তিনটি কবিতা

উমাপদ কর
মৈথুন

কী যেন বলতে চাওয়ার ঘূর্নি সাবেকের পা ছুঁয়ে একলা হয়ে যেতে চেয়েছিল
তুমি তার আষ্ঠেপৃষ্ঠে সম্পর্কের পশরা সাজিয়ে দিলে
তুমি তার টুংটাং নিয়ে অনেক তলের স্থির নিরবধি লক্ষ্য করে যাচ্ছিলে
তুমি তার ঘাগরার নিচে বসন্ত বনের কয়েকটি ফুলের ফুটতে থাকায় অনুঘটক
ফিরতে পারছিলে না আর বিকেল বেলার ফুটনোটে
ঝঞ্ঝা নিজস্ব ভঙ্গীতে জুড়িয়ে যাচ্ছিল যৌনক্রমে...

শৌখিন ফুটে উঠবে দূরের বসার ঘরে, আলোর কিসমিস ঘিরে পতঙ্গ ঠোঁট
কোনো এক প্রাচীন কিস্যার গা থেকে খুলে খুলে পড়বে নিকানো ডাঙা
পথের প্রায় অন্তে এসেও বাদামি বরফ ভুলে যাবে অভিসার
তুমি তার ভূমি আমূল নাড়িয়ে বাঁকানো হাতের আঙুল নাড়াবে
প্রিয় কে প্রিয়তম করতে আর কোনও উপাদান সেভাবে ছিল না
ডুবে যাওয়ার আগে বরফে ঘূর্নির রঙ আমরা অনেকেই দেখে যেতে থাকব...



পাখা

ইচ্ছেমৃত্যুর দিক থেকে ফিরে এসে ঘুমিয়ে পড়ে অচেনা অন্ধকার
কে হারাবে তার শুকনো খয়েরি থেকে
কে নেবে তার পাষাণ ভার থেকে মুক্তি খোঁজার ডানা
তলিয়ে যাবে বলে তো ভেসে থাকতে চায়নি প্রাচীন প্রবচন
এসো এসো হাত ধরে বসালো যেখানে জটিল জলভাঙা
হা-হা-হা হাসি এখানে এসেই শর্ত সাপেক্ষে শর্তমুক্ত হল...

শখের বাজার এখানে সেখানে দেয়াল তুলেছে রোদের
আলো এসে খেলছে লুডো
পরতের থেকে পরত শুধুই খসে পড়ছে পাশ ফিরে শোওয়ায়
সুরা খুলতেই পারে ঠোঁটের ছিপি
খুলতে পারে জমানো চা-চামচের অফুরন্ত কথার খোলস
পায়ে পায়ে এগিয়ে যাওয়ার চুমকিতে ঢিলে হয়ে যায় বুক-বাঁধুনি...

রে রামকথা বিবশ হওয়ার আগে একবার খুলে নে চাপকান
চিঁড়েভেজা হয়ে যাক বিউটিপার্লারের মায়া আর লাবণ্যের আকর্ষণ...



সন্ধারতি

দোলার খুনসুটিতে চাঁদের সুড়সুড়ি লাগে
বেঁকে বসলে অমাবস্যা

জানালার পাশে এসে অন্ধকার হালুম হুলুম খেলে
কেউ কোত্থাও নেই কে স্বাগত জানায় ঠোঁটের লিপস্টিক
মায়া মায়া ফিঁকে ভাব অজান্তেই এক গোলকধাঁধার শরীরে
কি যেন কী ভেবে জড়িয়ে যেতে ভালোবাসে

কাউকে তুক করলে সে তোমাকে তাক করতেই পারে
বেজে উঠতে পারে সারা শহরের ড্রাম-বিট
মনকে ভাসিয়ে নেওয়ার ভেলা জনান্তিকে জানিয়ে রাখতে পারে
তার অসম্ভব অনসূয়ার পেছনে আলেয়া ছুটের কথা

যাবে না, যেদিকে যাওয়ার কথা ছিল হট্টিটি পাখিটির
সে শুধু আলো মখমলে ভাসবে বলে ডানায় অন্ধকার মেখেছিল
দুলতে দুলতে সে দেখে যাচ্ছিল চাঁদের ভর ভরন্ত
তার চোখে চোখ রাখা প্রদীপের আলোয় চোখ ধুয়ে নিচ্ছিল জানালা...

আপনার মতামত জানান