কর্ণেন শ্রুত্যুয়া

সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়


জলদ মেঘের ঘনঘটা দেখে মর্ত্যবাসী অপেক্ষারত। বৃষ্টির জল ধুতে আরম্ভ করেছে সব মলিনতা, আর কদিন পরেই মায়ের আগমন হবে। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর রৌদ্র ছায়ার খেলায় বাজার হাট সব সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে এবার নাকি বাজারে 'সারদা কান্ডের'- জন্য ব্যবসায়ীরা ব্যঙ্ক লোন পেতে হিমশিম খেয়েছে...যাই হোক পূজো হয়, পূজো হচ্ছে, পূজো হবে আগামীতেও যতই 'কান্ড-কারখানা'-চলুক না কেন।
এবারও পূজোয় মা আসার সব সাজগোজ শুরু হয়ে গেছে। কারণ সময় তো বেশি নেই ।
মায়ের কাছে নিমন্ত্রণ পত্র এখনও গিয়ে পৌঁছায় নি। বারংবার মহাদেব বলেন ষাঁড়ে চড়ে ফুল ফ্যামিলি মর্ত্যে যেতেই পারে, কিন্তু যাঁড়ের স্ট্যাটাস আর গোঁয়ার-গোঁয়ার এটিচ্যুড এক্কেবারে না পসন্দ কারুর। তাই যে বছর যেমন মেলে-হাতি, ঘোড়ায় তারপর দিল্লি বা মুম্বাই থেকে ফ্লাইট। কোনো বছর কৈলাশের পথে প্রবল বর্ষায় জল জমলে নৌকা ভরসা। পুওর ড্রেনেজ সিস্টেমটা ঠিক করার গা নেই মিউনিসিপ্যালিটির। শব্দ দূষণ নিয়ণ্ত্রণের দিকে ভ্রুক্ষেপ করে না মোটেই। কোড কমপ্ল্যায়েন্সের ব্যবস্থা করতে পারে তো এত নকল করছে বিদেশীদের আর এই সব ভাল- ভাল জিনিসগুলোর বেলায় চোখে ঠুলি দিয়ে আছে কেন কে জানে?
প্রায় একমাসের মতন বাপের বাড়ি থাকতে হবে, শুধু তাই নয়- অতলান্তিক সমুদ্রের ইস-পার আবার উস-পার করতে হবে পু্রো পরিবার-কে নিয়ে। সাথে স্টলার আর স্যুটকেস তো আছেই। এই এতগুলো দিনের জন্য জামা কাপড় আবার তার সাথে সবার জন্য আশীর্বাদ নিয়ে যেতে হবে। যদিও জামা কাপড়ের অভাব হয় না, তাও সবই গুছিয়ে নিয়ে যান তিনি। ওই সব জামা কাপড় পরার তো অভ্যেস নেই কারোর।
মায়ের-তো সিকিউরিটি চেক হয় না, কিন্তু মা উমা ছেলে-বৌ, জামাই, মেয়েদের নিয়ে বড্ড টেনশনে আছেন এ বছর।
কৈ্লাশে যেমন মায়ের বাপের বাড়িতে আসার তোড়জোড় চলছে, তেমনি মর্ত্যে -ও চারিদিকে সাজ সাজ রব, নাচ-গানের প্র্যাক্টিস, কোথায় মা-এর পার্টি দেওয়া হবে তার জন্য হল বুক করা, কেমন ভাবে সাজানো হবে, কি কি খাবার হবে, গেট টুগেদার-এ কত চাঁদা দিতে হবে, কোন কোন আর্টিস্ট আনা হবে। কম্পিটিশনে জিততে হবে তার জন্য দৌড় ঝাঁপ। রাগ অভিমান-এর পালা শুরু--এই সব আর কি। কাজেই বেশ একটা হুলুসস্থুলুস ব্যাপার স্যাপার।
তারপর আবার কার্তিক গোঁ ধরেছে সে নাকি এবার মামার বাড়ি যাবে না। কারণ, সবাই দুবার করে গেলেও কত আদর পায় আর সে যখন একা যায়, কেউ তত গা মাখে না। তাঁকে মর্ত্যের ইয়ং ছেলেরা পাত্তাই দেয় না একেবারেই, আর শুধু তা কেন... বড়দের মধ্যেই তো হাত গোণা যায়। কেউ নাকি জানেই না কখন কার্তিক পূজো হয়। কাজেই নিজেকে বড্ড অপমানিত লাগে। যেন হ্যাংলার মতন মামার বাড়ি যাওয়া। তার একদম ভালো লাগে না আজকাল আর মর্ত্যে। মেয়েরাও সব কেমন করে তাকায়। তাও কার্ত্তিক রোজ পেপারে কোন কোন কোম্পানী কী এ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে তার খবর রাখছে।
মহিষাসুর-ও মাঝে মা -উমাকে বলেছিল যে, মর্ত্যে যেতে সে খুব ভয় পাচ্ছে টেরোরিস্ট-দের জন্য। মা অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে 'হ্যাঁ' করিয়েছেন। মহিষাসুর ছাড়া তো মা এক পাও নড়েন না। সে যে মায়ের বডিগার্ড। খালি সিংহ এখনও পর্য্যন্ত টুঁ শব্দ করে নি।
এদিকে মায়ের একদম ইচ্ছে নয় কার্তিক-কে একা রেখে যাওয়া, সবাই যখন যাচ্ছে তখন সে একা থাকবে এটা কি কোন মা সহ্য করতে পারেন- না পেরেছেন কোনদিন। মা এই চারদিন কেন- মর্ত্যে দেশ বিদেশ ঘুরে কৈলাশে ফিরে আসতে প্রায় একমাসের মতন সময় লেগে যায়। এই কৈলাশেও তো সবাই কেমন বদলে গেছে। বলা যায় না কার্তিক-কে একলা পেয়ে যদি ওর আইবুড়ো নামটার বদনাম করে দেয়। এই সময় বাপের বাড়িতে তিনি নিজের মনে থাকেন, একটু নিজেকে 'আহ্লাদি' ভাবেন। তা না ছেলে এখানে থাকলে একটা চিন্তা থাকে বই কি, আর বাপের বাড়ির লোকেরাই বা কি বলবে? সবাই কি শিখবে, আর নয় বলবে কার্তিকের হিংসা আর অহংকার খুব। তা মা হয়ে কি করে সহ্য করেন, এইজন্য বেশ একটু ঝামেলায় পরেছেন।
লক্ষ্মী আর সরস্বতী তো রাতদিন কম্পিুটারে বসে আছেন কি কি নতুন ফ্যাসান উঠছে সেইসব খুঁটিয়ে দেখছেন। ওঁরা যখন যাবেন, তখন যেন কোন অসুবিধায় না পড়েন, তাই একটু টেনশনে আছেন। অবশ্য মা উমা সেই আদ্যিকালের বেনারসী শাড়ি পড়াটাকেই বাঙ্গালীর ঐতিহ্য মনে করেন এবং মেয়েরা তাই পড়বে~ সে যতই ফ্যাসান উঠুক না কেন।
মা উমা বোঝেন না যে, মেয়েদের এই পুরানো স্টাইলের শাড়ি পড়াটাকে আজকাল-কার মেয়ে- বৌরা পাত্তা দেয় না। ওরা অজ্ঞলি দিয়েই পেছন ফিরে নিজেদের ফটো তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর লক্ষ্মী সরস্ব্তী-কে খালি বয়স্কা-দের সাথে থাকতে হয়।
দুই বোনে রেগুলার ডায়েট, এরোবিকস, জুম্বা, যোগ ব্যায়াম করছেন। কম্পিউটার-এ দেখেছেন তাঁরা। মর্ত্যের মেয়েরা ব্যায়াম করে, ফেসিয়াল, ম্যানিকিওর, পেডিকিওর করে নাকি স্বর্গ্যের দেবীদের হার মানিয়ে দিচ্ছে। তাঁদের জন্য এই চারদিন যেন বেস্ট বিউটি পার্লার -এর ব্যবস্থা রাখা হয়। শাড়ি আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল-এর কাছ থেকে আসলেই ভাল। সাথে কসমেটিক্স জুয়েলারীও থাকবে ম্যাচকরা, আর কেয়া শেঠের অ্যারোমাথেরাপি শোনা যাচ্ছে এখন বেস্ট। কাজেই তাকেই যেন এখন থেকে বুক করে রাখা হয়।
গনেশ কার্তিক গেলেও যাতে কোন অসুবিধায় না পড়েন তার জন্য দুই বোনে সব রকম খোঁজ করছেন। ছেলেরাও নাকি সব আজকাল ফেসিয়াল করছে, বডি বিল্ড তো করছেই। কার্তিক-কে বললে শুনবেন তাও, কিন্তু গনেশ কারুর কথা শুনবেন না। বাহনগুলোকেও একটু স্টাইল শেখানো উচিৎ, তাই দুই বোনে বেশ একটা ঘোরের মধ্যে আছেন। আজকাল নিজেদের বড্ড সেকেলে লাগে মর্ত্যে গিয়ে!!!!! ওঁনাদের বাহনরা হাঁস আর পেঁচা খালি চুপচাপ সব দেখে যাচ্ছেন।
কলা বৌ সব সময় মাথা নীচু করে থাকেন, তাই তিনিও ননদ-দের বলেছেন ওঁনার ঘাড়ে বড্ড ব্যথা হয়। তিনি রিলিফ পাবার জন্য ওয়েনমেন্ট, স্প্রে সবই ব্যবহার করছেন। কোনো রিলিফ নেই,ভিরিঙ্গি কাকু ভয় দেখিয়েছে স্পন্ড্যালাইটিসে গলায় বকলস্ অবধি পরতে হ'তে পারে!!!- তিনিও এবার মাথায় ঘোমটা দেবেন না, এত বছর ধরে দিয়ে দেখেছেন তো- কই কেউ তো আজকাল দেয় না ঘোমটা। ননদদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শাশুড়িমা-কে জানানোর জন্য। ঘোমটা কি মাথায় সিঁদূরও তো দেখতে পাওয়া যায় না। আরোও বলেছেন... প্রতিবার তিনি কেন সাধারণ তাঁতের লাল পাড় শাড়ি বা হলুদ শাড়ি লাল পাড় পান শাশুড়িমার বাপের বাড়ী থেকে। তিনি কি ফ্যালনা নাকি? আবার সেখানে সবার সামনে পুকুর বা নদীতে ডোবানো এসব মোটেই তিনি ভালোবাসেন না। সবাই পালটে যাচ্ছে আর তাঁর বেলা সেই পুরোনো নিয়ম। এটা বুঝি বাড়াবাড়ি নয় যে, শাশুড়িমার ছেলের বৌ সবার সামনে স্নান করবে তাও আবার সবাই পুরুষ মানুষ। তাই গোঁ ধরেছেন এবার গেলে তাঁকে যেন 'সনা বাথ' করানো হয়। তিনিও কাঁই কুঁই শুরু করেছেন স্বামী দেবতার কাছে। এও বলেছেন যে, তিনি ঘোমটার আড়ালে থাকেন কিন্তু সব দেখেন, মেয়েরা শুধু শুধু তাঁর(গনেশের)পেটে হাত বোলায়। আর তিনি হেসে গড়িয়ে পরেন, এ সব তিনি মোটেই সহ্য করবেন না এবার থেকে।
আর গণেশ তো মামার বাড়ি যাবার জন্য পা বাড়িয়েই আছেন, সবার আগে উনিই তো যা্ন। ফিরে এসেই তাড়া লাগানঃ “~তাড়াতাড়ি চলো না 'মা' -মামার বাড়ি।” তাই গনেশ কোন রেঁস্তোরায় নতুন মেনু,তার পেপার কাটিং রাখছেন.....
বেশ সবাই ওঁনার পেটে হাত বোলায়, উনি তখন খুব খুশি হন। আর গণ্ডা গণ্ডা লাড্ডু, পেঁড়া বেশ খাওয়া যায়, সবার সাথে গেলে অবশ্য আদরটা ভাগাভাগি হয়ে যায় যদিও। তবুও ঠিক আছে, উমা মার কাছে বকুনি খেতে হয় না ডায়েটের জন্য।
এদিকে ইঁদুরবাবাজী আবার চিঁ চিঁ করছে...মর্ত্যে এখন ছোলা তো পায় না বেশি, নকুলদানাও খুব কম পায়, যত রাজ্যের ডায়েট মিস্টি...আর এ কদিন একটু এদিক ওদিক ছোঁচ ছোঁচ ছোঁচ করবে তার জো থাকে না.... সেই একজায়গায় বসে থাকো।
কার্তিকের ময়ুরও তাই... মর্ত্যে যাবার নামে কেমন যেন মন মরা হয়ে আছে। পেখম তুলে নাচ এখন থেকেই বন্ধ।
নারায়ন লক্ষ্মীর হাবভাব দেখে বলেছেন উনিও যেতে পারেন এবার শাশুড়ির সাথে। বলা যায় না মর্ত্যের ছেলেরা নাকি এখন দেবতাদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। যদি ওখানে লক্ষী কারুর প্রেমে পড়ে যান, তাহলে তাঁর কি উপায় হবে? আবার ধর্ষণ ও হচ্ছে...অবশ্য এ নিয়ে উমা মাও একটু চিন্তায় আছেন। যদিও সাথে মহিষাসুর যাচ্ছে।
জামাই শুদ্ধ বাপের বাড়ি যাওয়া যে কি বিভ্রান্তকর, তা সব শাশুড়িরাই বোঝেন। কি করবেন কিছুই তাঁর মাথায় আসছে না। রাতের ঘুম কবে থেকে বন্ধ। পরমপতিদেবতাকে সবে বলতে যাচ্ছিলেন সব কথা......... তিনি তো শুধু মুচকি হাসছেন উমা-কে দেখে।
এটাও একটা চিন্তা। কিছুই শোনেন না তিনি, বুঝেও বোঝেন না।!!!!!
এইসব নানান চিন্তার মধ্যে ~~ হঠাৎ করে মহাদেবের দুই চ্যালা নন্দী আর ভৃঙ্গি এসে সব ব্যাপারটা ভন্ডুল করে দিল।
দেবতাদের আগেই এসে তারা মা উমা -কে বললঃ “~নারদ নাকি তাক ধিনা ধিন, ধিন তাক তাক করে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে আর সবাইকে বলছে যে, এবার সে নাকি শিব মামা আর উমামামির সাথে পূজোর সময় মর্ত্যে যাবে।''
শিব ঠাকুর তো এক ধমকে তাদের চুপ করিয়ে দিলেন। বললেনঃ
~“কোথায় শুনেছিস? তোরা তো নেশায় থাকিস সব সময়? নেশার ঘোরে কি শুনতে কি শোনে আর এসে বকবকম করে- লোকে বলে শুনেছিঃ
~ধান বুনতে শিবের গীত -আর
তোরা দুই মাতাল...
নেশা করতে চু কিতকিত~ ”

তখন কাঁচুমাচু মুখ নিয়ে হাতজোড় করে তারা বলেঃ~ “ দেবতাদের কাছে নাকি নারদ বলেছে দেবাদিদেব শিব নাকি তার মামা!! তাই নিয়ে দেবতাদের গূঢতম আলোচনা করতে দেখে আমরা দুজনেই আগে এসে আপনাকে জানাচ্ছি, প্রভু! আমাদের কোন দোষ নেই, তখনও আমরা নেশা করিনি- মিথ্যা বলব না~সবে করতে যাচ্ছিলাম।”
~মামা মামি? কারা মামা মামি?
শিব ঠাকুর আর উমা মায়ের তো চক্ষু চড়কগাছ। পরমপতি শিব ঠাকুর তো কখনও জানান নি যে, তাঁর বোন আছে আর নারদ তাঁর ছেলে? একটা সামান্য পুটকে ছোঁড়া সে নাকি দেবাদিদেব শিবের ভাগীনা? সারাদিন 'নারায়ন- নারায়ন' করে তবে একটু ওঁনার কৃপা পেয়েছে, তাই বলে সে ব্যাটা কখন হল মহাদেবের বোনের ছেলে?
উমা মায়ের ঠোঁট উলটে গেছে। রাগে দুঃখে তিনি সেই ঘর ছেড়ে চলে গেলেন সুসজ্জিত কদম কাননে-
-ওটাই ওনার গোঁসা ঘর।
শিব ঠাকুরের তো মাথার প্রেসার একেবারে তুঙ্গে। ঘন ঘন ঘামছেন। তিনি তো ভাবছেন- সে কি তাঁর আবার বোন কোথা থেকে এল? বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি, তার ওপর আবার আদরের উমা মুখ ভার করে চলে গেছেন একা একা কদম কাননে।
কিন্তু তিনি আগে ঠিক করলেন, এই ব্যাটা নারদের একটা দফারফা হওয়া দরকার। তারপর না হ্য় উমা -কে মানানো যাবে, একটু আদর-সোহাগেই তার মান ভঞ্জন করা যায়।
এদিকে দেবতারা সব নাকি অবাক, শিবের আবার বোন আছে নাকি~~~~ যে আরেকটি ভগবান সৃষ্টি হয়ে গেল, আর তাঁরা বিন্দু বিসর্গ জানতে পারলেন না!!!
মিটিং ডেকে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে এলেন যে, সবাই মিলে শিবের কাছে গিয়ে সোজাসুজি জিগেস করবেন।
যাই হোক, নারদ শিবের নাম করে নিজের পরিচয় দেওয়ায় ক্রুদ্ধ দেবতারা একদিন সবাই মিলে দেবাদিদেব শিব-কে জিগেস করলেনঃ
~কোথায় আপনি দেবাদিদেব মহাদেব শিব, আমাদের সবার বস, আর কোথায় নারদ, সে বেটা-নাকি বলে বেড়ায় আপনারা মামা-ভাগনে!!!!!!!
নতজানু হয়ে দেবতারা বললেনঃ “Sir, Please clarify it. We are anxious to hear the correct answer.”
তখন শিব ঠাকুর মুচকি হেসে মাথার সাপ নাচিয়ে বললেন যেঃ ~“ ওহ! এই ব্যাপার। তাহলে শোনো কি হয়েছে---আসলে একদিন একজন জিগেস করেছিল যে, নারদ শিব-তত্ত্বের ভাগী কি না? নারদ বোধহয় আশেপাশে ছিল, সর্ব ঘটে ঘটী তো ব্যাটা!!!!!
আমি বলেছিলামঃ “~নারদ আমার ভাগী -না। আর সে তো ধরে নিল যে, আমার বোনের ছেলে ভাগীনা, আর তখন থেকেই মনে হয় সে তার একতারায় সুর তুলে বাজিয়ে বাজিয়ে ঢেঁড়া পেটাচ্ছে যে, আমি নাকি ওর মামা। কাজ কম্ম নেই তো তার।!!”
যাই হোক, কথা বোঝার ক্ষেত্রে এরকম হয়ে থাকে, এটা কোন ব্যাপার না। তোমরা চিন্তা কোরো না...যাও যে যার কাজে লেগে পড়ো।
এবার যা্ই আবার ওদিকে একজন গোঁসা ঘরে ঢুকে আছেন, ওঁনার বাপের বাড়ি যাওয়া না তো, সবার চিন্তা। এই ওঁনার সাথে একমাস মর্ত্যে থাকা যে কি দুঃসহ বেদনাকর তা যে ভুক্তভুগী সেই জানে। আর সাথে না গেলেও তো মহা মুশকিল। একদন্ড তো ছেড়ে থাকা যায় না তাকে।
আর হতচ্ছাড়া পাজী নারদটা হচ্ছে সবচেয়ে বজ্জাত আর শয়তান। শুধু শুধু একটা ঝামেলা পাকানো তো নিত্য নৈমিত্তিক কাজ...বেশ মনের সুখে বসে বসে তোমাদের মায়ের প্ল্যান শুনছিলাম। মনে মনে বেশ ভাবছিলামঃ কোথায় একটু ওনার বাপের বাড়ীর যাওয়ার আনন্দের ছুতো ধরে একটু 'ই...য়ে” করব-তা আর করতে দিল না. বাপের বাড়ী যাবার তোড়জোড়ের জন্য বেশ কিছুদিন 'অভুক্ত” আছি। ভালো লাগে কি আর? শয়তান নারদটা। সব দিল বিগড়ে তো......।

আপনার মতামত জানান