সওদাগর বুল্টিরে মনে পরে ?

আদিনা খাতুন


সওদাগর, তুমার বুল্টিরে মনে পরে ?
তিনশামলার ঘাটে বুকের উপোর শাড়ি বাইন্দ্যা নাইতে আইত ; ঝপাৎ করি ডুব মাইরা দুই ভাগা ঝিনাইয়ের ঝার তুইলতো এক্কেবারে। যেইবার আবুল চাচাগো মহল্লায় আগুন লাইগলো চৈত মাসে , মাইয়াডার পাঞ্জায় এত দম , খাটাকুঁয়া থ্যিকা ঘন্টাভর জল ধাইলতেই আছিলো। অই ছাওয়াল ঘরে বইয়া আমসি কইরা আচার খাইয়া কইমাছের টক ক্যামনে বানায় মালপ্যুয়া করতে কত গুর দিতে আছে সেই কাম করে নাই ; ভোর রাত্তির থাইকতে আমি তারে ঘাটে নৌকা খুইলা গাঙ্গে জাল ফ্যালতে দেকচি গো - চৌধুরীগো কুশিয়ারী ক্ষ্যাতের আইলে ঘাস কাইটতো ফজরের নমাজ হইতে নাহৈতেই। ধাঙ্গা বামুন অর মাইয়াগুলারে পিটুন দিত খুব রাত্তিরে মাল খসাইতে না-পারলে ; তা একদিন বামুন খুব মাইর লাগাইল , যাতে বেশি না কান্দে মাইয়াগো মুখে আঁচিল থেইস্যা ঢুকাইল ; শ্যাষে হাপরে বাতাস লইতে যহন মরণটান দিল আঁচিল ধৈরা , রক্ত পরতে লাইগ্লো ; পাড়ার কুনো মুরুব্বি কিচ্ছু কয়নাই ; অয় যায়া বামুনের মাথা ফাটায়ছিল খালি ব্যাল দিয়া ধ্যালায় ! ছেমরির মায়ে বুল্টিরে চুলের বাট আঁকড়াইয়া ছেচরাইয়া আনছিল ; কৈসে "মাগীর কাম নাই খায়া পরের ঘরের কুন্দল সামলায় , মরস না ক্যা ?" ...
উত্তরপাড়ার ঘটকে সমন্ধ আয়্নলো। ফরিদপুরের পোলার লগে নিকার দিন মহল্লার মুরুব্বিরা ভৈসাল সারসের নাখা মাথা উঁচাই কইলো দুর্ভোগ দূর হইলো ।
আমি সেইবার গুড়ের পাইকারিতে ঘাগ খাইলাম - কুশিয়ারী চাষ বেশি বৈলা বাজার মন্দা। গোয়ালন্দে মৈমনসিঙ্গার গুড়ের ভিড়ে ছোট ব্যাপারিগো মাল কেউ কিনবে ক্যা ? শামলার ঘাটে তাই পসার বসাইলাম আশ্বিনে। একদিন খবর আইলো বুল্টি নাহি বাপের বাড়ি চইলা আইসে। ভাত রান্ধনে দেরি হওয়ানের লাইগ্যা অর ভাতরে দমাদ্দম দিসে লাকড়ি ধৈরা আর বুল্টি কান্দে নাই , দুইখান কতাও কয়নাই ; এক কাপড়ে বাপের ঘরে চইলা আইসে সোজ্জা ! বিত্তান্ত শুইনা অর বাপে কইলো সে খাওয়াইতে পারবেনা ''ফির্য়া যাও আপন ঘরে , অত প্যাটের ভাত ক্যা দিবে ?'' ; অর আম্মু গাইল পাইরতে লাইগলো ''তগ কতবড় পুন্দা হইসে একভাতারে কাম হয়না রাইতে বুঝি ? ব্যালা থাইকতে পালা কপালে দুর্ভোগ আছে তর ''
গাঙ যেইহানে বড় হইসে পদ্যার খাড়ি ধৈরা - ঘাটে একখান বটগাছ শ্যাষ ভাদরে বাজপৈরা নাইরা । মাছের নায়ে বিহানে হল্লা জুইরা দিল সেইহানে । দ্যাখতে দ্যাখতে বুড়া ছাওয়াল ম্যালা লাইগা গ্যালো। ছেমড়িটা কাপড় খুইলা আন্ধারে নাঙ্গা হইসে তারপর তার গতরে নিষ্পাপ আন্ধার মাইখ্যা সেই কাপড়েই ফাঁস দিল বটগাছে । গিরামের মানসি , কুঁকরা চামড়ার বুড়া - বগলে সবে চুল উঠা পোলাপান ভিড় কইরা ফাঁসে ঝুইল্যা থাকা নাঙ্গা ছাওয়ালডার মাই দ্যাখছে পাছা দ্যাখছে আর আন্ধারে -পাটক্ষ্যাতের মাঝে যায়া উদুম মাল খসাইসে হাত দিয়া।
জয়-বাংলা হইলো। মুজিবরের সন্মিলন। নৌকা ভইরা ঢাকা যাইতাসি। পথি বরগাং আইলো। হিদুপাড়া শুনশান; দূর মন্দিরের চাতালে লিকলিকা কুকুর ল্যাজ নাড়ে। বুল্টির ভায়ে পলাইসে অর বাপ মায়ে সবাই । বটগাছটা ডগডগা হইয়া সুন্দর মাথা নাড়ে হাওয়ায়। ছাওয়ালটারে কারুই বুইজলোনি সওদাগর ! ঝড়ের রাতিরে মেঘ ঘন হইলে মাইয়াডা কান্দে খালি !

আপনার মতামত জানান