ফাঁদ

অদিতি ভট্টাচার্য্য

অলংকরণ- তৌসিফ হক

জানিয়ে আপকা পিছলে জনম কা রাজ, কৌন থা আপকা করিব... এই একই এস এম এস মোবাইলে এসে যাচ্ছে ক’দিন ধরে। প্রথম দেখে তো রূপসা হেসেছিল মনে মনে। শুধু নিজের নাম আর ডেট অফ বার্থ দিলেই আগের জন্মের কথা বলে দেবে? এতই সহজ? জাতিস্মর কথাটা শোনা, সাক্ষাতে না দেখুক ছোটোবেলা থেকে কতবার সোনার কেল্লা সিনেমাটা তো দেখেছে। কিন্তু তাই বলে এসব অন্য লোকে বলতে পারে নাকি? ধুস, সব ফালতু! মেসেজটাকে ডিলিট করে মোবাইলটাকে আবার ব্যাগে পুরেছিল।
পুরেছিল ঠিকই, কিন্তু অস্বীকার করতে পারে না মনের মধ্যে ওটা বেশ জমিয়েই বসেছিল। মোবাইল থেকে তাকে গায়েব করেছিল রূপসা, কিন্তু মন থেকে পারে নি। অবশ্য মন থেকে এত চট করে গায়েব কেই বা কবে কী করতে পেরেছে? পারলে তো সংসারটা অনেক সহজ হত। অতএব এই ক্ষুদ্র দু লাইনের মেসেজটা রূপসার মনে রয়ে গেল এবং ধীরে ধীরে মনোরাজ্য তোলপাড় করতে লাগল। করব না করব না-র ফাঁদে ভালোভাবেই আটকা পড়ল। একবার ভাবে “এসবের কোনো মানে নেই, ভুলে যাওয়াই ভালো,” পরমুহূর্তেই ভাবে, “একবার দেখলে ক্ষতি কী? নিছকই তো মজা।”
এই নিছক মজার খাতিরে রূপসা এরকম এস এম এসের উত্তর আগেও দিয়েছে। ওই আপনার জন্ম তারিখ দিন আর জেনে নিন কেমন যাবে এ বছর বা এর মধ্যে থেকে একটা সংখ্যা বাছুন আর জানুন আপনার স্বভাবের কোনটা সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক – এরকম সব মেসেজ আর কী, যা প্রতিটা লোকের মোবাইলেই এসে যাচ্ছে অহরহ। কেউ ডিলিট করে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল থেকে, মন থেকেও, কেউ বা কী করব কী করব ভাবে, পালটা মেসেজ করা ঠিক কী ঠিক নার দাঁড়িপাল্লায় মাপামাপি করে, আবার কেউ বা রূপসার মতো নিছক মজা পাওয়ার জন্যে করেই বসে। রূপসার মতো লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এরা আছে বলেই এগুলো চলছে, নাহলে তো কবেই উঠে যেত। ব্যস্ত জীবনের চাপ যত বাড়ছে, হঠাৎ করে দ্রুতগামী হয়ে ওঠা জীবনে প্রতিদ্বন্দিতা যত বাড়ছে, আরো, আরো, আরোর প্রতি উচ্চাশা যত আকাশমুখী হচ্ছে, মানুষে মানুষে যোগাযোগ যত কমছে, সম্পর্কে যত বেনোজল ঢুকছে – মানুষ তত এসবে বিশ্বাসী হয়ে উঠছে, এগুলোকেই আঁকড়ে ধরছে।
রূপসা এতসব ভাবে না। সে চটজলদি কিছু জানার আশায় পালটা এস এম এস করে। তারপর তার উত্তর আসে, দেখে কখনো কখনো খুশী হয়, কখনো হাসে। প্রতিবারই বলে, “নাহ, এই শেষ, আর এসব করব না। খামোখা তিন টাকা করে কেটে নেয়।” কিন্তু এ তো আর ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা নয় যে সারা জীবন মানতে হবে! অতএব আবার একটা এস এম এস দেখে প্রলুব্ধ হওয়া, আবার ভাবা এ তো স্রেফ মজা, আবার প্রতিজ্ঞা করা। চলছিল এরকমই।
চলতও এইরকমই হয়তো বা যদি না এর সঙ্গে শ্রেয়াও জুড়ে যেত। শ্রেয়া রূপসার কলিগ। একই বয়সী প্রায়, একই সঙ্গে অফিসে জয়েনও করেছে। সম্পর্কটাও বন্ধুর মতোই। সেই জন্যেই শ্রেয়ার কিছুদিন ধরে মুষড়ে পড়ার কারণটা রূপসার জানা। শ্রেয়ার হাজব্যাণ্ড যেখানে কাজ করে সেখানে সম্প্রতি ছাঁটাই-এর আতঙ্ক চলছে। অনীক আবার মাঝে অসুস্থতার জন্যে অনেক দিন অফিসে যেতে পারে নি। ভালোই অসুস্থ হয়েছিল, নার্সিং হোমে ভর্তি হতে হয়েছিল। সেই জন্যে কাজের ভালোই ক্ষতি হয়েছিল। তাই অনীকের ওপর খাঁড়া নাকি ভালোই ঝুলছে, যেকোনো সময় নেমে এসে কোপ বসাতে পারে। এক সময় বরের শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাগল হচ্ছিল, এখন আবার এই চিন্তা। ছোটো একটা মেয়ে আছে, তার পড়াশোনা, ভবিষ্যত – সব মিলিয়ে বেচারী নাজেহাল হচ্ছে। অফিসে গিয়ে রূপসা দেখল শ্রেয়া তখনও আসে নি। সেদিন আর এলই না। রূপসা ওর মোবাইলে ফোন করল, কিন্তু মোবাইল সুইচড অফ। কী জানি কী হল, এরকম না বলে কয়ে ডুব! অফিসে সারাটা দিন রূপসা ছটফট করল।
বাড়িতে ফিরে অবশ্য এসব আর বিশেষ মাথায় থাকে না, অন্তত কিছুক্ষণ তো বটেই। দুটো পুঁচকে আছে না, চার বছরের ববি আর বছর আড়াই-এর গিনি। তারা স্কুলের সময়টুকু ছাড়া সারাদিন নীতামাসির হেফাজতে থাকে আর অপেক্ষা করে থাকে কখন তাদের মামমাম আসবে। রূপসা যাওয়া মাত্রই নীতামাসি সারাদিনের একগাদা অভিযোগ বলতে শুরু করবে, ববি এই করেছে, গিনি ওই করেছে ইত্যাদি প্রভৃতি। রূপসার ফ্ল্যাটের দরজার কলিং বেলটা যেন শুধু কলিং বেল নয়, এক অদৃশ্য সুইচও বটে। কলিং বেল বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অদৃশ্য সুইচেও চাপ পড়ে আর নীতামাসির অভিযোগের কলও খুলে যায়। রূপসা মাঝে মাঝে ভাবে ববি, গিনিও যদি দুষ্টুমি না করে তাহলে কারা করবে! তাই অফিস থেকে ফেরার পর অন্য কিছু মাথায় থাকে না। নীতামাসি সেদিনের মতো বিদায় নেবার সঙ্গে সঙ্গে রান্নার মাসি এসে যায়। তাকে সব কিছু বুঝিয়ে ববির হোম ওয়ার্ক নিয়ে বসতে হয়। তারপর সেদুটোকে খাইয়েদাইয়ে, গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে তবে রূপসা নিশ্বাস ফেলার সময় পায়। ভালো লাগছে না আজকাল ওরও। শুভ্র সেই যে অফিসের কাজে ব্যাঙ্গালোরে গেছে তো গেছেই। মাস তিনেকের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, হল না। আরও এক মাস বাড়ল। এখন বলছে আরো কিছুদিন লাগতে পারে। এদিকে অফিস, দুটো বাচ্ছা, সংসার সামলাতে সামলাতে রূপসার নাভিশ্বাস উঠছে।
শ্রেয়ার কাছে পরেরদিন সব শুনে তো রূপসার চোখ কপালে! শ্রেয়ার এই বর্তমান পরিস্থিতির কার্যকারণ নাকি শ্রেয়ার গত জন্মে লুকিয়ে আছে। গত জন্মের কিছু কৃত কর্মের ফলেই নাকি এই ভোগান্তি হচ্ছে।
“গত জন্ম! এসব তোকে কে বলল?” রূপসা অবাক।
“দেখ এসব কথা সবাই বিশ্বাস করে না, তাই আমি কাউকে কিছু বলি নি। তুই আমার খুব ক্লোজ তাই তোকে বলছি। আমি মোবালে একটা এস এম এস পেয়ে রেসপণ্ড করেছিলাম। এরকম অনেক এস এম এস আসে, আমার তো অনেক কিছু মিলেওছে। এটা গত জন্মের ব্যাপারে ছিল। ফিরতি উত্তর এল যে আগের জন্মের কিছু সিদ্ধান্তের জন্যে কিছু গোলমাল হয়েছিল, এই জন্যে এ জন্মে চাকরি বাকরির ব্যাপারে ভোগান্তি আছে। বোঝ কীরকম ঠিক জায়গায় পিন পয়েন্ট করেছে! একটা মোবাইল নম্বরও দেওয়া ছিল। করলাম যোগাযোগ। বললে বিশ্বাস করবি না অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কী মুশকিল রে! যাই হোক আমার অবস্থা শুনে ভদ্রলোক তাড়াতাড়িই সময় দিলেন। কাল দুপুর বারোটায় টাইম ছিল। পরশু রাতে খবর পেয়েছি, তাই অফিসে আগে জানাতে পারি নি। বাবা কী ভিড়! কত বড়ো বড়ো ডাক্তার, উকিল, বিজনেসম্যান সব লাইন দিয়েছে! আসলে সব কিছুই হেসে উড়িয়ে দেওয়ার জিনিস নয়। অনেক কিছুই সত্যি আছে,” এক নিশ্বাসে বলে থামল শ্রেয়া।
“তা কী হল গিয়ে? আগের জন্মের কথা কী জানতে পারলি? আর এসব ঝামেলা কাটবেই বা কী করে?”
“কেটে যাবে, ভদ্রলোক আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন একদম ঠিক সময়ে গেছি তাই অসুবিধে নেই। বেশী দেরি হলে মুশকিল ছিল।”
“কী করতে হবে?”
“তেমন বিশেষ কিছুই নয়। আমাকে লাল আর সোনালী এই দুটো রঙ পরতে বারণ করেছেন যতদিন না সব মিটে যাচ্ছে। আর ওকে একটা কবচ ধারণ করতে দিয়েছেন। নিজের হাতে তৈরী করে পরিয়ে দিয়েছেন।”
রূপসা লক্ষ্য করল শ্রেয়ার হাতে সোনার কিচ্ছু নেই। লোহা বাঁধানোটা অবধি খুলে ফেলেছে, একটা এমনি লোহা পড়ে আছে। টিপটা সালোয়ার কামিজের সঙ্গে ম্যাচ করে বেগুনি রঙের।
“কবচ টবচের খরচ মানে কিছু নিয়েছেন তো নিশ্চয়ই?”
“সে রকম কিছুই নয়। কবচ বাবদ মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকা নিয়েছেন। বলেছেন এই ঝামেলা মিটে গেলে আরেকটা কবচ দেবেন যেটা সারা জীবন পরে থাকতে হবে। তখন এটার বাকী টাকা আর নতুন কবচের দাম দেবেন। ওনার ফিস দু হাজার টাকা।”
“মানে সাড়ে ন’হাজার টাকা তোর কালই গেল?”
“গেল কী বলছিস! সব কিছু ঠিক হয়ে গেলে এই সাড়ে ন’হাজার তো কিছু নয় রে!” শ্রেয়ার গলায় বিস্ময়।
“এই পূর্ব জন্মের ব্যাপারটা কী করে জানলি? মানে তোর পূর্ব জন্মে কী ঘটেছিল সেটা ভদ্রলোক কী করে বললেন?” রূপসার কৌতূহল আর শেষ হয় না।
“সময় লাগে। অত অড়িঘড়ির ব্যাপার নয়। উনি শুধু আমারটাই দেখেছেন, আমিই তো জানতে চেয়েছিলাম তাই। তাছাড়া বললেন যে ওরটা দেখার কোনো নেই, এতেই হবে। দেখ ভদ্রলোক যদি লোভী হতেন তাহলে তো ওরটাও দেখে আরো দু হাজার টাকা নিতেই পারতেন। তাই না? আমরা তো ইনসিস্টই করছিলাম। প্রথম যাওয়ার পর ভদ্রলোক আমার হাত দেখলেন, দুচারটে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন, তারপর আমাকে একটা মন্ত্র জপ করতে দিলেন। এটা আসলে কনসেনট্রেশনের জন্যে। জপ শেষ হলে ওইভাবেই চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে বললেন। শুধু উনি যা জিজ্ঞেস করবেন তার উত্তর দিতে হবে। তাতেই উনি বুঝে গেলেন আগের জন্মের সব ব্যাপার। ঘরের পরিবেশটা এত সুন্দর। মৃদু আলো, মৃদু গন্ধ, একটা হালকা সুর – সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভূতি। পরে যখন উনি সব বললেন তখন মনে হল আমিও যেন আগের জন্মের অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছি।
ভদ্রলোক তো ভালো চাকরী করতেন। এ ক্ষমতা ওনার বাবার কাছ থেকে পাওয়া। একবার এক প্রতিবেশীর এত উপকার হয় যে তারপর থেকেই ওনার নাম ছড়িয়ে পড়ে। চাকরীর আর পাঁচ বছর বাকী ছিল, ছেড়ে দিয়েছেন।”
সব শুনে রূপসাও মুগ্ধ। ঈশ ওও যদি জানতে পারত ওর গত জন্মের কথা, তার জন্যে এ জন্মে কিছু প্রভাব পড়বে কীনা। একবার শুভ্রকেও জিজ্ঞেস করা দরকার। আজ রাত্তিরেই জিজ্ঞেস করবে শুভ্র ফোন করলে। তারপর নাহয় একবার ঢুঁ মারবে ওখানে।
এল ফোন শুভ্রর। কিন্তু ও কেমন আছে, বাচ্ছারা কেমন আছে আর এ কথা সে কথার পর ফোন ছেড়ে দিল শুভ্র। ওর নাকি খুব কাজের চাপ আর তখন খুব টায়ার্ড। পরেরদিনও তাই হল। সেই কাজের চাপের অজুহাত, রাত দিন এক করে নাকি কাজ করতে হচ্ছে। রূপসা বিরক্ত, এত কাজ যে ভালো করে কথা বলারও সময় নেই! এর মধ্যেই একদিন ববির তুমুল জ্বর হল। রাতেই ডাক্তারের কাছে দৌড়তে হল। গিনি কী করে নীতামাসির হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কপাল ফোলাল। ববি জ্বর থেকে উঠল তো গিনি পড়ল। বিনা কারণে একদিন অফিসে রূপসার সঙ্গে এক কলিগের কথা কাটাকাটি হয়ে গেল। দোষ রূপসার কিছুই ছিল না কিন্তু দেখা গেল ভুল ওকেই সবাই বুঝল। সেদিন বেমক্কা বাথরুমে পরে গেল। কিন্তু অফিসে জরুরি মিটিং ছিল তাই ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতেও দৌড়তে হল। সব মিলিয়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।
এ দিকে শ্রেয়া খুব খুশী। অনীকের ফাঁড়াটা মনে হচ্ছে কেটে গেছে। ভদ্রলোকের ওপর বিশ্বাস করে যে ভুল করে নি এ ব্যাপারে ও একশোভাগ নিশ্চিত। পরেরবার তো মেয়েকেও নিয়ে যাবে ভাবছে। এখন থেকেই ব্যবস্থা করা ভালো। ওই যে একটা কথা আছে না প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিয়োর। এই সবই বলতে বলতে আসছিল। দুজনে একসঙ্গে অটো স্ট্যাণ্ড অবধি আসে। তারপর দুজনে দুদিকের অটো ধরে। সেদিন হবি তো হ প্রবালের সঙ্গে দেখা। প্রবাল শুভ্রর কলিগ। রূপসার সঙ্গে ভালোই আলাপ আছে। ওদের বাড়িতেও এসেছে। প্রবাল নাকি এদিকে কী কাজে এসেছিল।
কেমন আছ, ছেলেমেয়ের কী খবর – এসবের পরেই দুম করে জিজ্ঞেস করল, “শুভ্র ঠিক আছে তো? ওর খবরটবর নিয়মিত পাচ্ছ তো? ফোন করে রোজ?”
“হ্যাঁ রোজই কথা হয়। কিন্তু আপনি এভাবে জিজ্ঞেস করছেন কেন?” রূপসা বিরক্তই। অস্বস্তিও হল। সঙ্গে শ্রেয়া রয়েছে, তার সামনে এভাবে জিজ্ঞেস করা।
“কারণ আছে, কারণ আছে। শুভ্র তো ইদানীং শুভলক্ষ্মীম্যামকে নিয়েই ব্যস্ত, শুভ্র অ্যাণ্ড শুভলক্ষ্মী – ভালো মিলেছে, তাই না?” বলে খ্যাকখ্যাক করে বিচ্ছিরিভাবে হাসতে হাসতে একটা অটোতে উঠে পড়ল।
রূপসার মুখ লাল হল। বলে কী লোকটা! এভাবে রাস্তার মাঝখানে এসব বলে গেল! ছিঃ! অটোটা ছেড়ে দিল বলে কিছু বলতে পারল না। কাহলে বলত যে ও শুভলক্ষ্মীর কথা ভালোই জানে। শুভ্রর বস। আর শুভ্র ওরকম ছেলেই নয়।
শ্রেয়াও সব শুনেছে। একটু পরে ওই বলল, “কে কী বলল তাই নিয়ে ভাবিস না। এবার তুই কী করবি তাই ভাব।”
“আমি কী করব? আমার কী করার আছে? আমি কী এখন ব্যাঙ্গালোরে ছুটব নাকি শুভ্রর ওপর নজরদারি করার জন্যে?” রূপসা আরো অবাক শ্রেয়ার কথায়।
“না তা ছুটবি না। কিন্তু এখান থেকেই অনেক কিছু করা যায়। ভেবে দেখ এই লোকটা যদি শুভ্রদার সম্পর্কে এসব কথা রটিয়ে বেড়ায় তাহলে কী হবে? সত্যি মিথ্যে কে আর যাচাই করে দেখবে? সবাই একেই বিশ্বাস করবে। আর কিছু নাহোক বদনাম তো হবেই।”
“তাহলে? তাহলে আমি কী করব?” রূপসা কেমন যেন দিশেহারা।
“দেখ রূপসা কিছুদিন তোর সময়টা ভালো যাচ্ছে না, এটা তো মানবি। ছেলেমেয়েদুটো কীরকম ভুগল। অফিসে সেদিন ঝামেলা হয়ে গেল। আচ্ছা আমাকে সত্যি কথা বল তো, শুভ্রদার ব্যবহারে কোনো চেঞ্জ বুঝেছিস?”
“চেঞ্জ......... না চেঞ্জ কিছু বুঝি নি। তবে আজকাল খুব ব্যস্ত থাকে। ফোনেও বেশী কথা বলার সময় পায় না।”
“এইটাই তো সবচেয়ে বড়ো চেঞ্জ রে পাগলি!” শ্রেয়া কথাটাকে একদম লুফে নিল, “তুই আর দেরী করিস না, এখনই যা করার কর। পরে দেরী হয়ে গেলে তুইই প্রস্তাবি।”
“কী করব আমি?” রূপসার মাথায় আরোই কিছু ঢোকে না।
“আমি নম্বর দিচ্ছি, তুই যোগাযোগ কর। ভদ্রলোক ঠিক কোনো না কোনো রাস্তা বার করবেন। আচ্ছা তোকে করতে হবে না, আমিই কথা বলব তাড়াতাড়ি সময় দেওয়ার জন্যে।”
“যাব বলছিস? এসবে সত্যি কিছু হয়?” রূপসা তখনো সন্দিহান।
“সত্যি হয় না? আমি কি তাহলে বাজে কথা বলছি? আমি তো তোকে আমার অভিজ্ঞতার কথা বলেছি, অন্য কারুর কথা নয়। তুই একবার চল তো, বিশ্বাস না হলে নাহয় যা করতে বলবে করিস না।”
“ঠিক আছে, তাহলে দেখ তুই কবে ডেট পাস,” বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে দুলতে দুলতে রূপসা বলে।
ডেট পাওয়া গেল, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি নয়। দিন চারেক পরে। এই ক’দিন রূপসা অনেকবার ভেবেছে যাবে কী যাবে না, শুভ্রর সঙ্গে কথা বলবে এই নিয়ে, কিন্তু তার সময় থাকলে তো! প্রবালের কথাই সত্যি নয় তো? শুভ্র কিছুতে জড়িয়ে পড়ছে না তো? কত কিছুই তো ঘটে! দিনগুলো যে রূপসার কী করে কাটছে তা রূপসাই জানে।
অবশেষে এল সেই নির্ধারিত দিন। বিগত জন্মের রহস্য জানার দিন। রবিবার ছিল সেটা, কাজেই অফিসে ছুটি নিতে হয় নি। ববি আর গিনিকে অনেক করে বুঝিয়েসুঝিয়ে, অনেক আদর করে ভুলিয়ে ভালিয়ে তবে বেরোন গেল। রবিবারও মা বেরিয়ে যাচ্ছে এটা তাদের একেবারেই নাপসন্দ।
নির্ধারিত জায়গায় শ্রেয়ার সঙ্গে দেখা হল। এখান থেকে দুজনে একসঙ্গে যাবে। শ্রেয়ার খুশী আজ দেখে কে! কারণ? অনীকের অফিসে কয়েকজনের ওপর ছাঁটাই-এর কোপ পড়লেও অনীক বেঁচে গেছে, শুধু তাই নয়, প্রোমোশনও হয়েছে। দায়িত্ব বেড়েছে, সেই সঙ্গে মাসের শেষে যেটা ব্যাংকে জমা হয় সেটার পরিমাণও।
“এত তাড়াতাড়ি যে সুফল পাব ভাবি নি। সবই ওই কবচের জোরে,” বলল শ্রেয়া।
রূপসার মনেও বিশ্বাস অবিশ্বাসকে ঠেলে আরেকটু বেশী জায়গা করে নিল।
ভদ্রলোকের চেহারা সাধারণ হলেও দেখে বেশ ভালো লাগে। গরদের ধুতি চাদর পরিহিত। সত্যিই ভদ্র বলতে হয়, ওনার সংস্রব একেবারেই অস্বস্তিদায়ক নয়। নাম আনন্দমোহন মহারাজ। এই নামেই সবাই চেনে। রূপসার হস্তরেখা মনোযোগ সহকারে দেখে কিছু প্রশ্ন করার পর শুরু হল পূর্ব জন্মের বৃত্তান্ত জানার পর্ব। প্রক্রিয়া শেষ হলে দেখা গেল ভদ্রলোকের মুখ গম্ভীর।
রূপসা ঘাবড়ে গেল, ঢোঁক গিলে জিজ্ঞেস করল, “কী দেখলেন।”
“দেখুন আপনার সমস্যাটা একটু বেশী কমপ্লিকেটেড। যদি সম্ভব হত তাহলে আমি আজই ব্যবস্থা করে দিতাম। কিন্তু সেটা হবে না। আপনার স্বামীকেও নিয়ে আসতে হবে। দুজনের আবার একসঙ্গে দেখে যা করার তখনই করব,” আনন্দমোহন মহারাজ বললেন।
“কিন্তু আমার স্বামী তো ব্যাঙ্গালোরে, এখন আসতে পারবে বলে মনে হয় না।”
“না না যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আসতে বলুন। দেরী করলে আরো ঝামেলায় পড়বেন।”
“আপনি কী সমস্যার কথা বলছেন বলিন তো? আমি তো আসলে আমার ছেলেমেয়ের শরীর ভালো যাচ্ছে না............”
“দেখুন আপনি যতই গোপন করুন, আমি জানি এটা আপনার আসল সমস্যা নয়। এটা শুধু আপনার এ জন্মের সমস্যা নয় , গত জন্মেও ছিল। সত্যি কথা বলতে গেলে, বিগত দু জন্ম ধরে আপনি একই সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু কোনোবারই এর ঠিকমতো বিহিত করা হয় নি বা দোষা কাটানো হয় নি বলে আপনি বারবারই ভুগে চলেছেন। গত দু জন্মেই আপনার স্বামী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এবারও তাই হচ্ছে। ওই ব্যাঙ্গালোরেই এসব চলছে। গত জন্মে তো পরিস্থিতি এতই খারাপ হয়েছিল যে আপনি আত্মহত্যা করেছিলেন।”
“অ্যাঁ?” রূপসা আঁতকে উঠল।
“সেই জন্যেই তো বলছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বামীকে নিয়ে আসুন আমার কাছে। দেখুন এটা আমার ব্যবসা নয়। মানুষের হিতের জন্যে কাজ করি, নাহলে আজও কিছু দিয়ে আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিতাম। কিন্তু একা আপনাকে কিছু দিয়ে কোনো ফল হবে না। তাই দিচ্ছিনা। শুধু সাবধানতা অবলম্বনের জন্যে এখন কিছুদিন হলুদ, নীল, কালো এই তিনটে রঙ বর্জন করুন। আর স্বামীর সঙ্গে কথা বলে আজই ডেট ফাইনাল করে নেবেন। শুভস্য শীঘ্রম।”
চিন্তা ভাবনায় ভয়ে গলদঘর্ম হয়ে রূপসা বেরিয়ে এল। শ্রেয়ারও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া ছিল। সে গেল এবার। বেরিয়ে এল হাসিমুখে। আনন্দমোহন মহারাজ আরেকটা কবচ দিয়েছেন অনীকের জন্যে, যেটা দেওয়ার কথা ছিল। অনীকের কথা শুনে খুবই খুশী হয়েছেন, বলেছেন যে আর চিন্তার কিছু নেই।
“এই কবচটার দাম কত?” রূপসা জিজ্ঞেস না করে পারল না।
“আগেরটারও তো পুরো দাম নেন নি। সেটা আর এটা মিলিয়ে আঠাশ হাজার সাতশো পড়ল। যাক বাবা, সারা জীবন তো নিশ্চিন্ত,” বলল শ্রেয়া।
রূপসার কথা সব শুনে বলল, “চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই শুধু শুভ্রদাকে একবার এখানে নিয়ে এসে ফেল। তাহলেই হল।”
“সেটাই তো সবচেয়ে বড়ো মুশকিল। তার তো আমার কথা শোনারই সময় নেই, এখানে আসা তো দূরের কথা,” রূপসা মনে মনে বলল।
অফিস, বাড়ি, বাচ্ছাদের সামলানো, সংসার সামলানো, নীতামাসির নিত্য নতুন অভিযোগ শোনা, রান্নার মাসির না বলে কামাই – এসব নিয়েই বয়ে যেতে লাগল রূপসার দিনগুলো। শুভ্রর ফোন আসে ঠিকই, কিন্তু কেমন যেন দায়সারা মনে হয় রূপসার। বার কয়েক শুভলক্ষ্মীম্যামের নামও শুনেছে। আশঙ্কায় রূপসার বুক দুরুদুরু করে। আনন্দমোহন মহারাজের কথাই ঠিক তাহলে? কী হবে ওর? ববি আর গিনির?
সেদিন অফিস থেকে ফিরতে নাহোক দেরি হয়ে গেল। এত জ্যাম রাস্তায় যে অটো এগোচ্ছেই না। পুজোর মুখে অবশ্য প্রতিবারই এই হয়। বাড়ি ঢুকে দেখল বাড়িতে আজ যেন নতুন প্রাণ। ববি, গিনি মহা উৎসাহে খেলছে। নীতামাসিও হাসিমুখে দরজা খুলল। কোনো অভিযোগ নেই আজ। রূপসা অবাক হল। আরো অবাক হল ববি, গিনি যে খেলনাগুলো নিয়ে খেলছে সেগুলো দেখে। একদম নতুন এই খেলনাগুলো এল কোত্থেকে?
গিনি কী একটা যেন বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ববি ওর মুখটা চেপে ধরল। রূপসা নীতামাসির দিকে ঘুরল, “নীতাদি......”
কিন্তু নীতামাসিও যেন রেডি ছিল নিজের ব্যাগটা নিয়ে কোনো রকম হাসি চেপে, “আজ যাই বৌদিমণি। কাল ঠিক সক্কাল সক্কাল চলে আসব,” বলে বেরিয়ে গেল।
আর ঠিক তখনই ভেতরের ঘর থেকে এ ঘরে এসে ঢুকল একটি মূর্তি যাকে দেখে রূপসা চমকে উঠল। শুভ্র! ভাচ্ছারা চেঁচিয়ে উঠল, “বাবা এসে গেছে, মামমাম তুমি জানো না, জানো না!”
এবার বুঝল রূপসা এত নতুন খেলনা এল কোত্থেকে। ববি, গিনির এত ফূর্তিরই বা কী কারণ। কিন্তু ওকে একটা খবর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি! কী চিন্তা ভাবনার মধ্যে আছে যদি বুঝত।
রূপসা তাই কোনো কথা না বলেই ভেতরে ঢুকে গেল, পেছন পেছন শুভ্রও।
“কী হল, সারপ্রাইজটা ভালো লাগল না?” শুভ্রর জিজ্ঞাসা।
“এরকম সারপ্রাইজ কারুরই ভালো লাগতে পারে না। কবে থেকে বলে যাচ্ছি এখানে একলা একলা আমি পারছি না, তাড়াতাড়ি এসো, কিন্তু তুমি শুনতেই না। ইদানীং তো কথা বলারও সময় ছিল না।”
“আরে তোমার অসুবিধে হচ্ছিল বলেই তো এলাম। আমারও কি আর ভালো লাগছিল একা একা ওখানে! কিন্তু কাজ শেষ হবার নামই নেই। নেহাত শুভলক্ষ্মী ম্যাম............”
“শুভলক্ষ্মী ম্যামের নামও উচ্চারণ করবে না আমার সামনে!” রূপসা কথার মাঝখানেই ঝাঁঝিয়ে উঠল, “শুভলক্ষ্মী ম্যাম, শুভলক্ষ্মী ম্যাম – যেখানে যাও শুভলক্ষ্মী ম্যাম। কান পচে গেল।”
“তুমি রেগে যাচ্ছ কেন ওনার নাম শুনে? উনি না থাকলে এত তাড়াতাড়ি আমি ফিরতে পারতাম না। অর্ডারটা করিয়ে দিয়ে আমাকে বললেন, ‘যাও এবার বাড়ি। তুমি তো এখানে দিব্যি আছ, ওদিকে দুটো বাচ্ছা নিয়ে মেয়েটা কী করে সব ম্যানেজ করছে সে তো বুঝছ না। তোমরা ছেলেরা এসব কোনো কালেই বোঝো না।’ সত্যি কথা উনি না থাকলে আরো কিছুদিন আমাকে ওখানেই পড়ে থাকতে হত। রিটায়ারমেন্টের আগে এই উপকারটা করে দিয়ে গেছেন।”
রূপসা থমকাল। কী বলছে শুভ্র? রিটায়ারমেন্ট? শুভলক্ষ্মী ম্যাম এসব বলেছেন? উনিই শুভ্রর তাড়াতাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন?
ওর বিমুঢ় ভাব দেখে শুভ্র বলল, “কী হল, কী ভাবছ? হঠাৎ রেগেই বা গেলে কেন? ওনার ফেয়ারোয়েলটা অ্যাটেন্ড করেই তো আমি চলে এলাম। দেখো নি খবরের কাগজে ওনার ফটো বেরিয়েছিল? কত টাকা দিলেন একটা মেয়েদের হোমে! দেখো নি খবরটা? সব কাগজেই তো প্রায় বেরিয়েছিল। রিটায়ার করে ছেলের কাছে বেড়াতে গেলেন উনি আর ওনার হাজব্যাণ্ড। ওনার ছেলে ইউ কে তে থাকে।”
এখন যেন রূপসার একটু একটু সব মনে পড়ছে। পড়েছিল তো খবরটা, দেখেওছিল ছবিটা। হাসিমুখে এক বয়স্কা ভদ্রমহিলার ছবি। ইশ, প্রবালটা কী! ওনার সঙ্গে শুভ্রকে জড়িয়ে দুম করে একটা কথা বলে দিল।
শুভ্র সুটকেস খুলছে, জিনিসপত্র বার করে রাখছে, “মনে আছে গতবার পুজোর সময় ডীপ ব্লু রঙের একটা শাড়ি খুঁজছিলে, কিন্তু রঙ পছন্দ হচ্ছিল না বলে কিনলে না। দেখো তো এটা কেমন লাগে। ডীপ ব্লু আর সিলভারের কম্বিনেশন। চলে আসার আগে একটা দোকানে গেছিলাম। আমার তো দেখে এত ভালো লাগল যে কিনেই ফেললাম,” শুভ্র একটা শাড়ি বার করে রূপসাকে দেখায়।
রূপসা মুগ্ধ চোখে দেখে আর ভাবে এই শুভ্রকে সন্দেহ করছিল ও! যে মনে রেখেছে গতবার পুজোর সময় ও কী খুঁজছিল, অথচ ও নিজেই ভুলে গেছে!
“এবার লাস্ট সারপ্রাইজ। ষষ্ঠীর দিন আমরা রাজস্থান যাচ্ছি। দিন বারোর জন্যে। অনেক কাজ হয়েছে, অনেক একা একা থাকা হয়েছে আর নয়। একটা ট্যুর অনেক দিন ওভার ডিউ হয়ে আছে। তুমিও তো ওই সময় ক’দিন ছুটি নেবে বলছিলে। তুমি, আমি, ববি আর গিনি, ব্যাস আর কেউ নয়। এবার খুশী তো ম্যাডাম? আর রাগ করে মুখ হাঁড়ি করে থেকো না,” শুভ্র বলে।
রূপসাও হেসে ফেলে।
সত্যি কী দুর্বল হয়ে গেছিল ও! কী না কী ভাবছিল। বাচ্ছাদের কী একটু শরীর খারাপ হল, অফিসে কলিগের সঙ্গে কী একটু ঝামেলা হল আর ও কত কী ভেবে ফেলল। প্রবালও ইন্ধন দিল। তবে প্রবালকে দোষ দিয়ে কী হবে? এ রকম মানুষ তো এ সংসারে কতই আছে। আসলে তো দুর্বল ওই ছিল। সেই দুর্বলতা ফাটল ধরাল ওর বিশ্বাস, ভরসা, আস্থাতে আর সেই ফাটল দিয়ে ঢুকে পড়ল আনন্দমোহন মহারাজ তার পূর্ব জন্মের তত্ত্ব নিয়ে। আরো দুর্বল করল রূপসাকে স্পর্শকাতর জায়গায় আঘাত করে। কী বলেছিল যেন ওই আনন্দমোহন মহারাজ? গত জন্মে নাকি রূপসা আত্মহত্যা করেছিল? করলে, করেছিল! আর এ কথা যে সত্যি তারই বা নিশ্চয়তা কী? তাছাড়া কী ঘটেছিল পূর্ব জন্মে রূপসা জানতে চায় না, কোনো দরকার নেই। এই মুহূর্তে সে দেখছে চোখের সামনে শুভ্রকে, যা শুভ্রকে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই। সব ভ্রান্ত ধারণা, ফালতু ইয়ারকি! শুভ্র খেলছে ববি, গিনির সঙ্গে। কচি গলার বাবা বাবা ডাকে আর হাসিতে সারা ফ্ল্যাট মুখরিত। এটাই সত্যি। এটাই বর্তমান। রূপসার তৃপ্তিও এতে। আর কিছু সে চায় না। শুভ্র ঠিক সময়ে ফিরে এসে শুধু যে রূপসাকে ওর হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস, ভরসা ফিরিয়ে দিল তা নয়, বোধহয় আরো বড়ো সর্বনাশের হাত থেকেও রক্ষা করল।

আপনার মতামত জানান