আমাদের কথা

অভীক দত্ত



দেবীপক্ষ শুরু হয়েছে। পুরাণে আছে বটে এই সময় আমাদের ভেতরের মন্দ প্রবৃত্তিগুলি নষ্ট হয়। মহিষাসুর তো আসলে আমাদের ভিতরের মন্দ মানুষটাই। এবার যতই না বধের পর তিনি দেবীর পায়ের কাছে বসে থাকুন, একটু হালকা পেলেই তো গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে তার বেশি সময় লাগে না।


চাদ্দিকে যা মনে হচ্ছে এখন মহিষাসুরেরই নেত্য করার দিন। দেবী নিদ্রা গিয়াছেন। কোথাও নারী নিগ্রহ, কোথাও দরিদ্রদের কষ্টার্জিত টাকা লুঠ, কোথাও ভাইয়ের হাতে ভাই খুন... সব মিলিয়ে খুব একটা ভাল আছি কি আমরা? মনে তো হয় না। আসলে সবটাই ভাল থাকবার অভিনয়।
আর আমাদের ভেতরে তো বাজে ঘটনাগুলি যত তাড়াতাড়ি ভুলে যাবার চেষ্টা অনবরত চলতেই থাকে, কিন্তু মাঝে মাঝে নিজেদেরকেই প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, আর কত ভুলে থাকব? ভুলতে ভুলতে নিজেরাও তো একদিন খরচের খাতায় চলে যাব। তখন কি গা ঝাড়া দিয়ে উঠে মনে হবে, যে ঈশ, এত দিনগুলি তো আসলে আমরাই ঘুমিয়ে ছিলাম।
আরামে থাকতে থাকতে আমাদের প্রতিবাদী সত্ত্বাগুলিতেও কেমন মরচে পড়ে গেছে। কোথাও প্রতিবাদ হতে দেখলে সেখানে প্রতিবাদের রুট কজ অ্যানালিসিস না করে বরং আমরা বসে পড়ি কিভাবে সেটাকে ব্যঙ্গ করা যাবে। তাদের কিভাবে ছোট করা যাবে। কোথাও ভাল কাজ হতে দেখলে সবার আগে আমরা নেমে পড়ি কিভাবে সেটার গায়ে কাঁদার দাগ ছেটানো যায়। তাদের নামে ব্যঙ্গ করে, বিদ্রুপ করে আসলে যে আমরা নিজেদের কাজটাকেই ভুলে মেরে দিচ্ছি সেটা চোখের বাইরে চলে যায়।
যাক গে, এসব জ্ঞান দিয়ে লাভ নেই, আশায় বাঁচে চাষা, "নেতাজী আজাদহিন্দ বাহিনী নিয়ে ফিরবেন" আর "দেবী জাগবেন" এই আশা নিয়েই থাকতে হবে। বেঁচে থাকাটাই আসল, আর বেঁচে থাকাটাই যেন যত হ্যাপা হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল।
আমরা যতই উলটে দেব পাল্টে দেব বলি আসলে নিজেরা না পরিবর্তিত হলে সত্যিকারের পরিবর্তন মনে হয় কোন কালেই আসবে না। মুখে আমরা যতই বলি, আসলে ঐ আচ্ছে দিনের পরিবর্তন হয়ত ভোটের রেজাল্টেই হবে, আমাদের জীবনে তার প্রতিফলন কোন দিনই ঘটবে না।
আমি শুরুতে ইচ্ছা করেই বেলাইন হলাম কারণ কোন সময়েই আমরা মনে করি না, সমাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে কেউ সাহিত্যচর্চা করতে পারে। যে কারণে উৎসব সংখ্যাকে বেশ কিছুদিন পিছিয়ে দিয়ে "অকালবোধন" সংখ্যা করেছিলাম আমরা। স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের সাথে থাকা আমাদের কর্তব্য বলেই আমরা মনে করেছি।
আজকে আমরা উৎসব সংখ্যা প্রকাশ করলাম। উৎসব সংখ্যা প্রকাশে একটু দেরী হল বটে কিন্তু আমরা খুব ভাল করে জানি পাঠক সাদরে এই সংখ্যাকে গ্রহণ করবেন। এই সংখ্যায় আমরা পুনর্মুদ্রণ করলাম ৮টি অণুগল্প যেগুলি পাঠকদের সাথে শেয়ার করার লোভ আমরা সামলাতে পারি নি। মেনুকার্ডে থাকল গল্প, কবিতা, প্রবন্ধের লিস্টি। পড়ুন এবং অবশ্যই মন্তব্য করুন। অনলাইন মিডিয়া আমাদের তৎক্ষণাৎ মন্তব্য করার এবং লেখক/কবির কাছে পৌছনোর যে সুযোগ দেয় সেটা মুদ্রিত কাগজে পাওয়া অসম্ভব। এ ব্যাপারে প্রযুক্তির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। যে পরিমাণ লেখা আমাদের ইনবক্সে এসে জমা হয় তা অকল্পনীয়। এ ক্ষেত্রে যদি কোন ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকে, আশা করি প্রিয় পাঠক আমাদের মার্জনা করবেন।
আদরের নৌকা ভাসালাম উৎসবের স্রোতে। ভেসে চলুন... চলুক নৌকা...

আপনার মতামত জানান