সীমান্ত হেঁটে যায় আমাদের বুক বরাবর

নীলকণ্ঠ অরণি

অলংকরণ- তৌসিফ হক

আমাদের দেখা হলো না অনিমেষ।
সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে গেল একটা পরিযায়ী দীর্ঘশ্বাস।
কথাছিলো মৌনভূমির গায়ে লেগে থাকা অদৃশ্য দেয়াল ঠেলে,
দুজনের দেখা হবে কোলকাতার ব্যস্ত রাজপথে কিংবা
লোকারণ্য কোনও এক চা-বারে।
অথচ তোমাকে ছাড়াই অভ্যর্থনা জানালো
প্রতিবেশী শহরের গুমোট বাতাস ।
ভূগোল বলে, আমার বাস ভাটিতে তোমার উজানে;
তোমার দেশের প্রবাহিত পুণ্যবতী গঙ্গা-
আমার সীমানা পেরিয়ে হয়ে যায় প্রমত্তা পদ্মা!
তিস্তার পানি মেপে মেপে আসে এপারের কৃষকের ধানে.
আর মানচিত্র দেখায়-
তোমার সুবিশাল দেশের বগলের নিচে
কোনোমতে চেপেচুপে আছে আমার ছোট্ট ভূখণ্ড!

আমাদের মাঝখানে এইসব কিছুতো বাধা হতনা?
পাসপোর্ট -ভিসার ধকল সামলে নিয়ে যথারীতি
পূর্ব হতে পশ্চিমের পথে ছেড়েছিল মৈত্রী এক্সপ্রেস।
বিশ্বায়নের যুগে, অবসাদগ্রস্ত বিশ্ব যেখানে
প্রতি মুহূর্তে লিখে রাখে জীবনের চালচিত্র,
সেখানে তোমার আমার এই মৈত্রী
কোনও দুর্দান্ত সিনেমার স্ক্রিপ্ট হতে পারতো!
কিন্তু হলো না।

তুমি নাকি কোলকাতায় নেই?
তাই হাওড়া ছাড়িয়ে ভোরের ট্রেন ছুঁয়ে গেল ধানবাদ স্টেশন;
আমার বাসি মুখে এসে ঝাপটা দিয়ে গেল
ঝাড়খণ্ডের একঝাঁক শীতল বাতাস।
বিস্তীর্ণ পাহাড়কে পেছনে ফেলে ছুটে গেলাম আরও সম্মুখে,
আরও দূরে!
যেখানে মাইলের পর মাইল বিরান অঞ্চল
একে একে চলে যায় পাটনা-বিহার-উত্তরপ্রদ শ
তবু তোমার বুকের মধ্যপ্রদেশ মাড়িয়ে কিছুতেই আর
এগুতে পারলাম না চিবুক বরাবর
ছুঁই ছুঁই করেও ছোঁয়া হলনা তোমার জীবনের প্লাটফর্ম।

তুমি দেখা দিলেনা ক্যান অনিমেষ?
তোমার বুক জুড়ে আছে তোমার দেশ
তোমার ঐশ্বর্য!
তোমার প্রাচুর্য!
তোমার দাম্ভিকতা!
এরমাঝে ক্ষুদ্র আগন্তুক আমি যেন আরও ক্ষুদ্র হয়ে যাই
আশ্রিতের মত প্রার্থনা করি বারবার-
প্রেমিকারে না হোক শরণার্থীরে দিও ঠাঁই!
বিনিময়ে মিলেছিল সামান্য বৈদেশিক অনুদান।

তবে আর নয়!
রক্তঋণে স্বাধীন হওয়া পুণ্যভূমির শপথ
প্রাদেশিক সভ্যতা বিলীন হবে এবার ঔদার্যের গহ্বরে!
বৈভবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অহমিকা ঝেড়ে ফেলে
নেমে এসো গণমানুষের কাছে!
সতেজ মৃত্তিকার কাছে
যা কিনা নির্মল সরল সুজল
করে দেখ চাষাবাদ আমার দেশের পলল শরীরে
বুঝবে এ মাটি উর্বর-প্রাণবন্ত-প্রাঞ জল!
আমাদের শস্যক্ষেত পূর্ণ হবে সৌহার্দের ফসলে।

তাই দেখা হোক
একবার দেখা হোক?
সীমান্ত পার হয়ে একবার তুমি আসো!


আপনার মতামত জানান