তিনটি কবিতা

শৌভ চট্টোপাধ্যায়
বিকেল
রই-রই করে ওঠে দিন, তবু চলে যায়
চোখের কিনারা ছেড়ে কবুতরগুলি
                 দূরে, ওই কার্নিশের পাশে
অচেনা বিকেল এসে রোগা-রোগা হাতে
                            ভিক্ষে চায়

কে বলেছে অবসাদ?
তোমাদের যাওয়া ছিল অপূর্ব হরিণ—
                            চোখে তার দাগ লেগে আছে!

উঠোন
বহুদিন আগে, আমি উঠোনে সাপের খেলা দেখামাত্র মূর্ছিত হই। সেই মূর্ছা এখনও ভাঙেনি। অনেক ওষুধ ও বিষ পর্যায়ক্রমে শরীরে ঢোকানো হল। কালো কালো শিরা থেকে টেনে বের করে আনা হল রক্ত-পুঁজ-ঘাম। তবুও, পারতপক্ষে আমি একা উঠোনে নামি না। মনে হয়, চারিদিক থেকে, সাপুড়েরা ডেকে উঠছে হই-হই করে। ওদের খেলার টাকা দেওয়া বাকি। ওরা তাই ঝাঁপি হাতে আমার বাবাকে খুঁজছে।

মাঝেমধ্যে, ভোরবেলা, জানলা দিয়ে দেখি, শিশিরে মূর্ছিত জবা পড়ে আছে উঠোনের কোণে। 

সম্পর্ক
এবার নতুন করে ভাবতে হবে বস্তু আর মানুষের সম্পর্ক নিয়ে। দেখতে হবে, কীভাবে আমিও পকেট থেকে রুমালের বদলে বের করে আনতে পারি পায়রা ও খরগোশ। আমার মাথায় ভারি হয়ে চেপে বসেছে আকাশ। খুব ইচ্ছে করছে, একটু কফি খাই!

দেয়ালের ওপর আমার যে ছায়াটি পড়েছে, তার থেকে আমি কাকে চিনে নেব? কে পড়ছে এই দুরূহ গ্রন্থ ও তার অক্ষর? পাখির হাড় যে বাঁশির মতো ছিদ্রময়, ফাঁপা, তুমি না বললে আমি তো জানতেও পারতুম না!

আপনার মতামত জানান