তিনটি কবিতা

শুভদীপ দত্ত চৌধুরী

অলংকরণ- তৌসিফ হক

বিভাব কবিতা (ব্যথার বন্দিশ)
কেটেছে কতকাল। ভেবেছি মনে মনে
এখনও লোকে কেন আকাশে তারা গোনে;
ভেবেছ তারা কবি? আসলে অসহায়
কখন কী যে পায়, কখন কী হারায়!

আমিও হারিয়েছি মাঠের শেষে বল,
পুরনো সখীদের চোখের নোনাজল...
সে সব পিছুটান গোপনে ঠিক বাঁচে

কখনও যারা ছিল, এখনও যারা আছে।



বর্ষাভিসার
শরীরের আঁকেবাঁকে চেয়েছিলে তুমি যাকে
সে তোমার এলোকেশী তারা।
বৃষ্টির কারুকাজে কী মধুর বাঁশি বাজে
শুনেছ কি, শ্রীরাধার পাড়া?

পথ ভাসে নদীজলে। ছলে-বলে-কৌশলে
তুমি যাও শ্রীরাধার কাছে,
এতকাল পরে তাই, অভিমান পুড়ে ছাই
যমুনায় ডিঙ্গি বাঁধা আছে।

সন্ধ্যার ঘনমেঘ, গুঁড়ি গুঁড়ি উদ্বেগ
তার কাছে আজ সব ম্লান,
মনোরম বনপথে, অপরূপ রাজরথে
অভিসারে শ্যামকল্যাণ।


“মুরলী মিশেছে মালিকায়...”
ভিক্টোরিয়া। একটি বৃষ্টির দিন ধুয়ে দিচ্ছে সদ্য প্রেমভাঙা ক্ষত। মেয়েটির ঠোঁটে মিয়ানো বিস্কুট রঙের লিপস্টিক। ছেলেটির চোখে কফি-বীনের দেশ। দেশ বলতে রাগ। রাগ বলতে পূর্বদিক। সে দিক থেকে বৃষ্টি আসছে ঝেঁপে। ভিজতে ভিজতে দুটো ঠোঁট মিলে গেল গানে। বিরস দিন, বিরল কাজ। প্রেম এলো, মহাসমারোহে।

পৃথিবীর দীর্ঘতম চুমু ঝুলন্ত উদ্যান হয়ে আছে। মেয়েটির কড়ি ও কোমলের মাঝে যে স্বর, যা তীব্রও নয়, আবার কোমলও নয়, তাতে বৃষ্টি জমছে। বিঘের পর বিঘে জুড়ে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি ভিজে যাচ্ছে। একের পর এক গান আসছে, বৃষ্টি-ভেজা জ্বরের মতো। ছাতা উড়ে গেছে উড়োচিঠির ছদ্মবেশে প্রাক্তনের কাছে।

আপনার মতামত জানান