দুটি কবিতা

প্রবুদ্ধ ঘোষ


দুগ্‌গা, যুদ্ধ...

(১)
যেসব গল্পে শ্রুতি-স্মৃতি-বেদ নেই
বিস্মরণেও আমি-তুই থেকে যাব।
ওরা তোকে দিলো নিখুঁত অস্ত্র, ঘৃণা
যেকোনো শর্তে আমিই নিহত হব

(২)
দুগ্‌গা আমরা এভাবে যুগান্তরে
যুদ্ধের মিথ্‌ যুদ্ধকে ডেকে আনে
আরোপিত তোর দেবসুরক্ষাভার
তুই কি বুঝিস শান্তির পোড়া মানে?

(৩)
আমাকে অসুর সাজানো সেসব দিন
মনে আছে তোর স্তোত্র-আগুন পাঠ?
দুগ্‌গা আমি কি প্রতিরোধ ভুলে যাব?
এখনো কিন্তু হননসমাজ; রাত...

(৪)
মূর্তি গড়া-ভাসানোর খেলা থাক্‌
কাঠামোয় মাটি লাগে ফের ভাসে
নিয়ত জীবন (যুদ্ধের সুষমায়
আমরা লগ্ন); উৎসব ফিরে আসে



শাক্ত

এইটুকু আলো থাক। জেগে থাক সন্ন্যাসী হৃদয়ে
শ্মশানের মত রং, শব্দ আগুনের
চিতা থেকে ছাইয়ের মত আহ্বান
কাছে আসে, ধুনি জ্বলে লগ্ন স্তব- শবসাধনা
রক্তপান করে আর বলি হয়।
চুঁইয়ে পড়েছে টুপটাপ লাল যজ্ঞে, সমিধে।
সারারাত পুজো
তীব্র উচ্চারণে দেশ থেকে মাটি
জীব থেকে প্রাণ সরে যায়।
ঢাক থামে। ঢাক বাজে।
উৎসব ঘিরে ফেলে মৃতদের স্বর
মৃতের স্বর ছাপিয়ে লকলকে উৎসব।
আলো ওঠে অনেক ওপরে নেমে আসে
নিয়মবশতঃ।

এভাবে আগুন-মেয়ে, তোকে নিয়ে
মাতামাতি। তোকে নিয়ে পুজোপাঠ...

আমি তোর কাছে শুয়ে আছি আজন্মমৃত্যুকাল
তোর জিভ থেকে ভালবাসা
ঝরার আশায়...

আপনার মতামত জানান