তিনটি কবিতা

জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্নেরা

প্রশ্নেরা জন্মায়নি তখনও
উদাসীন ভেবে নিলে
প্রশ্নেরা এলো একে একে
নাম দিলে কৌতূহল
প্রশ্নেরা জড়িয়ে থাকলো ঘিরে
বিরক্তি নিলো অঞ্জলী ভরে
প্রশ্নেরা দূরে সরে গেলো
হাঁফ ছেড়ে বাঁচলে
বাঁচল প্রশ্নেরাও
গায়ে লাগা উত্তরগুলো খেয়ে।
তারপর,
বালি হয়ে গেলো
তোমার ওড়নার ঢেউয়ে
অযত্নের বাতাসে হাওয়ায় মিশে যেতে যেতে
অনেক মাইল পথ
তারপর,
উত্তর বুনতে বসলে নিজেই
শাড়ীর আঁচলে সেই সব
বালিদের দানা খুঁজে খুঁজে।


প্রতিটা রেগিস্তানের বুকে
একদিন নদী
বা
সাগর
শুকিয়েছে
ধূ ধূ বালির চরাচর দেখো
ঠিক দুপুর অবসরে
এলিয়ে থাকা আঁচলের মত
অযাচিত উত্তর জেনো।

সোপ- কেস্‌

কয়েক টুকরো সাদা সাবান
কুয়োর পাড়, কলতলা
ভিজে কাপড়ের গন্ধ, ছিটকে যাওয়া
বুদ বুদ ভিজে, ভেসে ভেসে

কয়েক টুকরো সাদা সাবান
গলতে থাকে
গলতেই থাকে দাগ তুলতে তুলতে
ছোপ ছোপ সিমেন্টে, হড়কা পিছল

কয়েক টুকরো সাদা সাবান
খুব খুব চেনা, চেনা ঘ্রাণ
দড়ি ধরে উড়ে উড়ে ভাসছে রঙিন
আঁচল আঁচল সাজ সেজে

কয়েক টুকরো সাদা সাবান
বেসিনের খাঁজে ধুয়ে ধুয়ে
কানের পেছনে উঁকি ফ্যানা, ভুরু আশ্রয়
টপ টপ পড়ে, শুকোয়ে, আর হারায়।


টুকরো টুকরো গুলো খাঁচার ওপারে
মাথুরের চাঁদ হয়ে যায়।


দেখা যায়, ভিড়ে...

জড়িয়ে রেখেছে ত্রাতার কম্বল
         অনুদানের গন্ধ নিয়ে
বেদখল ফুটপাথে, মজা পুকুরের ঘাটে, হঠাৎ বৃষ্টির সাথে
আত্মমগ্ন উদাসীনতা কিংবা অহেতুক কৌতূহলে -
              দেখা দিলেও, ধরা দিলো কই?
যদিও বা এক সাথে অলীক যাপন
পাঁজরের অলিন্দে রোদ, অবরোধ
আড়ালে সে নীরবতাও ভিন্ন
         থেকে গেছে সে গাছের পাতায় পাতায়।

দেখা যায়, ভিড়ে... হাট- বারে
              হাট, যেথা বেচা- কেনা হয়!
উবু হয়ে বসে আছে,
প্রতীক্ষার সিঁড়ি ফেরি ঘাটে
              স্রোতের এদিক ওদিক;
নদীর ওপার দেখা নয়
ভাসার ইচ্ছে ছুঁয়ে
         জানলাও খেয়া হয়ে যায়।

আপনার মতামত জানান