পাঁচটি কবিতা

স্বপন রায়
১।
এক পেগ পৌরসময়-১


স্কুলে এখনো তেজী শিক্ষিকা আর রোদ আসেনি
আমি এলাম
এসেছিলাম ব’লে হাল্কা ট্রিগার হারিয়ে গেলো
বাসস্টপের আজব তরঙ্গ
প্রায় টুকটুকে
লিখে দিচ্ছে কে জানে কিসের শেষ লাইন
আমি তো একটা নদিও পেরোলাম
নদী না শিরদাঁড়া

ছায়া - ঘুমঘুম পোয়াতির পাশে পিস্তলও বেশ খেলনা

স্কুলে ঘন্টা বাজলো

আমি এলাম ব’লে     শিক্ষিকা এলেন বলে     নাকি শিরদাঁড়া না নদি
                                                       কে এলো আমার সঙ্গে
এই সংশয়ই ওই ঢং ঢং ঢং

খুব হাসছে ভাবী মা পিস্তলের তুলনাপ্রতিম কিছু ভেবে...

২।
সিনেমা সিনেমা-১২
চোখ জ্বলে
ব্যবহার লেগে থাকে

বারান্দাও গাউনের প্রান্তে লেগে থাকা সূঁচের কারুকাজ

থাকে পাশাপাশি দেখে কি ভাবে ফুরিয়ে যাচ্ছে
আবছা ব্যবহৃত চশমা
যা দেখেছিলো রেশম      দেখেছিল দাহ্য গুটিপোকা
সে তো প্রান্তর
                 গাউনের সেইতো সাঁকো
                      কে আর কাজের দিনে পেরোবে

মিলন! মিলন!!
শব্দটা মনে পড়লো?

৩।
রিয়া আবার-১৪
অনুমানে একপিস, সান্দ্র কমলাতেও     ছিঃ বললো
                               রেউরে মিশলো সন্ধ্যার টকি
বি
রতির আগে

এম্মা
এ তো সেই ঘোর লাগা ঘের সারাটিজীবন হয়ে কাঁপা

টকিতে গওহরজান একটি রুমাল ছিল ব’লে
                                                 কিছু চেপে রাখা
মুছে ফেলার দাগও কিছুটা....


৪।
রিয়া আবার-১৫

হাস্কি গমের বুকে কট্টর উল না হয় বিকেলফেরত আস্কারা
দাগ ছিল
দাগে শেরিশেরি ধুকপুক
“এই শোনো” বলার পরেই জানলায় পড়ে রোদবিহান আলো

রিয়া

জীপ টায়ার পরছে, কবেকার বটুয়া যাচ্ছে পানের রন্ধ্রে নাকি কিছু পরছো বলে

শব্দটা
শব্দরা

গমের রং তো কবে থেকেই নিবাসী রিয়ার শীতে শীতে বাহারী উলেন

৫।

রিয়া আবার-১৬

সেই জল
কাপের ভেতরে
কফি বনাবার শব্দে

আর চাঁদও অত আঁকা মনে হচ্ছে না যে পাল তুলে দেবে নৌকো

জলে
কে যেন সরল বাসের জানলা মেশায়
সে নামে
সে যায় জাফরিয়ানা ভেঙে ভেঙে

জল
কফির স্পিন
আজ কোন শব্দেই গ্রীষ্ম হবে না দেখে বৃষ্টিও দু চার ফোঁটা

সে তখন
রেনকোটের পুরোটা যখন গোধুলিরিঝিমে সিপিয়া

আপনার মতামত জানান