জানলা

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়


স্কুল থেকে যাওয়া আসার পথে একতলা একটি বাড়ি। একটি ঘর। একটি জানলা। সাবেক কালের জানলা। কাঠের গরাদ। সেই জানলায় একটি মেয়ের মুখ। সে পড়ছে। মাঝে মাঝে পথের দিকে তাকাচ্ছে। পিঠ ছেয়ে আছে এলো চুল। ফিনফিনে নীল শাড়ি। সাদা ব্লাউজ, কানে সোনার দুল।
মেয়েটি আমার ক্লাসেই পড়ে। সকালে। টেস্ট হয়ে গেছে। সামনেই ফাইনাল। ঐ পথে একবারই যাই। স্কুল থেকে ফেরার সময় চকিত একবার তাকাই। এক ঝলকে ঝলসে ওঠে রূপ। তৈরি হয় কবিতা। সারা রাত সেতার। কোন কোন দিন চোখে চোখ ঠুকে যায়। সে রাতে চলে যাই আকাশে তারাদের সভায়। বাউল হয়ে যাই আলের পথে। মাঝি হয়ে যাই মাঝরাতের নদীতে।
একদিন সে একটি আঙুলের ইশারায় আমাকে ডাকল। সরে এলুম জানলার কাছে। মৃদু হেসে বললে- এবিটিএর টেস্ট পেপারটা একবার দেবে।
জানলার ওপাশ, জানলার এপাশ। কয়েকটি গরাদ। ফালি, ফালি ফাঁক। এপাশে ওপাশে বইয়ের আদানপ্রদান। দৃশ্যপট বদলে গেল। জানলাটা আজও আছে। ফোগলা দিদিমার মতো। সে কোথায়? জানি না, জানতে চাই না। এ জমিতে আর ফুল ফুটবে না।

অলংকরণ- তৌসিফ হক

আপনার মতামত জানান