আমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর...

কিঙ্কিণী বন্দ্যোপাধ্যায়




[১]
“হে দূর হইতে দূর, হে নিকটতম”


যেহেতু মরূদ্যান নেই ভুল পথ ছেড়ে এলেও
আর তীব্র রৌদ্রতাপে তোমার শৌর্যের আগুন
পুড়িয়ে দিচ্ছে নাভিত্বক
তাই হাঁটু মুড়ে বসি ছায়াপাশে।
ঠোঁটের ভাঁজে ভাঁজে ঐ যে রেখে গেছ
দহনসাক্ষর
বর্ষণ সেখানে আসেনা যে শ্রাবণশেষেও,
শুধু মেঘের স্তুপে স্তুপে জমা হয়
ফেলে আসা প্রেমের দু’এক অক্ষর
এইসব পরিত্যক্ত গিরিখাত পার হয়ে
যতই দূরে যাবে তুমি
দূরত্ব ততোই ম্লান হয়ে আসে
জেনে রেখো
এই বৃথা বন্ধনভারখানি
তবে খুলে এসো...


[২]
“যদি বারণ করো তবে গাহিব না”

নিষেধ না মেনে
ও চোখে তাকিয়েছি বলে
পুড়িয়েই দেবে ধৃষ্ট আঁখিতারা!
আর একটিমাত্রও চুম্বনের সুযোগ না দিয়ে
অচ্ছুৎ রেখে দেবে ওষ্ঠের পাপ এই!
তবে আর প্রেম দেব কেন?
আঙ্গুলের রেখায় রেখায়
তবে আর স্বাদ নেব কেন
অশ্রুর?

[৩]

“...তোমার প্রেম হতো যে মিছে”

যখন বিকেল নামে নদী
তুমি ঐ নরম মেয়েদের দিকে যাও।
ওপাড়ায় যে আধো অন্ধকার
তা আমি জানি।
আমিও তো বাতি নেভাবো বলে
জল খুঁজে চলেছি ধ্বস্ত দিঘীপথে
আর ফেলতে চাইছি অনাহূত সমস্ত বিদ্যুৎ।
কোমল অন্ধকারে বাস করে
যেসব ভাঁজহীন স্বপ্নেরা
তাদের ডানায়ও ঝলক আছে
দেখতে পাও?
ঐসব আলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে গেছে
আমার অন্ধকারের স্মৃতি
আর ততই অনির্বাণ হয়েছে
এই আত্মা এই কেশ
ভালবাসলেই হয়ে যাব নিঃশেষ...

[৪]
“যাহা কিছু আছে তুমি আছ বলে আছে”

এসো মৌন তাপ, আমার ওষ্ঠপাশে এসো
শ্বাস নাও কিছু
আর কিছু মৃদু কম্পন
জ্বরের বেলা তবে শেষ হল এইবার?
নাকি উষ্ণতার গহীনে যতই গিয়েছ তুমি
দেখেছ লাভাস্রোত,
তাপহীন হিমগিরি
যেভাবে স্পর্শ করে সমুদ্রের নাভি
তেমনি নির্বাক অচেতন
এই পৃথিবীর নাবিক শুধুই যুগ্মতা খুঁজে চলে
দূরতম সম্পর্কের তীরে
বিনিময়ে কিছু ভাঙ্গন
কিছু বা ভৈরবীর ভিড়ে
সেও হারিয়েছে নীরবতা

তার চেয়ে চলো
হাঁটি আরও কিছু বেশী পদক্ষেপ
কিংবা
ভাগ করে নেওয়া যাক
ঠোঁটে লেগে থাকা
গ্রহণের পাপের সংকেত।




অলংকরণ- তৌসিফ হক

আপনার মতামত জানান