অভিমান

জয়তী অধিকারী


একাকীত্বের টানে
পাগল মন বারবার ছুটে ছুটে যায়
বাউলদের আখড়ায়...
সঙ্গ দেয় রক্তকণিকারা, উদ্বেল হয়ে
আসঙ্গ করে অজয়ের চরে।
নেশার টানে মানুষকে পেছনে ফেলে
উদ্ভ্রান্তের মত খুঁজে বেড়ায়
সেই মানুষকেই, মনের মানুষকে...
বৈচিত্র নব নব রূপে এসে দাঁড়ায় আর্শি হয়ে,
নেশার রকমফেরে কামাগ্নি জ্বলে ধিকিধিকি
সাধনসঙ্গীনির চোখের পাতায়।
সে আগুন মন পোড়ায় না, পোড়ায় না দেহ
সঙ্গত করে চলে তেরছা নজরে, স্মিত হেসে।

শঙ্খ লাগা সাপের মত নেশাগ্রস্ত মেয়েশরীর
মূর্চ্ছনার তালে তালে দুলতে থাকে আগুনের শিখার মত,
গোঁসাই তার চারপাশে পাক খেয়ে খেয়ে বৃত্তাবৃত...
অগ্নিশিখার প্রতিফলন হয় প্রেমিক নাগরের চোখের তারায়।
ছিলিমের পর ছিলিম হাতবদল হয় চক্রাকারে
সুরের ছাঁচবদল হয় না।

আত্মাকে ছুঁতে চেয়ে শঙ্খ লাগে মানব শরীরে
চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগে থাকে
সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষায়...

দূরে কোন এক শহরের কংক্রিটের দেওয়ালে
মাথা রেখে, নিশ্চুপ বসে থাকা মেয়েটার
বুক ফুলে ফুলে ওঠে অভিমানে।

একটু আদর সেও যে চেয়েছিল...

আপনার মতামত জানান