তিনটি কবিতা

কুন্তল দেব বর্মন


১। কৃত্রিম
সানসেটে কালো কাক
বসে আছে ঠায়
আর কতক্ষণ কে জানে..

উড়ে যাবে ও কবে
এই আলোক সিন্ধু পেরিয়ে
দুর নিহত তিমিরের সন্ধানে ?


২। শৈশবগন্ধ​

শৈশবের পথে অবহেলে ছোয়ায়
ছিড়ে নেওয়া কোনো অজানা
জংলীফুল চলে যেত বহুদূর আমার সাথে

কোনো অলিগলি, নরম ঘাসের মাঠ
একদীঘি জল , সুনীল আকাশ
ছাড়িয়ে আমার স্কুলের পথে।

সেই অজানা ফুল গোলাপী-কমলা- লাল
তার কর্কশ সবুজ পাতার নাম
আমায় কেউ বলেনি কখন ও..

তবু অচেনা তাকে মুঠোভরা হাতে
পাড়ি দেওয়া পথ যেন আকাশের গায়ে
এক শঙ্খচিলের মতো মগ্ন​

সন্ধ্যের তারা ফোটা আকাশের কোলে
বেড়ার ভেতর উঠোন
সদ্য ঘুমাতে গেছে যখন

আমার সহজপাঠের পাতা উল্টে
নতুন মলাটের ঘ্রাণ
বুক ভরে নিয়েছি তখন

সেখানে আমার টেবিল পাশে
অযথা অপচ​য়ের ধোয়া নিকোটিন
ভিড় করেনা দূতবেশে

সেখানে সবুজ আছে, একরাশ পাগলামি
আছে একদল শৈশব লুকোচুরি খেলা
সোনালি বিকেল শেষে

নিরালা জলের স্রোত বয়ে যায়
আজ ও দু একটা কচুরীপানায়
প্রেমিক পাখি তার নারী কে কবিতা শোনায়
মিলিয়ে প্রেমের ছন্দ​

কচি সবুজ ঘাসের গা ছুয়ে
কিছু শুকনো পাতারা গড়াগড়ি খায়
রেখে যায় এই শরৎ হাওয়ায়
কিছুটা শৈশব গন্ধ...


৩। কবিতা নেই

এক উঠোন আকাশ জুড়ে ওদের আনাগোনা
শুধু পড়ে থাকে মৃত,
সহস্র মৃত আলো - তুলসী মঞ্চে, নিমের ডালে

থাকে দুটো চোখ... অপেক্ষারত​
কেউ আজও ঘরে ফেরে নি..

এখানে সপ্নেরা সচরাচর আসে না
সামনে খোলা এক উঠোন আকাশ
হাইড্রোজেন- হিলিয়াম গোলোকেরা

অথচ একফোটা কবিতা নেই।

আপনার মতামত জানান