তিনটি কবিতা

নভেরা হোসেন
বৃষ্টির নির্জনতা

১.
ঝিররঝির নয় ক্যাটস অ্যান্ড ডগ
একটা সাদা বাস মুষল বৃষ্টিতে
ছাতা হাতে পুলিশ, গোলাপি স্কার্ট নারী
রোজ নিয়ম করে বৃষ্টি নামে
আজকাল মরম্নভূমিতেও অনেক বৃষ্টি হচ্ছে
ইশারা খাজ্জানের দোতলায়
নীল মুখ মেয়ে কফি হাতে বসে
পাশের দরজায় মিশরীয় যুবক
মুখোশের আড়ালে ঢাকা পড়া চোখ
আলতামিরার গুহাচিত্র এখন ওল্ড ফ্যাশন
সিগারেট হাতে নারী তেহরানের দেয়ালে দেয়ালে
চেন্নাই ট্রেন খুব লেট করছে
তূর্ণা নিশীথাও
এরা কখনো পরস্পরকে ক্রশ করবে না
দুর থেকে কেটে চলে
হাতের কব্জি
তর্জনীয় ঝড়

২.
রোদ ভাল লাগে না
বৃষ্টি? তাও বেশিক্ষণ না
তোমার লম্বা হাত যখন পিঠ ছুঁয়েছে
ভাল লাগছিল
চুল ছুঁতেই ভাল লাগল না
অপেক্ষার শেষে যে দ্রাক্ষাফল ঠোঁটে নেই
ঠোঁট ভিজে যায়
তুমি ভেজো না আমিও না
বেশিক্ষণ তোমাকে ভাল লাগে না
বেশিক্ষণ আমাকেও ভাল লাগে না...




অশ্বখুর

গ্লাসিয়ার কাটতে কাটতে দূর্বা ঘাস
বিছানায় রেশম কুশন ছাড়া তুমি আনকাম্ফর্ট্যাবল
বেনসনের ধোঁয়া উড়িয়ে কপালের চুল সরাতেই
এক ঝলক ঝড়ো হাওয়া
দুহাত পেছনে সরিয়ে সোজা ঢুকে পড়লে
দরজার লক খুলে
উহ্‌ একটা পাথরের চাঁই
তুমি বুঝতেই পারলে না
বৃষ্টি ঝরছিল অনেক কাল
তোমার অশ্বখুর ভেঙে ফেলল
শির ম্যাথম্যাটিক্সের আন্তর্জাল



তোটক যুবক

চোখে প্রগলভতা
গলায় মোলায়েম ধ্বনি
একরাশ ক্রিসেনথিমাম হাতের মুঠোয়
এখান থেকে বাস ধরে সোজা শাহবাগ
ওখান থেকে ট্রেনে শিমুলপুর,
বিনয় মজুমদার এই মাত্র স্নান সারলেন
মধ্যাহ্নে সাদা ভাত, কলার মোচা
এক নলা খেয়ে আরেক নলা পুষু বিড়ালকে
মার্জারাড়্গী দোহারা মেয়ে
বারান্দায় শঙ্খ হাতে
তোটক তাল কাটছে
হাত ছুঁতে চাইলে এখনই
রেইন কোট ভিজে সপসপ
কথা না বলেও অনেক কথা বলা হয়ে গেল
শোনবার জন্য তুমিও আজ অপেক্ষায় নেই...

আপনার মতামত জানান