বৈধকরণ

মৌমিতা বিশ্বাস


ছবি- কৌস্তভ ভট্টাচার্য

মৌলি ই ই ই ই.... মৌলি ই ই ই ই....
দূর থেকে ডাকটা এগিয়ে আসছিলো এদিকে।
যাকে ডাকা, অর্থাত, মৌলি, তখন ঝাঁকড়া শেড -ট্রি টার তলায় বসে আপন মনে পিঁপড়েদের লাইন এর দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছে। চা-গাছ গুলোর তলার এবড়ো খেবড়ো মাটির ওপর দিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে চলে যাচ্ছে ওরা। সবার মুখে সাদা রঙের ছোট্ট এক টুকরো করে কিছু একটা ধরা রয়েছে। কেমন সুন্দর শৃঙ্খলা, ঠিক যেন ওদের স্কুল মাঠের অ্যাসেম্বলি লাইন। শুধু লিডার নেই কেউ, থাকলেও বোঝা যাচ্ছে না। ই-এরিয়া র উল্টো দিকে চা-বাগানটার ভেতর সোজাসুজি খানিকটা ঢুকে ডানদিকে মোড় নিলেই একটু ঢালু মতন জমি আছে। সেখানে দুটো বড় গাছের তলায় একটা তেকোনা মতন ফাঁকা জায়গা, শুকনো শক্ত জমির ওপর জংলা ঘাস হয়ে থাকে। ওখানে বসে সামনের দিকে তাকালে শুধুই বেঁটে বেঁটে চা গাছের সারি দেখা যায়। এটা মৌলির প্রিয় জায়গা। বন্ধুরা জানে। তাই ওকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে এসে পড়ল ওরা। ওরা মানে কান্ছা, বুলন, বিশ্ব আর পাপন।
"কী রে তুই, এখান বসে আছিস একা একা। ওদিকে দোরজি চাচা জলপাই গাছ ঝাড়াচ্ছে। ভুটান, লাপচি ওরা কখন থেকে থাবা গেড়ে বসে আছে। তুই না গেলে একটাও জলপাই পাবো না সেবারের মতন। চল চল।" তাড়া দেয় বিশ্ব।
সম্বিত ফেরে মৌলির। পিঁপড়ে গুলো চলছে তো চলছেই, যাবে কোথায় কে জানে। ফ্রক টা হাঁটুর ওপর থেকে টেনে নামাতে নামাতে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসলো।
সাইকেলটা ঠেসান দিয়ে রেখেছিল অন্য বড় গাছটার গায়ে। ঝট করে টেনে নিয়েই, " আরে চল, চল। মনেই ছিল না আমার।" বলে তড়াক করে উঠে বসে জোরে জোরে প্যাডেল করতে লাগলো মৌলি। পাঁচটা সাইকেল শাঁই-শাঁই করে বাতাস কেটে এগিয়ে চলল।
এই পঞ্চ-পান্ডব কে বাগান এলাকার সকলেই চেনে। দশ-বারো বছর বয়েসি চঞ্চল একদল ছেলে-মেয়ে। গরমের ছুটি পড়লেই এদের দৌরাত্বে কারোর গাছে পাকা ফলটা টেঁকে না। ওই মৌলিটা হচ্ছে এদের সর্দার। যেমন ডাকাবুকো তেমন দেখতে। কালো লম্বা হিলহিলে শরীরে সবে ফুটতে শুরু করেছে বসন্তের নির্দেশ, এক পিঠ ঘন চুল বেশীরভাগ সময় একটা হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে এলোমেলো করে বাঁধা। দিনরাত টো-টো করে বেড়াচ্ছে এক দঙ্গল দস্যি ছেলের সাথে। যাকে তার মা বলে "ধিঙ্গিপনা" আর পাড়ার লোকে বলে "আদিখ্যেতা"।
এরা সকলে মাইল খানিক দুরের ডি -এরিয়ার স্কুলটায় পরে। ক্লাস সিক্স-সেভেন।
মৌলিদের টিফিন হয় ঠিক বারোটা পঁয়্তাল্লিসে। প্রায় রোজই কোনরকমে নাকে মুখে গুঁজে টিফিন-বক্সটা বন্ধ করে ব্যাগ এ ঢুকিয়েই ওরা দৌড়োয় বড় মাঠে। সেখানে নানারকম খেলাধুলো হয়। ছোঁয়া-ছুয়ি, চেইন- চেইন, কানামাছি। সেদিন মৌলি টিফিন-বক্স খুলেই মুখ বিকৃত করে বলল 'এ্যা:, আজও পরোটা -আলু ভাজা। কেউ খাবি?" দেবু লাফিয়ে এলো - "আমার আজকে উপমা। তুই নিবি?" টিফিন-বক্স পাল্টাপাল্টি হয়ে গেল । খেয়ে-দেয়ে ততক্ষণে অনেকেই ছুটে বেরিয়ে পড়েছে। যেতে-যেতে সঙ্গীতা বলে গেল "আজ নিম গাছের ওদিকে কোর্ট কেটেছি, তাড়াতাড়ি আয়"। অর্থাৎ চুকিত্কিত খেলা হবে।
ক্লাসরুম প্রায় ফাঁকা।
কখন যে শ্রীনিবাস ওর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতে পারেনি।
পিঠে আলতো হাতের স্পর্শ পেয়ে ঘুরে দেখল মৌলি। 'কিরে, কিছু বলবি?'।
'মৌলি, তোকে...তোকে আমি' বলতে বলতে ওর কাঁধ দুটো ধরে আস্তে আস্তে ঠেলে নিয়ে যেতে থাকে শ্রীনিবাস। মৌলি এতটাই অবাক হয়ে গেছে যে বাধা দিতেও যেন ভুলে গেছে। বোর্ড এর পাশে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল মৌলির। 'ছাড় ছাড় ,পাগল হলি নাকি তুই', ওর চিৎকারটা মাঝপথেই একটা গোঙানির আওয়াজ হয়ে গেল।
মৌলি শ্রীনিবাসের গরম লালা ওর মুখের ভেতর টের পাচ্ছে আর আগ্রাসী দাঁতগুলো কামড়ে ছিন্নভিন্ন করছে ওর ঠোঁট দুটোকে। ছটফট করতে করতেই একটা ঘুষি মারে মৌলি, শ্রীনিবাসের তলপেটে। ছিটকে যায় সে, চোওয়ালে হাত বুলিয়ে বলে 'মুঝে লাগা তুঝে আচ্ছা লাগেগা' !
আর দাঁড়ায় না মৌলি। ছুটে বেড়িয়ে যায়। বাথরুম এর দরজা বন্ধ করে উপুড় হয়ে পড়ে বেসিন এর ওপর। হড়হড় করে বমি করতে থাকে। বেসিন ভরে যায় হলুদ থকথকে উপমাতে।
আয়নার ভেতর তাকিয়ে 'বাজে মেয়ে' কে খুঁজতে থাকে। এসব তো বাজে মেয়েরাই করে, সেন কাকিমা যে বলে।
সেই কোন ছোট্টবেলা থেকে ওরা একসঙ্গে পড়ছে। প্রতি বছর ফার্স্ট হবার জন্যে দুজনের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি প্রতিযোগিতা চলে একটা। প্রথমদিন নার্সারী তে ভর্তি হয়ে মা চলে যাওয়ায় হাপুস নয়নে ক্রন্দনরত শ্রীনিবাসকে মৌলি ই তো এক মুঠো লাল-নীল জেমস দিয়ে চুপ করিয়েছিল। তবে? কোন ইঙ্গিতে পাল্টে গেল আবাল্য বন্ধুর চোখের আর শরীরের ভাষা? এইজন্যে কি ওর সঙ্গে আর কথা বলা উচিত নয়? কি করবে মৌলি, বুঝতে পারেনা। সহজাত ক্ষমতা দিয়ে বুঝতে পারে এই ঘটনা মা কে বলা যাবেনা। শুধু মনে মনে বড় হয়ে যাওয়ার পাপ কে ঘেন্না করতে থাকে মৌলি। না, না সে বড় হয়ে যেতে চায়না। কিছুতেই না।

স্কুল এর রেজাল্ট বেরোনোর পর দেখা গেল যথারীতি মৌলি হয়েছে ফার্স্ট আর শ্রীনিবাস সেকেন্ড। আবার শুরু হয়ে যায় গরমের ছুটি আর পঞ্চ-পাণ্ডবের পাড়া-পরিক্রমা।
এবছর সেন কাকুদের বাগানে লঙ্কা গাছের চারাগুলোতে লাল-সবুজ লঙ্কা হয়েছে গোছা গোছা। ঘোষেদের আম গাছ থেকে কাঁচা আম চুরি করে ওরা পাঁচজন নুন-মরিচ দিয়ে মাখিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাচ্ছিলো, পাশে সাইকেল গুলো দাঁড় করানো। মাথার ওপর কাঠ ফাটা রোদ্দুর। হেলে দুলে জাবর কাটতে কাটতে পাশ দিয়ে যাচ্ছিল লাল-সাদা গরুটা। বুলন বললো 'হসপিটালের সিঁড়ির তলায় রানী বাচ্চা দিয়েছে, দেখতে যাবি?'।
রানী পাড়ার একমাত্র বিড়ালনী । সুন্দর নরম সাদা আর ছেয়ে রঙা শরীরটা, অহংকারী পা ফেলে সে যখন হেঁটে যায় পাড়ার তিনটে হুলো জুলজুল করে তাকিয়ে দেখে। তাদের একজনের ভাগ্যেই শিকে ছিঁড়েছে মনে হয়, রানী কদিন হলো একপাল তুলোর বল এর মতন দেখতে বাচ্চা দিয়েছে। তাদের দেখতে ওরা সদলবলে চলল। এখান থেকে বেড়িয়ে কিছুটা বাঁদিকে গিয়ে একটা লেভেল ক্রসিং পড়ে, সাইকেল নিয়ে সেটার তলা দিয়ে হেঁটে পার হয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু কোনো গাড়ি বা মিলিটারি ট্রাক আসলে ওটাকে তুলতে হয়। আড়াআড়ি লম্বা লোহার গেটের একদিকে প্রচুর বালির বস্তা বাঁধা। অন্য দিকটা হুক এর থেকে খুলে দিলেই ওটা একদিকে উঠতে থাকে, নীচ থেকে দড়ি দিয়ে টেনে রেখে নিয়ন্ত্রণ করে গেট ম্যান বিহারী। বিহারী বসে গেট এর লাগোয়া একটা খুপরি ঘরে, সেখানে চেয়ার আছে, আর একটা টেবিল এ থাকে গাড়ি পারাপারের হিসেব খাতা।
লেভেল ক্রসিং পার হবার সময়ে বিহারী তার ঘর থেকে হেঁকে বললো 'কাঁহা যা রাহে হো সব?'। 'অস্পতাল' , বলেই ওরা জোরে প্যাডেল মারলো। অফিসার্স মেস বাম দিকে রেখে ওরা হসপিটাল এ পৌছালো।
ডাক্তার কাকু বাইরেই ছিলেন। ওদের দেখে বললেন 'কি পঞ্চ পান্ডব, বিড়াল বাচ্চা দেখবে?'। ওরা সমস্বরে 'হ্যাঁ কাকু' বলে সোজা সিঁড়ির দিকে হাঁটা দিল।
রানী শুয়ে আছে গর্বিত ভঙ্গীতে আর তার পেটের কাছে কুন্ডুলী পাকিয়ে শুয়ে আছে ছ'টা পুতুলের মতন এইটুকুন টুকুন বিড়াল ছানা। মৌলি একটাকে আদর করতে যেই হাত বাড়িয়েছে, ফ্যাঁশ করে উঠলো রানী। চমকে হাত সরিয়ে নিল মৌলি, এখন ওদের মা কোনো পুর্বপরিচিতির লক্ষণ দেখাচ্ছে না। যাহ, আবার পরে আসতে হবে। 'চল রে' বলে পা বাড়ালো সে।
ফেরার সময়ে আবার সেই ক্রসিং। বিহারী বেরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাইরে, একটা ট্রাক গেল এইমাত্র। ওদের দেখে হাতছানি দিয়ে ডাকলো। ওরা কৌতুহলী হয়ে ঢুকলো গিয়ে সেই খুপরি ঘরে। ঢুকে এটা-সেটা নেড়েচেড়ে দেখছে। বিহারী ও ঢুকে এলো। মৌলি কে বলল 'ই দেখা লগ বুক। ইসমা হাম গাড়ী ক নাম্বার ঔর টেম লিখত রহি'। বাকীরা ততক্ষণে পেন-টেন নিয়ে কাগজে আঁকিবুকি কাটতে লেগেছে নিজের মনে। কেউ হুইসেল টা হাতে নিয়ে দেখছে। হঠাৎ মৌলি টের পেলো বিহারীর হাতদুটো তার ফ্রক এর ওপরটা হাতড়াতে শুরু করেছে। ভীষণ অস্বস্তিতে নিজেকে ছটফট করে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করতে লাগলো সে। কিন্তু পারল না। সাঁড়াসির মতন চেপে ধরেছে তাকে আর পাগলের মতন হাতড়ে চলেছে। ব্যথা করছে খুব ওর , চোখ ফেটে জল আসছে, বন্ধুরা এদিকে দেখছেও না। বুঝতেই পারছে না যেন। একটু পরেই নিজেকে ছাড়িয়ে প্রানপন দৌড় লাগলো সে। পড়ে রইলো সাইকেল। বন্ধুরা পিছনে চেঁচাতে চেঁচাতে আসছে। 'কি হলো রে মৌলি, শোন '।
কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা বাড়ী গিয়ে জোরে জোরে বেল বাজাতে লাগলো সে। মা বেড়িয়ে অবাক 'কীরে , খেলা হয়ে গেলো?' 'হ্যাঁ মা, খেলা হয়ে গেল '। নিজের ঘরে ঢুকে চেয়ার এ বসে হাঁপাতে থাকে সে।
পরের গরমের ছুটি আসার আগে খবর পেল ওদের এবার এখান থেকে চলে যেতে হবে। আবার নতুন বন্ধু, নতুন জায়গা। চোখের জলে সবাই বিদায় জানালো মৌলিদের।
এরপর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। চা বাগানের সেই অলীক দিনগুলোর কথা মনে প্রলে হাসি পায় মৌলির। সেইদিন গুলো কি সত্যি অর জীবনে ঘটেছিল কখনো? বিশ্বাস ই হয়না যেন।
মৌলি এখন একটা কলেজ এ পড়ায়, সবে ঢুকেছে এই চাকরি তে। কালো শরীরটা ছিপছিপে এখনও, শুধু আগেকার সেই বেপরোয়া অগ্রাহ্যের ঔদ্ধত্য আর নেই। তার জায়গা নিয়েছে কমনীয় অথচ ঋজু ব্যক্তিত্ব। পিঠ ছাপানো চুল এখন বেশিরভাগ সময়ে ওপরে চুড়ো করে একটা পেন্সিল কিংবা ডট পেন দিয়ে আটকানো থাকে।
তারই পিএইচডি র ল্যাবমেট আর বর্তমান সহকর্মী উন্মেষ এর সঙ্গে তার বিয়ের ঠিকঠাক।
দুই বাড়ীতে কারোর আপত্তি নেই। প্রায় ই দেখা সাক্ষাত করে ওরা, ডিনার এ যায়। পরস্পরের হাত ধরাধরি করে গঙ্গার ধার দিয়ে হেঁটে গেছে কতদিন, কাঁধ জড়িয়ে সিনেমা দেখেছে, এক গ্লাস থেকে ভাগাভাগি করে কোল্ড ড্রিংক খেয়েছে। কিন্তু, এর বেশি না। দুজনেই সেই বিশেষ অভিজ্ঞতা তুলে রেখেছে সেই বিশেষ দিনের জন্যে।
দেখতে দেখতে এসেও গেল সেইদিনটা। বৌভাতের আগুন রঙা বেনারসিতে দারুন মানিয়েছে মৌলিকে। হেসে হেসে সবার সাথে সৌজন্য বিনিময় করছে। চোখে মুখে উপচে পড়ছে ভরন্ত মনের প্রতিফলন। উন্মেষকে ও চমৎকার মানিয়েছে বাবার দেওয়া নীল শেরওয়ানী তে।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরতে বাজলো রাত দুটো।
দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষা করছে মৌলি, ডেকরেটার এর ফুলে সাজানো বিছানায়।
উন্মেষ ঘরে ঢুকে অল্প হেসে বললো 'কিরে, টায়ার্ড লাগছে খুব?' মৌলি ও হাসে ' হ্যাঁরে, একটু'। শেরওয়ানির পকেট এ হাত ঢুকিয়ে মুঠোয় ভরে কি যেন বের করে আনে উন্মেষ। বলে, 'দাঁড়া, রিচুয়াল টা আগে সেরে নিই। এই যে, আমার জীবনে পাকাপাকি ভাবে আসার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এই সামান্য উপঢৌকন গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করুন দেবী'। ক্লান্তি ভুলে মৌলি হিহিহিহি করে হাসছে তখন, 'কি নাটুকে রে তুই' ।
ভেলভেটের লাল টুকটুকে কৌটো থেকে উঁকি দিচ্ছে সুন্দর একটা হীরের আংটি। অনামিকায় পড়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছিল মৌলি।
কখন উন্মেষ কাছে ঘনিয়ে এসেছে খেয়াল করেনি। এবার ঘুরে তাকাতেই মৌলির কাঁধ দুটো ধরে ঠেলে শুইয়ে দিতে দিতে উন্মেষ বলে, 'তোর ভালো লাগছে তো মন?'। মৌলির জবাব চাপা পড়ে যায় অচিরেই। গরম লালায় ভরে যাচ্ছে ওর মুখের ভেতরটা, উন্মেষের ঠোঁট কামড়ে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে মৌলির ঠোঁট দুটোকে। এবার উন্মেষের হাত উঠে এসেছে মৌলির ব্লাউসের ওপর। আগুন-রঙা ঢাকনা সরিয়ে দু হাত দিয়ে পিষছে, ডলছে মৌলির ক্লান্ত শরীরটাকে। ব্যথা করছে খুব ওর।
দাঁতে দাঁত চেপে মৌলি মনে মনে নিজেকে বললো 'খুব ভালো লাগছে আমার। ভালো যে লাগতেই হবে । হ্যাঁ মা, খেলা হয়ে গেছে আমার।'

আপনার মতামত জানান