ট্রেনের কামরায়

রানা মুখোপাধ্যায়



বসন্ত কাহার বেতারে বাতেলা দেয়। আপনি যে কোন দিন ওনাকে সাতটা তেইশের ব্যারাকপুর লোকালে দেখতে পাবেন। বেতারের গলার জোর ট্রেনকে মাতোয়ারা করে রাখে। প্রত্যেক দিন একটা আলোচনা তিনি শুরু করবেনই, তা যে যতই বিরক্ত হোক না কেন। কাহারদার ছোটখাটো চেহারা। আলবোর্ট কাটা চুল। হাফহাতা গেঞ্জি আর মুখে একটা সরু হাসি। অথচ তাকে হাসি বলে ভাবলে ভুল হয়ে যাবে। তপাদার একদিন অফিস নিয়ে বাতেলা দিচ্ছিল। নিজে কিভাবে সেকশন অফিসার হয়েছে, কিভাবে চাটার্ড অ্যাকাউটেন্টদের মধ্যে সে স্বনামধণ্য হয়ে উঠেছে অথবা কিভাবে লোকাল মাফিয়ার কাছে শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছিল অথবা সেই বিখ্যাত ডন যাকে নিয়ে সিনেমা হয়েছে, সে কিভাবে তাকে মোটর সাইকেলের পিছনে বসিয়ে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিল ইত্যাদি, ইত্যাদি এবং ইত্যাদি। হঠাৎ একজন পাশ থেকে বলে উঠল,
থাম ত শালা বকেই চলেছে। এটা ট্রেন, বাড়ি না
তাতে কি
বাড়িতে গিয়ে বউ শালীকে গিয়ে গল্প করবি
যাঃ শালা এতো অবাক কাণ্ড
এইসব কথা যখন হচ্ছে তখন বসন্ত কাহার মুখ বেঁকিয়ে শুনছিল। যত সব সাব স্ট্যান্ডার্ড। ট্রেনের কামরা ছাড়া মরার জায়গা পায় না। তার চোখ জানালার মধ্য দিয়ে নদীতে, কান কিন্তু ট্রেনের কামরায়। অর্থাৎ একবার সাধিলেই খাইব। বিমল ব্যাপারটা সেন্স করেই বাতাসে ছুঁড়ল বারুদ, আচ্ছা বসন্তদা, তপাদারের এই বাতেলা সম্পর্কে আপনার মতামত কি ? উত্তরে তপাদার মৃদু হেসে বললেন, শোনার কেউ আছে যে শুনবে। আজকাল শোনার লোকের বড় অভাব। পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠল, এই যেমন আপনি। বসন্ত কাহার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ততক্ষণে আর একজন শুরু করে দিয়েছে, এই শালা রেগুলার আজ ভাল লাগে না। আসলে ট্রেন দাঁড়িয়ে গেছে বাগবাজারে। একজন ছোটখাটো চেহারার সদাবিরক্ত লোক বিড়বিড় করে বলে উঠল, এই শুয়োরের বাচ্চাদের জন্য আমার একটা ভাইটাল কাজ নষ্ট হয়ে গেল। ব্যস, শুরু হয়ে গেল চাপানউতোর –


সে তো প্রত্যেক দিনই হচ্ছে
হবে না মাথায় বসে আছে একটা বৃদ্ধ কুকুর, জায়গাও ছাড়বে না, কাজও করবে না
আপনি অফিসে খুব কাজ করেন, না ?
একদিন যাবেন, দেখে আসবেন প্রাইভেট কোম্পানীতে কাজ কাকে বলে
আপনাকে একটা রিওয়ার্ড দেওয়া উচিৎ
কেন?
হাজার হোক একটা কাজের লোক আপনি
কি বলতে চান?
আপনি কত জানেন কিন্তু কোনো অহঙ্কার নেই
তাতে তোমার কি শালা বোকা-----
ওদিক থেকে কাহারদা, এটা পাব্লিক প্লেস
পাব্লিক প্লেস তো তোর কি রে শালা বুড়ো শুয়োর
মুখ সামলে কথা বলবি, দেখেছিস বাইসেপটা
বুড়ো কুকুর বাইসেপ দেখাচ্ছে, চল শালা সোদপুরে নাম
বাগবাজারেই নাম দেখি তোর গায়ে কত জোর
সবাই কাহারদার কোচ্র ধরে পিছনে টানতে থাকে, কাহারদাও ছোটাবেলার মত, আমায় ছেড়ে দে মুখে বলপ্রয়োগ করে যায়। তখন একজন কানে কানে বলে, কি করছেন আপনি না একজন বুদ্ধিজীবী ? সঙ্গে সঙ্গে কাহারদা বসে পড়ে গম্ভীর হয়ে যান। যে কথাটা তার কানে কানে বলল তার দিকে তাকিয়ে কাহারদা চমকে উঠলেন। এত চেনা অথচ চিনতে পারছেন না। লোকটার মাথায় একরাশ কাল চুল। কালো রংটা সরিংটা সরিয়ে দিতেই, সুকুমার না !
সুকুমার কচি সাজছো
আরে দাদা আবার বিয়ে করছি কিনা
আবার
এটা দু নম্বর
তাজ্জব ব্যাপার
কেন আমি তো কুড়ি বছরের ছুঁড়িকে বিয়ে করিনি
আজকাল কি গেলাসের রোগ ধরেছে নাকি?
সে তো প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চলেছে
এখন একটু মাত্রা ছাড়া হয়ে গেল বল
কাহারদা, একটু দুষ্টুমি করতে কার না ইচ্ছে করে বলত?
দেখ, দুষ্টুমি করতে গিয়ে মার না খেয়ে বস
যত সৃষ্টিশীল লোক, তুমি দেখবে কাহারদা দুষ্টুমিতে ভরা
তাহলে চালিয়ে যাও
তারপর কাহারদা নামবে কোথায়?
কেন দমদম
তারপর
সাড়ে আটটার ডানকুনি লোকাল
খাওয়া দাওয়া?
দুটো ফুটিয়ে নিই
কি রান্না কর?
চাল ডান তরিতরকারি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিই

সেই সুকুমার দমদমে নেমে গেল। ট্রেনে খুব একটা ভিড় হয় না এখানে। কিন্তু ছাড়তে দেরি হয় কিছুটা। এ সবই যাত্রীদের ফিলিং। অই এক নম্বর দিয়ে কল্যানী লোকালটা বেরিয়ে গেল। খিস্তিবাজ লোকটা এবার রেলমন্ত্রীকে খিস্তি দিতে আরম্ভ করল। কাহারদা আর সমালোচনায় যোগ দিলেন না। এখন তার পয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট হোচ্ছে সুকুমার। ওয়ান অ্যান্ড ওনলি সুকুমার। সামনের সিটে বসে থাকা কমবয়সী যাত্রীটি জিঞাসা করলেন,
আপনি চেনেন সুকুমারদাকে?
চিনি মানে--- আমি যতদিন ইয়ু বি আইয়ের কাস্টমার
কত দিন?
তা প্রায়, ধরুন ত্রিশ বছর
সে তো অনেক দিন
অনেক দিন বলে অনেক দিন
সুকুমারদাকে কেমন মনে হয়?
কেমন আবার খারাপ নয়
আচ্ছা, আপনার মনে হয় না, সুকুমারদার সব কথা বানানো?
সুকুমারের সঙ্গে আমার আলাপ বহুদিনের
কি রকম?
সুকুমার আমার বাড়িতে গেছে বহুবার
তারপর?
আমার বিয়েতে বরযাত্রীও গিয়েছিল
বলেন কি?
একাই সারারাত বাসর মাতিয়ে রেখেছিল
বলেন কি!
হ্যাঁ, কিন্তু লোকটা নিজের সম্পর্কে ভুলভাল বকে
কি রকম?
যেমন ধরুন, একদিন বলল সিয়াখালার কাছে দেশের বাড়িতে থাকে তো...
দাঁড়ান, দাঁড়ান, আমাকে একদিন বলল ডানকুনি...
আপনাকে বলেছে ডানকুনির স্টেশনের কাছে একটা কুঁড়ে ঘরে থাকে, তাই তো?
একদম ঠিক!
তারপর শুনুন, একদিন বেমালুম বলে গেল, ব্যারাকপুরে একটা পুরনো বাড়ি পেয়েছে। একটা কোম্পানীর বাড়ি, ওকে নাকি থাকতে দিয়েছে
এটা, অবশ্য আমাকে বলে নি
আপনাকে কি বলেছে?
আমাকে বলেছে, এখন ডানলপে থাকছে, একটা ফিল্ম করছে
নাম বলেছে?
নাম বলে নি, শুধু বলেছে বাজারে রিলিজ করলে বলবে
আমাকে বলেছে, ফ্লিমটা নাকি প্রাইজও পাবে
ইন্টারেস্টিং,
ইন্টারেস্টিং, বলে ইন্টারেস্টিং!
আচ্ছা, ওর পড়াশুনো কতদূর?
বলে তো ফিজিক্স নিয়ে পড়েছে গ্র্যেজুয়েশনে
তাই নাকি
হ্যাঁ, ম্যাথসে এম এসসি তারপরে ব্যাঙ্কিং
এত কোয়ালিটি নিয়ে একটা লোক ব্যাঙ্কে পড়ে আছে
আমরাও তাই বলাবলি করি। তবে
তবে কি
লোকটা কিন্তু খুব ভাল মনের
সেকি আর আমি জানিনা
জানেন আজ পর্যন্ত কেউ লোকটাকে কেউ খারাপ বলে নি
কিন্তু এরকম বানিয়ে কথা বলে কেন?
তাতো বলতে পারবো না, তবে...
তবে কি?
মনে হয়, এটাই হবি

এর পরেই শুরু হল কাহারদার ব্যখ্যা ও বিবরন, বলাবাহুল্য সুকুমার সম্পর্কিত। তিনি এরকম কত লোক দেখেছেন। তাদের কি পরিণতি হয়েছে। আসলে এসব লোকের ভবিষ্যত কি হয় অথবা কি হতে পারে এদের অদূর ভবিষ্যতে। সেই কারনে এদের এক্ষুণি সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে যাওয়া উচিৎ। মনস্তত্বে এ ধরনের লোকেদের সম্পর্কে কি বলা হয়ে থাকে। কিভাবে এদের চিকিৎসা করা হয়। কি ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এই করতে করতে বেলঘরিয়ে পেরিয়ে গিয়েই গাড়ি দাঁড়িয়ে গেছে। কাহারদা তখন বেখেয়াল, মনস্তত্বের অধ্যাপকের ভূমিকায়। বহুদিনের ইচ্ছে কাহারদার, বাস্তবে তা পূর্ণ করতেই যেন কাহারদা ট্রেনের কামরায় উদগ্রীব। ঠিক তখন খিস্তিবাজ লোকটা খেঁকিয়ে উঠল,
থামেন তো মশাই, শালা গাড়ি চলছে না, বকেই চলেছে
কি হয়েছে---------কাহারদা একটু তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে তাকালে
বাড়ি গিয়ে অথবা ফাঁকা স্টেশনে নেমে
কি – কাহারদা আরও জোরে চেঁচিয়ে উঠল
ফেরিওয়ালার চোঙায় বাতেলা দেবেন --- লোকটা অসমাপ্ত কথা শেষ করে।
শুনুন, যদি কিছু শিখতে পারেন
শেখার দরকার নেই,
তাহলে কান বন্ধ করে বসে থাকুন
গাড়ি আপনার নাকি যে আপনি
মানে
শালা ডালহাউসি থেকে বকেই চলেছে
তাতে তোমার কি
আবার তুমি, তোর বাপের গাড়ি বাঞ্চত!
মুখ সামলে কথা বলবি,
বলেই কাহারদা হাত গুটিয়ে, আয় দেখি – বলতেই নাটকের প্রথম অঙ্কের পুনরাভিনয় যার প্রতিক্রিয়া অনেকটা ‘ধর ধর সখী’ গোছের। খিস্তিবাজ লোকটা ধমকের ধাক্কায় একেবারে কাহিল হয়ে রণে ভঙ্গ দিলে কাহারদা একেবারে স্তিমিত হয়ে চোখ বুঁজলেন। একটা বিমর্ষ স্বগতোক্তির মত স্বর ভেসে এল, আজকাল রাস্তাঘাটে ভদ্রলোকের সংখ্যা এত কমে যাচ্ছে। ঠিক তখন তীব্র কন্ঠে ভেসে এল, ফোর হার্টস, ফোর স্পেড, ফোর নো টার্ম--- শালা খেলতে দিবি না নাকি--- অত বাতেলা তো খেলে সর্ট নাও-- ঠিক আছে তুইই খ্যাল, আমরা দেখি। কাহারদার আবার ভাবান্তর। একটা জাত শুধু তাস খেলে জীবনটা কাটিয়ে দিল। যে অবস্থায়ই থাক না কেন, এক হাত জায়গা পেলেই চারজনে দাঁড়িয়ে যাবে। কে কি বলছে, কে কি ভাবছে এসব নিয়ে তারা পরোয়াই করে না। তাঁর সবচেয়ে আশ্চর্য লাগে, প্রচণ্ড ভীড় কামরার ভিতর যখন তারা তাস খেলে কেউ তার প্রতিবাদ করে না। এই সব ভাবতে ভাবতে তাঁর নিঃসঙ্গতার নিদ্রা এসে গেল। কিন্তু কান রইল সজাগ।

পাশ থেকে একজন হাঁফ ছাড়ার ভঙ্গিতে বলল, বাঁচা গেছে। আর একজন বলল, পাঁঠাটা ঘুমোচ্ছে। আজ তবু বকবকম বন্ধ রইল কিছুক্ষণ। এদের কথার উত্তর দিলেই জ্বালা। সত্যি বলতে কি এদের সঙ্গে কথাও বলা যায় না। তবু এদের সঙ্গে যেতে হয়। তাঁর পথ যে এই রকম লোকেদের পথের সঙ্গে মিলে যাবে এ কথা কস্মিন কালেও তিনি ভাবেন নি। কয়েকবার ভেবেছিলেন এই কামরা ছেড়ে যাবেন কিন্তু মনে হয়েছিল ওরা আবার সেখানে চলে যাবে। কিংবা হয়তো তখন ওরা আবার আর একটা কাহারদা খুঁজে নেবে। কাহারদা এটা ভালো করেই জানেন তার ভাবনা চিন্তা এদের মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। যেমন তিনি যখন বলেছিলেন যে, তিনি অমর্ত্য সেনকে নোবেল প্রাইজ উইনার ভাবতেই পারেন না, তখন কথাটা বুঝবার চেষ্টা না করে প্রবল বিদ্রুপে ফেটে পড়েছিল তারা। আসলে কেউ একটা পুরস্কার পেয়ে গেলে তারাই বিরাট হয়ে যায়। কিন্তু এ কথা তিনি ভাবলেন না যে, কাউকে নিচু করে বড় হওয়া যায় না। এ কথাটা তারাই বলেছিল। তারা বলেছিল বলেছিল বলেই হয়তো কাহারদা মানেন নি। কিন্তু টুকরো টুকরো কথা আসছিল কাহার দার কানে। কাহারদা ইদানীং বাইবেল পড়ছেন। ইংরিজিটা নড়বড়ে হলেও তিনি পড়ছেন তো। কজন পড়ে? বাইবেল পাঠোত্তর অনুভব এইরকম সাধারনোতি সাধারনের প্রতি করুণায় বদলে যায়। পৃথিবীর কত কিছু স্বাদে এরা বঞ্চির থেকে যাবে এরা। একটু করূণার ভাব। কিন্তু চসমখোর মানুষ চশমা নিয়েই বাঁচে। কাজেই তারা সেভাবেই বাঁচুক। কাহার দা তো আর পৃথিবীশুদ্ধ লোকের ইজারা নিয়ে বসে থাকতে পারেন না। ততক্ষণে খড়দা স্টেশন এসে গেছে। কারখানার পাশ দিয়ে ট্রেনটা যাচ্ছে। কি তীব্র গন্ধ বাতাসে। এত দূষণ! কেউ খেয়াল রাখে? রাখতে বয়ে গেছে। সামনে একজন হাত পাতল, বাবু সারাদিন কিছু খাই নি। কাহারদা কপালে হাত ঠেকিয়ে ভাবতে বসলেন, খড়দার লোকগুলো কোনো ভাবেই ট্রেনের লোকগুলোর চেয়ে উন্নত নয়।


কাহারদা চলুন
খড়দা এসে গেছে ……… চোখ বন্ধ করেই খুব ধীরে জিজ্ঞাসা করলেন কাহারদা। এত ধীরে যে
কেউ শুনতেও পেল না। তাই আবার প্রশ্ন,
কাহারদা ঘুমিয়ে পড়লেন নাকি ?
উত্তরে কাহারদা মৃদু হেসে চোখ খুললেন। কিন্তু ওঠার লক্ষণ দেখা গেল না।
মনে হচ্ছে আপনি নামবেন না ……… তাতেও কাহারদার মৃদু হাসি
আপনি থাকুন, আমরা যাচ্ছি………
কাহারদা নিরুত্তর। আসলে এটাই তিনি চাইছিলেন। এই অপগণ্ডের দল বাকি রাস্তাটা তাঁকে ভুলতে দেবে না ট্রেনের ঘটনাটা। তাই তারা নেমে যাবার পরে কাহারদা ধীরে সুস্থে নামলেন। কপাল গুণে ট্রেনটাও আজকে সিগন্যাল পেয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। তারপর হাঁটা লাগালেন একেবারে উল্টোদিকে। আর তাতেই পিছন থেকে, কাহারদা, বাড়ি যাবেন না। হায় কপাল, কাহারদা কপাল চাপড়ালেন। এই শুয়ারের বাচ্চারা এক দণ্ডও শান্তিতেও থাকতে দেবে না। তবু বলতেই হল,
আমার একটু বিটি রোডের দিকে কাজ আছে………
ঠিক আছে আমরা চললাম
আচ্ছা, কাল দেখা হবে………
কাহারদা হাঁপ ছাড়লেন, বাঁচা গেল। কাহারদা বিটি রোডের দিকে মিনিট পাঁচেক হেঁটে আবার ফিরতে লাগলেন। তিনি একেবারে নির্বিকল্প একা। তিনি একটু ধীরেই হাঁটছেন। যে কোনো লোক দেখলেই বুঝতে পারত হাঁটাটাও ইচ্ছাকৃত কেননা কোনো ভাবেই তিনি চাইছিলেন না যে, অই অনামুখোগুলোর সঙ্গে আবার দেখা হোক। এখন তাঁর সারা মন জুড়ে রয়েছে সুকুমার। সত্যি কথা বলতে কি ভালো বলতে যা বোঝায় সুকুমার তাই। ও সব কথা শোনে, এদের মত তাকে নিয়ে তামাসা করে না, সুযোগ পেলেই এরা যেমন ছোটো করতেও ছাড়ে না, সেরকম ভাব সুকুমারের ক্ষেত্রে একেবারে অবান্তর। সুকুমার বাগবাজারে চলে গিয়ে অসুবিধা তাঁরই হয়েছে। আজকাল তো আর সবার সঙ্গে কথা বলা যায় না। সুকুমারের পরামর্শেই বাচ্চাছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। সুবিধা হয় নি। এতো অমসৃণ কথাবার্তা এত ছোটো বয়সে ভাবা যায় না। ছোটো বয়স একদিন তাঁদেরো তো ছিল। এ বয়সে আর নতুন করে আর সম্পর্ক তৈরি হবে না। অন্তত আমার তো হবে না। তাই সুকুমারকে হারানো যাবে না। ফোনে ঠিক সুকুমারের কথার এসেন্স পাওয়া যায় না। মুখোমুখি দরকার সুকুমারকে। কালই ওকে ধরতে হবে। দরকার হলে ওর ব্যঙ্কে চলে যাবো। ওকে বলতেই হবে, এই ৭-২৩’র ব্যারাকপুর লোকালে এম এন রায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতকারের ব্যপ্যারটা। কি কি বলেছিলেন সেই মহান বিপ্লবী, সেটা আর কেউ না বুঝুক সুকুমার বুঝবে নিশ্চয়, এ বিশ্বাস কাহারদার আছে। পরিবর্তে বড়জোর সুকুমারের আর একটা আষাড়ে গল্প শুনতে হবে তাঁকে। তা এদের টিটকিরির চেয়ে অনেক ভাল।

আপনার মতামত জানান