তিনটি কবিতা

অনিন্দিতা গুপ্ত রায়
১।

আততায়ী
নিরুত্তরের দিকে একতরফা স্তব্ধতা। কতদূর এরকম ধোঁয়া হয়ে থাকতে পারি...প্রচ্ছদচিহ্নে। ভাবো এই জরুরি স্পেস্‌ ছাড়া আর কিছুমাত্র নই। মাত্রা যতি খুলে খুলে হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে চিহ্ন। হাতআয়না জুড়ে চোখহীন কোটরকাহিনী। লাফ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে উচ্চতা, হালকা একেকটা ধাক্কা। ভার্টিগো রাখছে গাছের আলতোয় শরীর, আলুলায়িত। হাতছানির কাছাকাছি ঘুরেফিরে শীতকাল, লঘু চালে। অথচ ভারি হয়ে ওঠা চশমার কাচ থেকে বাস্পবিতান। মৃত্যুসম্ভাবনার কথা কেউ ঘোষণা করেনি, এইমাত্র।

২।
ডিসেম্বর
এক ফালি ডিসেম্বর
হাত বেয়ে নামছে, পারদস্তম্ভে
গাঢ় রঙ উপ্‌চানো থেকে পালক ভিজানো
শরীরের কুয়াশামহল
পাকদন্ডী টপকানোর গল্প খুঁজতে বেড়োয়
যেভাবে আলো
পিছন থেকে ডাকে, পিছনের দিকে
ভ্রমের অসুখে হাত রেখে
সেইসব সিঁড়িদের আলগোছে
নিরম্বু সারাদিন
রাতের তরলে ভিজে
একা একা মরে যেতে চাওয়া
অনেকদূর অবধি শিশির হয়ে আছে শহর, অস্পৃষ্ট
দ্রবণের স্বচ্ছতায়
নাছোড় বালিকণা -- না ডুবি, না ভাসি
বিরল স্মৃতির পাশে হাঁটুমুড়ে কফিকাপ, পুরোনো কলম

৩।

দৃষ্টি
অনেকদূর অবধি শূন্য এঁকে
মাঝামাঝি থেমে থাকা রেখাগুলো
সারাদিন ধরে আত্মরক্ষার গল্প মেলে রাখে
তার নাম রাখি বৃত্ত
তার দশ দিক ঘিরে সুঁড়িপথের চলন
পাপড়ি খুলে খুলে
ইশারা ও ইঙ্গিত টুকে নেয়
সিঁড়িহীন একটা উত্তলের পিছলে
মায়োপিয়া জমে
কিছুটা ভেজা ভেজা দুপুরের
কেন্দ্র লক্ষ্য করে হাওয়া
আর হাওয়া ফাটিয়ে রঙ উড়ে গেলেও
সেইই সাদা; মানে না থাকা
যা চোখে দেখোনি তাকে তো না- ই বলবে

আপনার মতামত জানান