কবিতাগুচ্ছ

মেঘ অদিতি



অপেক্ষা

ফুলের চেয়ে নরম কোনো অপেক্ষা
আর রেমাক্রীর জলে জলে বেপথু রোদ্দুর
ভাবা মাত্র ঘুমের ভেতর হেসে উঠল এক লুসিড ড্রিমার
তারপর- বহুদূরে সরে গেল আততায়ী মুখগুলো

মাথাভর্তি রোদ, ব্যক্তিগত যৌনতা অথবা
কাফেলা বিষয়ক কোনো সংলাপ ভাবতে গেলেই
আজকাল মনে পড়ে যাচ্ছে-
একটা দরজা খোলা এখনও বাকি..


শূন্য

রাতের উড়ালে অনিদ্রার কালে যারা এসেছিল -
এ নিশীথ আখ্যানে তাদের জন্য উপেক্ষার অধিক আর কিছু নেই

বিশ্বাস আর সহায় বলতে, একমাত্র হৃদয়
সেখানে দাঁড়িয়ে কেবল চেয়েছি গূঢ়তার পর্দা ছিঁড়ে দেখা দিক অগ্নিশিখা
ধ্যানবিন্দুতে তোমাকে রেখে অনিঃশেষ ডেকে গেছি- ধ্রুবতারা, ধ্রুবতারা!
বিক্ষিপ্তির চরমেও ভেবে গেছি ভ্রান্তির অবসান তুমি

অথচ সাদা ঘোড়ার খুরে খুরে নিশিগুঞ্জন আর এত বিপন্নতা...
আমার সমস্ত প্রচেষ্টা বিফলে গেল

পৃথিবীর সমান্তরাল রেখা ধরে বিষাদ বিপ্রতীপে এখন
তুমি.. জিফাইরো
আমি..সাফাইরা
শূন্য-শূন্য


নামুক অন্ধকার

কপাল বেয়ে
চোখ বেয়ে
এই যে নেমে আসছে চুমুর দহন
মনে হচ্ছে
লালিমার অধিক আজ অগ্নিসত্তা
বেরিয়ে আসছে খাঁচার বাঘ
মাথার ভেতর ফুঁসে উঠছে স্ফুলিঙ্গ

অতঃপর
বিস্ফোরিত হবার মুহূর্তে
ক্ষীণ আলোয় চোখ দুটো ভেসে গেল যেই
সমস্ত শরীর ভেঙে বেরিয়ে এল সেই উন্মাদ

আলো নেভাও
আলো নেভাও
আহ .. দেখিও না মায়া
আমি তোমাকেও ঘৃণা করতে শিখেছি প্রভু

প্রতিবার আর্তনাদ, অনেক তো হলো..
এবার ফুরাক খেলা এমন ঘৃণার



মায়া

মুখের মিছিলে জাগে ছায়ার মমতা..
বাতাবির বনে বনে
অফুরান স্মৃতি নিয়ে রূপায়িত রুবাইয়ের দেশে
তোমার ডুবন্ত মুখ ছুঁতে চেয়ে যেভাবে হারিয়েছি স্পর্শ প্রতিবার
উন্মুখ আত্মজ আজ

ব্যথার প্রহরে বুঝি সেভাবেই খোঁজে আমাকে


ছায়া নেই

উদ্যান ছেড়ে দূরে উড়ে গেছে পাখি

প্রগাঢ় চুম্বন ভুলে পরিমোক্ষ চাইতেই মিলাল শৈশব আনন্দধাম
ঘুমের ভেতর থেকে থেকে জলদগ্নি
ডান অলিন্দ বাম অলিন্দ ঘুরে ফিরে যেদিকেই যাই, ছায়া নেই
কাঁপতে কাঁপতে কতবার যে ডেকে উঠলাম বাবা, বাবা..

ও বাবা, তুমি বলো না..
কত ক্রোশ পেরোলে তবে হারানো বৃক্ষেরা হেসে বুকে টেনে নেয়?




আপনার মতামত জানান