কাঠের বিকেল রং

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
২০

কতবার তোমাকে দেখেছি এই বালির জেলখানায়
নামহীন বন্দী অনির্দিষ্ট গতিপথ
বাবা, তুমি হারিয়ে ফেলছ চিরকুট
কিছু ক্ষয়াটে অক্ষর লুকিয়ে রাখছ
রঙচটা দুপুরে তুমি খুঁজে চলেছো লং প্লে রেকর্ড
বেরোবার চেষ্টায় তোমার কাতর ছবি
পরিবার, ছুটির দিন, তোমার মত বাংলায়
কিছু নদী তার পোস্টাল স্ট্যাম্প লাগা
যাতায়াত নিয়ে তোমাকে আক্রমণ করছে


২১

পরপর মোমের পাতাগুলো ভিজে ওঠে
কী নাদ্য এই ফুল তার আকস্মিতার শীতকাঁটা
বাবা তোমার সঙ্গে কথা বলা মানে
দানিয়ুব দিয়ে ভাঙা লেনিনের মূর্তি চলে যাওয়া

তুমিও তো দেখেছিলে – প্রতিদিন লাফিয়ে ওঠা
শ্যাওলা কীভাবে গানের গলায়
কীভাবে এই রাস্তা প্রাণপণ তোমাকে দীর্ঘ বিস্তারের
শুদ্ধ কল্যাণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল
শুদ্ধ সন্ধ্যা – তুমি না হওয়া সময়টার দিকে চলে যাচ্ছিলে
বেরনো শব্দটায় জোর, সেই পুরনো পাড়া
আফিম ও হলুদ নিয়ে জ্বলে থাকা জানলাগুলো
কে খুলে দিচ্ছিল এই বাড়ি দিয়ে ঘেরা পার্কে
তুমি কুঁকড়ে যাচ্ছিলে
কিছুতেই বাড়ি না ফিরতে চাওয়ার নাম নভেম্বর
তোমার সামনে লাফিয়ে ওঠা ১৯৮৯

আমার অপেক্ষা রাগান্তরে
বিস্তারিত রাস্তা একটা সাদা চাদর মোড়া বন্দিশালায়
এনে ফেলে, আমি বুঝতে পারছি না কেন এত জল চারদিকে
জানি না জ্যান্ত সন্ধের রঙে ঝকঝক করছে জলযান
তুমি মনে করাচ্ছো দূরগামী নৌকার উপযোগী
কাঠের অভাবে আমাদের উপনিবেশ ছিল না

আপনার মতামত জানান