, ‘বলো কী হে, এই করে গোটা দেশ চলছে, আর আমার দোকান চলবে না?’ সুতনু বুঝেছিল, লোকটা শুধু নামে নয়, আদতেই রসিক।
এই জোড়াতালি থেকেই একপ্রস্থ জামাকাপড় এসেছে। এমনিতে জিন্স-টিন্সগুলো শপিং মল থেকেই কেনে। কিন্তু অফিসের জামাকাপড়গুলো নিয়ে সুতনুর এক সমস্যা। বারকয়েক এ-ব্র্যান্ড ও-ব্র্যান্ডের জামা কিনে দেখেছে, কোনওটার মিডিয়ামে কাঁধ ঠিক হয় তো হাতার ঝুলে টানাটানি পড়ে, আবার লার্জ সাইজ নিলে স্রেফ পাঞ্জাবি হয়ে যায়। দেখেশুনে টুয়ার প্রেসক্রিপশনে আবার সে রসিকের জোড়াতালিতে ফিরে গেছে। পুজোর আগে এটা ওটার সঙ্গে কয়েকটা ফর্মালও বানিয়ে নিয়েছে।
রোববার সকালে জলখাবার পর্ব চুকতে টুয়া আবার কথাটা মনে করিয়ে দিল।কথা কানে না নিলে পরে যে পস্তাতে হবে সে সাবধানবাণীও শুনিয়ে দিল। অগত্যা সুতনু নড়েচড়ে বসল। ওয়ার্ডরোব থেকে জোড়াতালির প্যাকেটটা বের করল। তিনটে ফর্ম্যাল জামা প্যান্ট । জামাগুলো গায়ে গলিয়ে দেখল সুতনু । না কোনও ভুলচুক করেনি রসিকদা। কাঁধ, হাতা সব ঠিকঠাক। এই ভাঁজ খুলে ফেললে সেগুলোকে আগের মতো করা আর সুতনুর কম্মো নয়। সে চেঁচিয়ে বলল, ‘জামাগুলো সব ঠিক আছে।’ টুয়া ইঙ্গিত বুঝে রান্নাঘর থেকে স্ট্রেট উত্তর দিল, ‘বিছানায় রাখো। আমি ভাঁজ করে রেখে দেব।’
এবার একখানা প্যান্ট গলিয়ে দেখল সুতনু। একটু যেন পরতে অস্বস্তি হচ্ছে। কীরকম বারমুডার মতো হুস করে গলে গেল। এহে, কোমরটা তো বেশ বড় হয়ে গেছে। বেল্টেও ম্যানেজ হবে কী না কে জানে! কিন্তু এ কী কাণ্ড! প্যান্টের চেন কই! ভালো করে দেখল সুতনু। নাহ, চেন নেই। চেনের জায়গাটা নিপুণভাবে সেলাই করা। বাইরেটা দেখতে একরকম, ভিতর থেকে সেলাই। বাকিদুটো তুলে পরীক্ষা করে দেখল সে। একই ব্যাপার। এরকম ভুল করল রসিকদা!
টুয়া দেখে বলল, ‘এখনই যাও। ভীমরতি হয়েছে নির্ঘাৎ। কতবার বলি, নতুন দোকানগুলো হয়েছে, ওখান থেকে করাও। না তোমার সেই ঢ্যারঢ্যারেই পছন্দ।’
সুতনু আমতা আমতা করে বলল, ‘এরকম তো কখনও হয়নি।’
টুয়া রাগে গজগজ করে বলতে থাকল, ‘এত দামী ছিটগুলো। সব না নষ্ট হয়ে যায়।’
সত্যি সব না নষ্ট হয়ে যায়। প্যাকেটটা হাতে নিয়ে সুতনু পা বাড়াল জোড়াতালির দিকে।
২)
জোড়াতালির সামনে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে। সকলেই সুতনুর চেনামুখ। কাছাকাছি পাড়াতেই থাকে। তাকে দেখে মজুমদারদা এগিয়ে এল, বলল, ‘তোমারও কি একই কেস?’
সুতনুর প্রশ্ন প্রশ্ন মুখ দেখে আবার বলল, ‘চেন নেই তো?’
সুতনু ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল।
মজুমদারদা বলল, ‘এতজনের প্যান্টে একই ভুল কী করে হয় বলতো? ভাগ্যিস আজকে চেক করলাম। না হলে কী বিপত্তিতেই পড়তাম বলো দেখি।’
তাদের কথার মধ্যেই রাহুল এল এদিকে। ইয়াং ছেলে। চোখেমুখে একরাশ বিরক্তি। বলল, ‘রসিকদার এ কী কান্ড বলুন তো। ভুল হতেই পারে। কিন্তু এখন বলছে, আপনারা মেকিংয়ের পয়সা ফেরত নিয়ে যান। কিন্তু চেন আমি লাগাবো না।’
মজুমদারদা এবার উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘মানেটা কী? চলতো দেখি।’
কিন্তু কারও কোনও কথাতেই টলল না রসিকদা। তার একটাই কথা, পয়সা ফেরত নিন, কিন্তু চেন লাগাবো না।
চেঁচামেচি করেও কোন লাভ হল না। আশেপাশের অন্যান্য দোকান থেকে দু’একজন কৌতূহলে এগিয়ে এসেছিল। সকলেই হাসাহাসি করল। কেউ বলল, মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কেউ বলল, দোকান চালাবে কী করে।
সুতনু একটু অবাকই হল। রসিকদাকে দেখে কিন্তু মনে হল না, ভুল করে এসব করছে। এতদিন ধরে রসিকদাকে চেনে। দোকান বাজারে সক্কলে মাঝবয়সী লোকটাকে ‘রসিকদা’ বলেই ডাকে। যেন ‘দা’ সমেতই তার নাম। ভালো লোক। আড্ডাবাজ। টিপিক্যাল ঘটি। মোহনবাগানের ম্যাচ থাকলে বিকেলে দোকান খুলতে দেরী করে। দোকানে একবার যদি ঘটি বাঙাল নিয়ে তর্ক জমে তো, উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু ওটুকুই। নির্বিবাদী মানুষ। আজ অবধি কোনও ঝামেলায় তাকে জড়িয়ে পড়তে দেখেনি সুতনু। এ পাড়ায় তার টেলারিং শপই সবচে পুরনো। কোনওদিন কোনও ভুল করেনি। টুকটাক এদিক ওদিক হলে জিভ কেটে বলত, এহেহে, এত ভালো ইনিংসটায় লোফা ক্যাচ তুলে ফেললুম। শুনে সুতনু হেসে বলত, এই ক্রিকেট, ফুটবল আর সেলাই নিয়েই দিব্যি কাটিয়ে দিচ্ছ যাহোক।
সেই রসিকদার হঠাৎ আজ হল কী!
৩)
সুতনুর থেকে সবকিছু শুনে রাগে অগ্নিশর্মা টুয়া। সুতনুর জামাকাপড়ের দায়িত্বটা তারই। দোকান ঘুরে ঘুরে সে ছিটগুলো কেনে। বেশিরভাগই সুতনুর পছন্দ হয়। কোনটা একটু মনোমতো না হলে, আবার বদলে নিয়ে আসে। সাধের কেনাকাটার এমন বরবাদী দেখে সে স্বভাবতই রেগে গেছে। বলল, ‘তুমি বিকেলেই ওই নতুন দোকানে যাও। দেখো ঠিক করে দিতে পারে কি না।’
সে না হয় যাবে। কিন্তু রসিকদার এরকম ব্যবহার ভাবিয়ে তুলল সুতনুকে। সত্যিই কি লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেল? যদ্দূর জানে রসিকদার এক মেয়ে। বোধহয় কলেজে পড়ে। সে কী কিছু করে বসল, যাতে রসিকদা খুব বিব্রত। কিন্তু তাতে ভুল হতে পারে, তাই বলে সবগুলোয়। অথবা ভুল যদি হয়ও, কিন্তু সেগুলো ঠিক করে দিতেই বা চাইছে না কেন? রসিকদা কি তবে মানসিক অসুখে পড়ল?
স্নান-খাওয়া করতে করতেই এরকম সাত পাঁচ ভাবনা পেয়ে বসল সুতনুকে। যে রসিকদাকে নিয়ে তার ভাবনার কথাই নেই, বরং রেগে যাওয়ার কথা, সেই রসিকদাই ভাবিয়ে তুলল সুতনুকে। সে ঠিক করল বিকেলে একবার যাবে জোড়াতালিতে। কেন এরকম করল রসিকদা?
৪)
ভাতঘুমের রেশ কাটতে কাটতে বিকেল গড়িয়ে গেল।টুয়া চা দিয়ে বলল, ‘সন্ধেয় ওগুলো নিয়ে বেরোও। আমি কিন্তু তোমার প্যান্টের চেন পরাতে দোকানে দোকানে ঘুরতে পারব না।’
সন্ধে নামার মুখে জোড়াতালির সামনে পৌঁছল সুতনু। দেখল দোকানের সাটার অর্ধেক নামানো। মানে রসিকদা ভিতরেই আছে। বাইরে থেকে নাম ধরে ডাকল সে। ডাক শুনে মাথা গলিয়ে বেরিয়ে এল রসিকদা। সুতনুর হাতের প্যাকেটটা দেখে বলল, ‘আমি কিন্তু পাল্টাবো না। পয়সা ফেরত নেবে?’
সুতনু বলল, ‘আরে না না। তোমার সঙ্গে একটু কথা ছিল।’
রসিকদা ভিতরে আসতে বলল। মাথা গলিয়ে রসিকদার সঙ্গে ভিতরে ঢুকল অতনু। চারিদিকে ছড়ানো ছেটানো হরেক কাপড়ের টুকরো। তার দিকে একটা টুল এগিয়ে দিয়ে রসিকদা বলল, ‘সকালে খুব চেঁচামেচি হল তো। মনটা ভালো নেই বুঝলে।’
সুতনু কীভাবে কথাটা শুরু করবে বুঝতে পারছিল না। রসিকদার কথায় ধরতাইটা পেয়ে গেল। বলল, ‘আচ্ছা রসিকদা ব্যাপারটা কী বলতো? হঠাৎ সব প্যান্টগুলোয় চেন লাগালে না কেন?’
রসিকদা উত্তর দিল, ঘেন্নায়। সুতনু বিস্মিত হল। প্রশ্ন করল, ঘেন্না, কীসের ঘেন্না?
রসিকদা বলল, ‘বলছি। চা খাবে তো? ফ্লাস্কে আছে। তোমার বৌদির ওই কড়া চা খেয়ে খেয়ে দোকানের চা আর খেতে ইচ্ছে করে না। তাই ফ্লাস্কে করে নিয়ে আসি। চা ছাড়া আবার চলেও না।’
সুতনুর সম্মতি পেয়ে একটা প্ল্যাস্টিকের কাপে চা ঢেলে তার দিকে এগিয়ে দিল, নিজেও নিল। সুতনু একটা চুমুক দিয়েই বুঝল, কেন দোকানের চা রসিকদার মুখে রোচে না। আয়েস করে আর একটা চুমুক দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ বলো, কী বলবে বলছিলে।’
রসিকদা নিজের কাপে ছোট ছোট গোটাকয় চুমুক দিয়ে বলল, ‘তোমাকে বলেই বলছি। সকালে দেখলাম তুমিই ঝামেলা করোনি, বিকেলে আবার এসেছ। তুমি বোধহয় জানো আমাদের স্টেশনের ধারে ক’মাস আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল। ওই যে কাজের মাসিটাকে কারা যেন...’
সুতনুর মনে পড়ল। বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ এই তো সেদিনের ঘটনা। রাজ্যের যা অবস্থা। রোজই তো কোথাও না কোথাও ঘটছে। রোজই প্রায় মিছিল বেরোচ্ছে। খালি মোমবাতি বিক্রি হয়, আর কোনও সুরাহা হয় না।’
রসিকদা ফাঁকা চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বলল, ‘আমিও ওরকম দুটো মিছিলে হেঁটেছিলাম। একটা এখনকার পার্টির। পিছনে পিছনে হাঁটছিলুম। আরও অনেকে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে শুনলুম একটা পার্টির ছেলে বলছে, শালা চেন খোলার আর জায়গা পেলি না। আমাদের দাদার এলাকাতেই করতে হল। না আম পেলাম না আঁটি, এখন শালা দাদার ইমেজ রক্ষা করতে মাইল মাইল হাঁটি। কীরকম যেন লাগল জানো, সিগারেট কেনার ছল করে মিছিল থেকে বেরিয়ে গেলুম।
সুতনু বলল, ‘আজকাল তো আর কেউ আদর্শ টাদর্শ মানে না। পার্টি মানে কামাইয়ের জায়গা। তো তারপর কী হল?’
রসিক বলতে থাকে, ‘তারপর পশ্চিমপাড়ার ওদিকে আবার এরকম একটা ঘটনা ঘটল। এবার যাকে বলে ভদ্রলোকের বাড়িতে। বাচ্চা মেয়ে, স্কুলে পড়ে। মা চাকরী করতে যেত, মেয়েটা দুপুরবেলায় প্রায়ই প্রতিবেশীর বাড়িতে যেত। সেখানেই সেদিন...। আবার মিছিল বেরোল ওদের পাড়ায়। এবার আগের পার্টির। দোকান বন্ধ রেখে গেলুম। এবার আমি সামনে সামনে হাঁটছিলুম। নেতাদের পরে পরেই। হঠাৎ শুনলুম, একজন আধলা নেতা বলছে, পুরুষমানুষগুলো যত প্যান্টের চেন খুলবে ততো আমাদের পার্টির লাভ। প্রথমে মিছিল, তারপর প্রতিবাদের ঠেলায় ওদের পার্টি অফিসটাই জ্বালিয়ে দেব। ক্ষমতা...খুব পাখা গজিয়েছে... শালা দেখ এবার কেমন লাগে। মাথাটা আমার সেদিন কেমন ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল জানো। নিজের বাড়িতেও তো দু’দুজন মহিলা আছে।’
রসিকদার কথা শুনতে শুনতে সুতনু হতবাক। বলল, ‘তারপর?’
রসিকদা আবার বলতে শুরু করল, তবু সবাই যেমন ভুলে যায়, সেরকম ভুলে যাচ্ছিলাম। যদ্দিন নিজের ঘরে আগুন না লাগে তদ্দিন কী আর টনক নড়ে। আমিও ভুলে গিয়ে বাড়ি-দোকান করছি। জানোই তো, পুজোর সময় কেমন কাজের চাপ থাকে। আমি আবার দুপুরে খেয়েদেয়ে ঘুমোই না। টিভিতে বই দেখি। গোটাটা তো আর দেখা হয় না। ওই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। হঠাৎ একটা চ্যানেলে থমকে গেলুম। দেখাচ্ছিল, একটা বর বৌয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। বরটা এটা ওটা কথা বলে বউটাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছিল। তারপর কিছুতেই না পেরে গায়ের জোরে মেয়েটাকে বিছানায় ফেলে দিল। তারপরেই দেখাল, ছেলেটা প্যান্টের চেন খুলছে। ঘেন্না ধরে গেল বুঝলে। আচ্ছা পুরুষ মানে কি শুধু এই প্যান্টের চেন? প্যান্টের চেন খুলে সে পুরুষত্ব জাহির করে। সে প্যান্টের চেন খুললে, পার্টিগুলো ফয়দা তোলে। এদিকে দিনের পর দিন একটা করে ঘটনা ঘটছে। মেয়েরা মরছে। আর পুরুষরা, গোটা পুরুষজাতটা, যারা নোংরামি করছে না তারাও, যেন ওই প্যান্টের চেনে আটকে আছে। একদিন হয়তো খবরের কাগজে লেখা হবে, এই সময়টায় পুরুষ বলতে বোঝাত প্যান্টের চেন। বাবু আমলের পুরুষ বললেই যেমন আমরা ভাবি, কোঁচা গুটিয়ে বাইজি বাড়ি যাচ্ছে। যেন ওই সময়টায় ভালো পুরুষ কেউ ছিল না। ছিল হয়তো, তবু নোংরামিটাই লেখা আছে। এটাও থাকবে। আমিও তো পুরুষ, বলো ঘেন্না করবে না? সেদিনই ভাবলাম, হাতে যে কটা কাজ আছে, একটারও চেন রাখব না।’
শুনতে শুনতে গলা শুকিয়ে গিয়েছিল সুতনুর। গলাটা পরিষ্কার নিয়ে সে বলল, ‘কিন্তু এতে কি কিছু বদলাবে রসিকদা? শুধু তোমার ব্যবসাটাই মার খাবে। এরপর আর কেউ তোমার দোকান থেকে কিছু করাবে?’
রসিকদা হাসি হাসি মুখে উত্তর দিল, ‘বদলাবে কি না কী করে বলব? আমি বিপ্লবী, সন্ত্রাসী, নেতা, মন্ত্রী, নকশাল, বুদ্ধিজীবী কিছুই না। জানোই তো, আমি ছাপোষা মানুষ। আমি শুধু আমার ভিউটা সেলাই করে দিলাম।’
সুতনু কোনও কথা বলতে পারল না। রসিকদাও একটুক্ষণ চুপ। তারপর বলল, ‘পয়সা তোমাদের মার যাবে না বুঝলে। সকালে তো সবাই পাগল ছাগল ভেবে চলে গেল। বিকেলে বসে বসে এই অ্যাড্রেস গুলো খুঁজছিলুম। সকলেই তো এ-পাড়ার, ও-পাড়ার।ভাবছি কাল গিয়ে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফেরত দিয়ে আসব।’
৫)
অর্ধেক নামানো সাটার থেকে বেরিয়ে এল সুতনু। একা। বাইরে হোর্ডিংয়ে জ্বলজ্বল করছে দোকানের নাম। জোড়াতালি। হাতের প্যাকেটটার দিকে তাকাল সুতনু। নাহ, এসব শোনার পর টুয়া বোধহয় নতুন ছিট কিনতে আপত্তি করবে না। রসিকদাকে সে বলে এসেছে, তার পয়সা ফেরত চাই না। আর এই চেনবিহীন প্যান্টগুলোও সে তুলে রেখে দেবে।
বাড়ির দিকে পা বাড়াল সে। দোকানের ভিতরে বসে তখন অনেকগুলো পুরুষমানুষের ঠিকানা খুঁজে চলেছে রসিকদা। সুতনু জানে না, আদৌ সে ঠিকানা রসিকদা পাবে কি না। যেমনটা সে পেয়েছে, একটু আগেই।

আপনার মতামত জানান