ভালপাহাড়

সাঁঝবাতি

অলংকরণ- তৌসিফ হক

কানেরও একটা চোখ থাকে। শব্দ জমানো তোমার কাজ। প্রেম অপ্রেম নিন্দা হেরে যাওয়া সমস্ত শব্দ লুকিয়ে জমাও তুমি, ভাল সাঁতারু। আমার কাজ খুঁজে যাওয়া,- 'টুকরো করে কাছি/ আমি ডুবতে রাজি আছি'... হাত মাত্রই ভূল কাজ করে আর সেটা যদি আমার হয়। তেলের শিশি ভাঙ্গা থেকে অনামিকা আঁকড়ানো অব্দি সমস্ত ভূল কাজের মধ্যে আরেকটা ইচ্ছাকৃত ভূল -তোমার শব্দে ঢুকে পড়ি। পড়ি পড়ি পড়ে যাই। পাহাড় থেকে বাঞ্জি জাম্পিং,ঝপাং। লাগে না? লাগে......! লাগের পরে এত শূন্যতা কেন আসে?
আমার তোমার আর ওই যে যারা দূরে বসে আমাদের ভূল হওয়া দেখছে তাদেরও লাগে। লাগের পরে এত শুণ্যতা কেন আসে?
কতবার দেখি তোমার নিজের মধ্যে সুইসাইড করা, তুমি কি এখনও হাতে ছুরি নিয়ে ঘুরে বেরাও কখন নিজের বুকে বসাবে? আমি উচ্চতা কে পাহাড় বলে ভেবে বসলে লোকে বলে টিলা। উচ্চতা যাই হোক গে, দূর থেকে দেখা সমস্ত ভাল লাগাগুলোর নামই পাহাড়। কাছে আসলেই সকলে টিলা হয়ে যায় হয়ত। আমি পাহাড় নতুন দেখছি। ছোট থেকে বাইরে ঘুরতে যাইনি। কিকরে বুঝবো, ঠিক ভালবাসলে মানুষ কতটা পাহাড় হয়ে যায়। ভালপাহাড়। নাহ আমার দূর থেকে দ্যাখাই ভাল। এত কাছে না আসাই ভাল যাতে আমি তোমাকে পুরো দেখতেই না পাই।
আচ্ছা বলো কিসের জন্যে মাঝরাতে ডাকতে আমায় ভয় পাও? মদ খেয়ে কান্নাকাটি কর। প্রেম কর পরপুরুষদের সাথে? একই রকম টোনে, কথায়। একই রকম জাদু দেখাও...বালিকার গোল্লাছুট। পা মেপে মেপে কদ্দুর যেতে পেরেছো তুমি? পিছনে তাকিয়ে দেখো একটাও ছাপ রাখতে পারনি লছমিমন্ত পায়ের। নিজেকে আয়নায় ব্লার লাগেনা? সেটাও বোঝার ক্ষমতা হারিয়েছ দেখে কষ্ট হয়। তুমি কি জানো আমি সব দেখতে পাচ্ছি। তুমি কি বোঝোনা আমি ঘুমের ভান করে পরে থাকি। আমি আসলে পালিয়ে যাই শীতলপাটির কাছে। আমি তার পায়ের সামনে চুপ করে বসে থাকি। বাবা আমায় মায়ের পাশের শুতে দিতো না। কলকাতা থেকে ফেরার সময় কোনদিনও কিছু কিনে আনেনি। আর ভাইয়ের জন্যে খেলনা, টি শার্ট থেকে শুরু করে সরকারি চাকরী পর্যন্ত চলে আসে বাবার হাত ধরে। শীতলপাটি আমায় আচার খাওয়ায়। টকাস টকাস করে টাগড়ায় সুর তুলে টক খাই, টিকটিকির লেজ খসে পড়ে। আমি যখন জ্বরে গরম হয়ে যাই, লোহার তাতে মা ঠেলে সরিয়ে দ্যায় তুমি কি আমায় ঘুম পাড়িয়ে দাওনি? আমায় কি তুমি শেখাও নি প্রথম মাস্টরবেশন। ওষুধ খেতে খেতে পেটে চর্বি জমে আমার। মা বলে চার মাস। তুমি কি শীতলপাটি আমায় পেট থেকে সাড়া দিচ্ছো, মায়া মায়া বলে? আমার মা হবে তুমি? আমার মায়া হবে? আমার মেয়ে হবে?
মা গো, তোমায় তোমার মত মা বলে ডাকিনি কখনো। আজ পঞ্চমী। কাল থেকে দেবী আরাধনা। তুমি আমায় পাহাড় দেখা শেখাও, তুমি আমার হারানো শীৎকার ফিরিয়ে দাও, চীৎকার ফিরিয়ে দাও। আমায় মানুষ করো, অমানুষ করো। বিদ্যা দাও, জ্ঞান দাও, এনার্জি দাও। আমি লিখবো মা। তোমার হাতের রেখায় আমার অষ্টতরশতনাম লিখবো। আমার ভূলগুলো কে ঘুম করে দাও। আমার গলা নীল করে বিষ দাও। দুধ দাও দুধ...আমাকে চান করাও। তোমার আমার এই শূণ্যতাকে গ্যাসবেলুনে উড়িয়ে দাও। আমাদের টুকরোটাকরা চিরকুট ইচ্ছেমতি নিয়ে অচেনা কারুর উঠোনে উড়ে যাক। কেউ তো আসুক আমাদের পাঠক হয়ে। এই চারদেওয়ালি ভূল, এই বুকফাটা রেকর্ডিং, বলতে না পারা হাতগুলো বসে আছে তোমার পায়ের সামনে। আশীর্বাদ করো মা আমাদের সক্কলকে। ভালপাহাড় করে দাও আমাদের।

আপনার মতামত জানান