সবজেটে গ্রীন ক্যাম্পাস

পঞ্চম পর্ব
(৬)
মামাল্লাপুরমের নটিলাসের গলির মুখে একটা ছোট্টো ক্যাফে আছে। নাম বুদ্ধা ক্যাফে। ছোট্টো খড়ের চালের ছাউনি। কয়েকটা সিকিমিজ ছেলে ক্যাফেটা চালাতো। খুব ভালো বিফ স্টেক পাওয়া যেত। অন্যান্য আইটেমগুলোও মন্দ করতো না।
পিনাকল থেকে ভায়া ইস্ট কোস্ট রোড মামাল্লাপুরম যেতে মিনিট কুড়ি টাইম লাগতো – টাটা ম্যাজিকে। এই গাড়িটার পেছনেও একটা ছোট্টো ইতিহাস আছে। মার্কেট রিসার্চে নাকি ফল বেরোয় যে অ্যাভারেজ ইন্ডিয়ান প্যাসেঞ্জার এবং গুডস ক্যারেজ ড্রাইভাররা তিন চাকার মেহনতী অটোর থেকে– চার চাকার সাধারণ গাড়ি বেশি প্রেফার করে। কারণগুলো বিবিধ – সিকিউরিটি, চার চাকার ভ্যালু অ্যাডেড গ্ল্যামার এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে গোবলয়ে বিয়ের বাজারেও দাম বেড়ে যায় চার চাকার মালিকদের।
সেসব মাথায় রেখেই ভারতের পালসকে অ্যাজ অলওয়েজ পড়ে ফেলে টাটা এস গুডস ক্যারেজটির বুনিয়াদ গঠন- চার চাকার গাড়ি, তিন চাকার কাছাকাছি দামে। টাটা ম্যাজিক গাড়িটির উৎপত্তি মোটামুটি কিছু আগে পরে, এসের প্যাসেঞ্জার ভেইকেল ভার্সন হিসেবেই – এই মোটামুটি ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা।
তো পিনাকলের কাছে এই গাড়িটির যা প্রয়োজনীয়তা ছিলো – স্বয়ং অর্জুনও কপিধ্বজ রথকে অতোটা দরকারী মনে করতেন না বোধহয়। সিম্পল কারণ – ওনার কাছে অপশন ছিলো।
অপশন পিনাকলের কাছেও একটা ছিলো – গেটের জাস্ট পাশে নির্মলা বলে একটা রেস্টুরেন্ট ছিলো – যেখানে ননভেজ খাবার এবং কিংফিশারের বিয়ার পাওয়া যেতো। ননভেজের আন্ডারলাইনটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না – এক্সপ্লেইন করে দিচ্ছি।
পিনাকল যেহেতু গ্রিণ ক্যাম্পাস ওখানে মাংস-মদ ঢোকানো বারণ সে তো আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু ভিতরেও আমিষের এক চিলতে সুলক্ষণ দেখা যেতোনা। তবে নিরামিষ এম্নিতে কিছু খারাপ জিনিস নয় – সেটা থোড়-বড়ি সমৃদ্ধ হয়ে খাড়া হয়ে থাকলে দিব্যি চলে যায়। বাঙালি রসনায় রস্‌নার চাইতে কম প্রিয় নয় মোচা, এঁচোড়, লাবড়া, কোপ্তা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু রোজ সকালে উঠে যদি কয়েকটা অর্ধমৃত পুরী, কিম্বা দুর্ভিক্ষের রেশনে বেঁচে যাওয়া শুঁটকো ইডলি, কিম্বা এক হাতা পোহা (চিঁড়ে) জোটে কপালে – আপামর ভারতবাসীর মন তাতে একটু বিক্ষুব্ধ হয় বইকি। এমন কি তামিলপুঙ্গবরাও সজোরে ঘাড় নেড়ে বলতো – ‘সাপ্পাড়ু (খাবার) নট গুড মাচ্ছা’।
এই ফাঁকে ‘মাচ্ছা’ ওয়ার্ডটার সম্বন্ধেও একটু কথা বলে নেওয়া যাক। আমরিকি ‘ড্যুড’, কিম্বা আসমুদ্রহিমাচলের ‘আরে ইয়ার’ শব্দগুলোর সাথে এই শব্দটার হরিহর আত্মা রিলেশন। মিনিংটা প্রায় একই। ওই ব্যাটা, এই শালা গোত্রের। মাচ্ছার একটা স্ত্রীলিঙ্গও আছে – মাচ্ছি। বোধহয় একটু ডাস্কি তামিল ললনারা পাঁকাল মাছের মতো পেছল হন বলেই।
যাগগে সেসব কথা – নির্মলায় ফেরা যাক। নির্মলায় ননভেজ পাওয়া যেতো – সত্য। কিন্তু কি পাওয়া যেত? হাড় বের করা চিকেন সিক্সটি ফাইভ, কারিপাতা গজগজ করা আর ঝালের লাইনে শেষ কথা মাটন বিরিয়ানি, আর থকথকে গ্রেভি সমৃদ্ধ বিশুদ্ধ তামিল ডেলিকেসি চিকেন চেট্টিনাড়। প্রথম প্রথম মন্দ লাগেনা। কিন্তু পনেরো কিলোমিটার দূরেই মামাল্লাপুরমের মতো একটা স্বর্গ থাকলে ‘কে আর হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে’।
তাই ম্যাজিক – তাই – বুদ্ধা ক্যাফে।
মৃগাঙ্ক ছেলেটা একটু আধটু গান গাইতে পারতো। আর পারস্য ডিসেন্ট রাধিকার একটা পাতি গিটার ছিলো। ওদের পুরো গ্রুপটা মানে মৃগাঙ্ক, রাধিকা, মোহিত, পুনম, বিলাস আর দোলনা মাঝেসাঝেই বুদ্ধা ক্যাফেতে হ্যাঙ আউট করতো। রাধিকা একটাই ভালো গান ঠিকঠাক কনফিডেন্টলি বাজাতে পারতো – হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া। তো বুদ্ধা ক্যাফেতে প্রায় রোজই সিগারেটের ধোঁয়া, সিজলারের ছ্যাঁক ছোঁক, দু’পা দূরের বঙ্গোপসাগরের ঘ্যানঘ্যানে হাওয়ার সন্ধেবেলাগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সেই ‘সাচ আ লাভলি প্লেস’ মিলেমিশে যেতো।
সেদিনও তাই হচ্ছিলো।
দোলনা সেদিন জাস্ট একটা বিয়ার নিয়ে বসে ছিলো। ওদের গ্রুপে ও ছাড়া কেউ বিফ খেতোনা – তাই গোহত্যা হয়নি সেদিন – অ্যাটলিস্ট ওদের কল্যাণে।
রাত তখন প্রায় ন’টা। পিনাকলের নিয়ম অনুযায়ী সাড়ে দশটার মধ্যে না ঢুকলে গেট বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর তোমার বাইরের নির্জন ই-সি-আরে (ইস্ট কোস্ট রোডকে এরপর থেকে এই অ্যাব্রিভিয়েশনেই ডাকা হবে) মোক্ষপ্রাপ্তি হলেও কর্তৃপক্ষ দায়ী না।
পুনম বারবার একটা চেনা ম্যাজিকওয়ালাকে ফোন করছিলো – ফেরবার সময় বাহন হিসেবে রাজি করাতে। কিন্তু ফোনে পাচ্ছিলো না।
দোলনা বিয়ারের শেষটুকু বটমস আপ মেরে নিয়ে হঠাৎ করে বলে উঠলো – ‘মৃগাঙ্ক বাঙলা গান শোনাবি একটা?’
বিশুদ্ধ বাঙলায় বলা এই কথাটার মাথামুন্ডু বুঝতে না পেরে রাজধানীতনয় মোহিত বলে উঠলো – ‘মতলব?’
দোলনা পাত্তা দিলোনা – বললো – ‘আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি গানটা জানিস? মহীনের – দিব্য মুখোপাধ্যায়ের। বাবাই শোনায় আমায়’।
দোলনার দাদু অমিয় সেনগুপ্ত অনেক বড়ো বড়ো সিঙ্গারের বেশ কাছের লোক ছিলেন – মান্না দে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় অনেকের ব্যাক্তিগত বন্ধু ছিলেন। তাঁর ছেলে হিসেবে গৌরব সেনগুপ্ত মোটামুটি সরগম, মীড়, মুখরা, অন্তরাদের মধ্যেই বড়ো হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে ভদ্রলোক যেকোনো বাদ্যযন্ত্রই প্রায় বাজাতে পারতেন। দোলনা বলতো – ‘এনি মিনস্‌ এনি’। তবে দোলনা গান টান শেখার চাপ নেয়নি – রক্তে যেটুকু আছে তাতে মোটামুটি সুরে গায়। নিজের বলতো ‘আমার বাবাই জিনিয়াস আর আমি জিনিঅ্যাস’।
তো গৌরব সেনগুপ্তর মহীনপ্রীতি আজকের নয় – মহীনের প্রথম যে শো হয়েছিলো সাতাত্তরে যোগেশ মাইম অ্যাকাডেমিতে, সেখানে উনি দর্শক ছিলেন একজন। তারপর থেকে মোটামুটি দর্শকের দূরত্বে থেকেই ব্যান্ডটার উত্থান-পতন-পুনরুত্থান দেখেছেন।
মৃগাঙ্ক লিলুয়ার ছেলে। হারমোনিয়াম বাজিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখেছে বছর আটেক। বিদেশী গান প্রথম শোনা কলেজে ঢুকেই – আর মহীনের অনেক গানই ও শোনেনি। দিব্য মুখোপাধ্যায়ের এই মাস্টারপিসটিও তাদের মধ্যে একটা।
দোলনা নিজেই খালি গলায় গাইতে শুরু করলো – নীল দেওয়ালের বাড়িটার গান – যার ঠিকানা নেই কিন্তু চিলেকোঠা আছে।
পিনাকলে একটা নিয়ম ছিলো দোলনাদের ব্যাচে – সব স্টুডেন্টকেই কোনো না কোনো কমিটির মেম্বার হতে হবে।
দোলনা সেই পূর্বোল্লেখিত অ্যাডমিশন কমিটির একজন দুর্ভাগা মেম্বার ছিলো – গ্রিণ হর্নদের গ্রিণ ক্যাম্পাসে সিলেকশন ছিলো ওর দায়িত্ব।অ্যাডকমের হোতা ছিলেন প্রফেসর অচ্যুতানন্দন। পিনাকলের প্রফেসরদের মধ্যে সবচেয়ে জুনিয়র। আই-আই-টি খড়গপুরের ইলেকট্রিকাল এঞ্জিনিয়ার ছিলেন। পিনাকল যে বছর শুরু হলো হঠাৎ করে কি মনে হওয়ায় এম-বি-এ সেরে ফেলতে জয়েন করে ফেললেন এবং টপার হলেন। তারপর পিনাকলেই প্রফেসর হিসেবে ঘাঁটি গেড়েছেন – পড়াচ্ছেন এবং অ্যাডকম সামলাচ্ছেন।
মোটামুটি জিডি-পিআইয়ের সময় ভলান্টিয়ার হিসেবে অ্যাডকমের মেম্বারদের মধ্যে থেকে শহর বেসিসে লোক চুজ করা হতো। যে মেম্বারের অরিজিন যে শহর তাকে সেই শহরের ভলান্টিয়ার করা হতো – সেই নিয়মেই দোলনা কোলকাতাতে ভলান্টিয়ার ছিলো।
দোলনা টানা বেশিদিন কোলকাতা না দেখে থাকতে পারতো না। তাই মাসে দু’মাসে একআধবার চলে আসতো। কম্পল্যান বয়েসের দুই বান্ধবী ছিলো ওর – তিস্তা আর মধুরা। তাদের সাথে হুটহাট এপাশ ওপাশ ঘুরে বেড়াতো। আবার দু’তিনদিনে আশ মিটিয়ে পিনাকলে চলে যেতো নেক্সট মনকেমন পর্যন্ত।
তবে এবার এসে আর ঘুরে বেড়ানো হয়নি।
অ্যাডকমের কাজ ছিলো আর বাবার শরীরটা ভালো যাচ্ছিলো না।কয়েকদিন ধরে ডানদিকের কিডনির কাছে একটা পেইন হচ্ছিলো। প্রথমদিকে গ্যাসের ব্যাথা ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে দেখলেন – কিছুই হলোনা। চুপচাপ মেনে নিয়ে বাড়িতেই বসে ছিলেন।
দোলনা বাড়ি ফিরে প্রথমে মিষ্টি কথা বলে তারপর চিল্লামিল্লি করে শেষমেষ ডক্টরের কাছে নিয়ে গেল। ডক্টর মিহির বসু ওর বাবারই স্কুলের বন্ধু।
ব্যাপারটা দেখে ওনার ভুরুটা হাল্কা সেকেন্ড ব্র্যাকেটের শেপ নিলো।
‘ক’দিন ধরে হচ্ছে?’ - ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন।
‘এই সপ্তাহ দেড়েক’ – দোলনা বললো।
‘একটা ইউ-এস-জি করিয়ে নে বুঝলি, কিডনির আশেপাশে ব্যাথা। অনেক রিজনেই হতে পারে। রিস্ক না নেওয়াই ভালো’।
দোলনা আর ইউ-এস-জি টা করিয়ে আসতে পারেনি। পরদিনই জিডি-পিআই ছিলো পিনাকলের। তারপর দিন ফেরৎ চলে আসতে হয়েছিলো।
আজকে রিপোর্ট এসেছে। একটা অ্যাবনরমাল গ্রোথ দেখা যাচ্ছে ডানদিকের কিডনিতে – সেটা টিউমার হচ্ছে। ম্যালিগন্যান্ট কিনা সেটা জানতে আরো কয়েকটা টেস্ট করতে হবে।
দোলনা একা একা সমুদ্রের দিকে যাচ্ছিলো।
বাকিরা দাঁড়িয়েই ছিলো বুদ্ধা ক্যাফের সামনে – পুনম ফোন করে ম্যাজিক ড্রাইভারকে পেয়ে গিয়েছিলো। সে আসতে আরো মিনিট দশেক বাকি ছিলো।
দোলনা অনেকটা এগিয়ে গেছে। বীচের কাছে – পিজা হট (হাট নয়, হট) বলে একটা ছোট্টো পিজার দোকান আছে – সেটা ছেড়েও খানিকটা এগিয়ে গেছে।
চারপাশে বিশেষ কেউ নেই – শুধু একটা ফ্রেঞ্চ কাপল প্রথম রাত্তিরের নেশা উদ্‌যাপন করতে করতে বিজাতীয় শব্দে প্রেমের আন্তর্জাতিকতা পালন করতে করতে ফেরৎ আসছে বীচের দিক থেকে।
‘তু পাগল হো গ্যায়ি হ্যায়?’ – বিলাসের গলার আওয়াজে থামলো দোলনা।
‘একা একা এতো রাত্তিরে বীচের দিকে যাচ্ছিস? বিয়ার চড় গ্যায়ি হ্যায় ক্যায়া তুঝে?’
দোলনা ফিরে তাকালো। চোখদুটো, দোলনার শিকারী ওয়াইল্ড ক্যাটতুল্যা সদা উজ্জ্বল চোখদুটো নিস্তেজ ছিলো – দুটো সাদা কালো শিরা উপশিরা আঁকা হাতির দাঁতের তৈরী বল যেন।
দোলনা কেটে কেটে বললো – ‘স্টপ ফলোয়িং মি বিলাস’।
বিলাস, অপেক্ষাকৃত এই ঠান্ডা দোলনাকে চিনতো না – ‘ক্যায়া হুয়া হ্যায় তুঝে?’
দোলনা এবার সোজা চোখে বিলাসের দিকে তাকালো, আর একবার ঘাড় ঘুরিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকালো। তারপর কাঁধের ব্যাগটা থেকে থেকে ওর মোবাইলটা বের করে, একটা এস-এম-এস বের করলো। বিলাসকে পড়তে দিলো।
তারপর বললো – ‘এস-এম-এসটা ডিলিট করে দিস তো। আমি অনেকবার চেষ্টা করেও পারলাম না’।
তারপর কোনো উত্তরের অপেক্ষা না করে রাতের বঙ্গোপসাগর স্পর্শ করতে হনহন করে এগিয়ে গেলো।
বিলাস, এস-এম-এসটা পড়লো। ইংলিশে এস-এম-এস। যা লেখা ছিলো তার বাঙলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় – কাকুর ব্যাপারে কিছু প্রয়োজন হলে বলিস। সেন্ডারের নাম কলার আইডিতে এখনো সেভ করেই রেখেছে দোলনা – তাই বিলাস সেটা দেখতে পেলো – ঋতায়ণ।
সমুদ্রের মতো আমাদের শরীরের ভেতরের অনেক তরল পদার্থও যে আসলে নোনতা – সেটা আমরা মাঝে সাঝে প্রায় ভুলতেই বসি। না?
...
একটা ইনসিডেন্ট যেটাকে প্রায় কোইনসিডেন্ট বলা চলে – সেটা এখানে লিখে ফেলা দরকার। না লিখলেও ক্ষতি হতো না কিছু। কিন্তু গল্পের প্রয়োজনে ঘটনাটা লিখে ফেলা দরকার।
জিডি-পিআই এর দিন দোলনা পি-আইয়ের সময় অনেকের সাথে আরেকটা ক্যান্ডিডেটকেও পিআই রুম অবধি এসকর্ট করেছিলো ওয়েটিং লাউঞ্জ থেকে।
একটু বাল্কি চেহারার ছেলে – দেখেই বোঝা যায় কোট-প্যান্ট-টাই পরতে খুব একটা অভ্যস্ত নয়। দু’জনের মধ্যে একটাই ছোট্টো কনভার্সেশান হয়েছিলো। ওয়েটিং লাউঞ্জে যখন ছেলেটা বসে ছিলো দোলনা এসে ডেকেছিলো নাম ধরে।
ছেলেটা নাম শুনে এগিয়ে এসেছিলো। দোলনা বলেছিলো – ‘প্লিজ কাম উইথ মি’।
দোলনার হাতের ক্যান্ডিডেট লিস্টে ছেলেটার নামটা লেখা ছিলো – স্মরণ ব্যানার্জী।
(৭)
স্মরণের এঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একজন সিনিয়রও জয়েন করেছিলো স্মরণদের ব্যাচেই – নাম সুষমা ঠাকুর। শুধু সিনিয়র বললে একটু কম বলা হয় – ইউনিভার্সিটি গোল্ড মেডেলিস্ট – মানে ওই মহানারী।
আরেকজন মহানারীও আশেপাশেই ছিলো – সুমেধা বসু। সার্থকনামা – ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্সে অনার্স - ফার্স্ট ক্লাস থার্ড এবং লেখাপড়াকে করেছি জীবনের ধ্রুবতারা টাইপ।
স্মরণের বরাবরই দিদিপ্রীতি একটু বেশি – না না নেহাৎ নির্দোষ প্রীতির কথাই হচ্ছে। আসলে বেচারার নিজের দিদি নেই। তাই দিদিস্থানীয়াদের বরাবরই একটু ন্যাওটা, এক্ষেত্রেও বন্ধুত্ব হতে বেশি সময় লাগলো না।
আরেকজনের বাঙালির সাথেও আলাপ হলো অচিরেই।
বয়েজ হস্টেলটায় তিনটে ফ্লোর ছিলো। প্রত্যেকটা ফ্লোরে চারটে করে ব্লক – আর প্রত্যেকটা ব্লকে কুড়িটা করে রুম। তো টেকনিক্যালি এক্সপ্লেইন করলে – স্মরণের রুমটা ছিলো – গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক নাম্বার ব্লকের রুম নাম্বার জি – তাই পুরো নাম্বারটা জি-ওয়ান-জি।
প্রত্যেকটা ব্লকে দুটো করে ওয়াশরুম ছিলো। দশজন রুমের লোকের জন্য একটা করে ওয়াশরুম এভাবে ডিভাইডেড হতো।
প্রত্যেকটা ওয়াশরুমে দুটো করে বাথরুম, দুটো করে ল্যাট্রিন, দুটো করে ইউরিনাল বেসিন, দুটো করে ওয়াশ বেসিন আর একটা ওয়াশিং মেশিন ছিলো।
স্মরণ বাড়িতে কোনোদিন যেচে জল গড়িয়ে খায়নি। প্রকৃত কর্মবীর বাপ-মা’র একমাত্র ল্যাদখোর আদরের ‘সু’পুত্র হলে যা হয় আর কি।
তো প্রথম শকটা ছিলো ওয়াশিং মেশিন চালিয়ে নিজের কাপড় কাচা – অভিনব বানশাল বলে একজন মানালিবাসী দেবদূতের দয়া হওয়ায় সেই সব শিখিয়ে দিলো। কিভাবে একটা সেমি অটোমেটিক ওয়াশিং মেশিন চালাতে হয় ইত্যাদি।
তো দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে ক্লাস শুরু – তার আগে অবধি যা চলেছে তাকে বিশুদ্ধ বাংলায় পেঁয়াজি করা বলা হয়।
ক্যাপ্টেন রাধাকৃষ্ণণ ইন্ডিয়ান আর্মিতে জীবনের প্রভাত, দ্বিপ্রহর, অপরাহ্ন, সায়াহ্ন সব অতিবাহিত করে শেষমেষ নিজের নেটিভ প্লেসে ফিরে একটা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের আখড়া খুলে বসেছেন।
বছর বছর তারই কিছুটা পিনাকলে ইমপোর্ট করা হয়। হবু এম-বি-এদের জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের জন্য শক্ত করার সদুদ্দেশ্যে।
তবে কিনা সব কিছু সবার ধাতে সয়না। তাই টাগ-অফ-ওয়ারে আছাড় খেলো স্মরণ, পেইন্ট বল বলে একটা মেক বিলিভ যুদ্ধতে খানিকটা বিটকেল রং এসে লাগলো কপালে সজোরে। তাও আবার ধামসা ওয়ার স্যুট পরে – চেন্নাইয়ের ওই হাড়জ্বালানি গরমে।
অন্য একটি ছেলে ভিগনেশ আনন্দকৃষ্ণন তো আহ্লাদের চোটে একটা মইয়ের ওপর থেকে লাফ মেরে ডান পা খানা ভেঙে বসলো।
তো এইসব বজরংবলীচিতো গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক শেষ হলে সবাই মিলে বিখ্যাত ক্রোকোডাইল পার্ক দেখতে যাওয়া হলো। সেখানে গিয়ে দেখা গেলো একটা জাম্বো সাইজের কুমীর মেয়েরা ডাকলে ফিরেও তাকায় না, ছেলেরা ডাকলেও চোখ আর মুখ খুলে ফেলে। তো সেই কুমীরটিকে জনান্তিকে গে বলায় – স্মরণ বিচ্ছিরি ধাতানি খেলো কুমীর উদ্যানের মালিকের স্ত্রীর কাছে। যিনি কুমীরটিকে মাংস খাওয়াবার সদকার্যটা সহস্তেই সারেন। ভেবেচিন্তে দেখলো বেশি না ঘাঁটানোই মঙ্গল।
সিনিয়রদের কনভোকেশান – শান্তিনিকেতনি বাঙলায় সমাবর্তন উৎসব। তো সেটাও হলো – হিন্দি ছবিতে কনভোকেশানের সিনে যে হদ্দ ক্লিশে টুপি ওড়ানোর দৃশ্যটি থাকে সেটা সহ কিছুই বাকি রইলো না।
আপনারা কি ভাবছেন – দোলনা আর স্মরণের আরেকবার দেখা করিয়ে দেবো কনভোকেশানে? অতো সস্তা না – সবে তো খান তিরিশেক পেজ লিখেছি – এখনই দুই প্রোটাগনিস্টের আলাপ করিয়ে দিলে পরবর্তী ধানাই পানাইগুলো আপনারা পয়সা দিয়ে পড়বেন?
দোলনা আসেনি কনভোকেশানে – কারণটা যথাস্থানেই বলা যাবে।
তাই যার সাথে আলাপ হবার কথা হচ্ছে সে দোলনা নয়।
সেশন শুরু হবার যার দু’একদিন আগে – এক বালতি কাপড় নিয়ে স্মরণ ওয়াশিং মেশিনে কাপড় কাচতে যাচ্ছিলো। গিয়ে দেখলো তার আগেও একজন দাঁড়িয়ে আছে বালতিসহ। কপালে দিকটা চুল বেশ কম – তাই কপালটা বড়ো। এদিকে মাথায় বেশ ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল। মোটের ওপর বেশ গোলগাল চেহারা। পরণে একটা জকির বক্সার আর একটা ঢলা গেঞ্জি। চোখদুটোয় অসময়ে ঘুম থেকে ওঠার বিরক্তি – এক্স্যাক্ট এক্সপ্রেশনটা বুঝতে চাইলে মহালয়ার ভোরে ঠেলা খেয়ে নিতান্ত অনিচ্ছেয় ওঠা কারো চোখ দেখে নেবেন। এক্ষেত্রে ডিফারেন্সটা এই যে – ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে এগারোটা বাজে – আরেকটু পরেই লাঞ্চ আওয়ার শুরু হবে।
তো যাই হোক দেরী করে ওঠা এমন কিছু খারাপ কাজ না। বি-স্কুলের শুরুর দিকটা লোকে খুব সোশ্যাল থাকে – টোটাল ‘দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে’ একটা আকাশ নেমে আসে – বেঁচে থাকলে রবি ঠাকুর খুব খুশি হতেন।
তো স্মরণ জিজ্ঞেস করতে দেরী করলো না –পুণ্য ওয়াশরুমতীরে, ওয়াশিং মেশিন সাধনায় আছি রত। স্মরণ নাম যার – কহ মোরে তুমি কে গো ভ্রাতঃ?
উত্তর এলো – ‘সমর্পণ – সমর্পণ রক্ষিত’।
বত্রিশপাটি বিগলিতপ্রায় স্মরণ জানতে চাইলো – ‘বাঙালি? কোলকাতা?’
‘বাঙালি। কোলকাতা’।
সমর্পন অধুনা পাটুলিনিবাসী – এক ধূমকেতু বিশেষ। ওর দাদুর কাজিন – বিশেষ কেউ নন – অমর্ত্য সেন। সে যাই হোক – শান্তিনিকেতনি জামা আর জকির বক্সার ছাড়াও সমর্পণ আরেকটি জিনিস জড়িয়ে ঘুমোয় এবং তার সাথেই ঘুম থেকে ওঠে। গিটার।
প্রায় অতিবিরল পর্যায়ের সাঙ্গীতিক ক্ষমতা রাখতো ছেলেটা – পিঙ্ক ফ্লয়েডের গান অবিকল গাইতো, বন জোভির কিছু গান মাঝেসাঝে অরিজিনালের চেয়ে বেটার গাইতো – এবং এগুলো জ্ঞানীগুণী মানুষজন দ্বারা অ্যাফিলিয়েটেড ফ্যাক্টস। সেসব কথা আবার সেই - যথাস্থানেই হবে।
এখনো পর্যন্ত একটা জিনিস দেখতে পেয়েছেন কিনা জানিনা – কয়েকটা ব্যাতিক্রম বাদে স্মরণের ইনিশিয়াল সব আলাপীই বাঙালি – কারণ ছিলো – স্মরণের মা যাবার আগে বলে দিয়েছিলেন “বাঙালিদের সাথে থাকিস – খাওয়া দাওয়ার অসুবিধেটা কম হবে”। স্মরণ – মায়ের কথাটা শুনতো।
রুচিরার তবু কোলকাতাটা ছিলো।
স্মরণ আর রুচিরা একসময় একই অফিসে কাজ করতো। রুচিরার একটি ক্যাটরিনা (ঝড় নয় – কিম্বা কে জানে হয়তো ঝড়ই) কাটিঙের বান্ধবীও ছিলো একসাথে – সেমন্তিকা। তো স্মরণ ভালো কাটিঙের মেয়েদের দিকে কোনোদিন ভালো দৃষ্টিতে তাকায় না – কুষ্ঠিতে নেই।
যা হবার হলো – অফিসে ঢুকতে না ঢুকতেই হাত পা ধুয়ে সেমন্তিকার দরজার সামনে বসে পড়লো স্মরণ এবং অ্যাজ ইউজুয়াল কেউ দরজা খুললো না। না খোলার কারণটা অবশ্য এটা নয় যে স্মরণকে সেমন্তিকা পছন্দ না করতো না – দিব্যি করতো। স্মরণের আশৈশব সিরিজ প্রেমগুলোতে অথবা প্রেম প্রেম ভাবগুলোতে একটা জিনিস কমন নেওয়া যায় – কিছুদিনের জন্য হলেও প্রতিটা মেয়ে একটু কনফিউজড হয়েছিলো। আহা বেসিক্যালি ছেলেটা তো খারাপ না।
সেমন্তিকার অবশ্য স্মরণের প্রেমে পড়তে একটা মেজর হার্ডল ছিলো – ও অন্য একটা ছেলেকে বেশ পছন্দ করতো। ছেলেটা মোর অর লেস যাকে বলে সর্বগুণান্বিত – আই-আই-এম-কোজিকোড়ের পাস আউট – মার্কেটিং মেজর। একটা বিশাল বিস্কুট কোম্পানিতে যাকে মার্কেটিং পরিভাষায় এফ-এম-সি-জি বা ফাস্ট-মুভিং-কনজিউমার-গ ুডস কোম্পানি বলে, তার রিজিওনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস ম্যানেজার। সবদিক দিয়ে সুস্থ-সবল-ওয়েল ম্যানারড। মেয়েদের নিয়ে রেঁস্তোরায় গেলে গাড়ির দরজা নিজের হাতে খুলে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি। সেন্স অফ হিউমারটাও মন্দ নয় – একবার একটা কালোত্তীর্ণ মন্তব্য করেছিলো – “কোলকাতা শহরে এতো প্রবল উৎসাথে চারদিকের রাস্তাঘাট খোঁড়া হচ্ছে, মনে হয় তেল টেল পাওয়া যাবে”।
তো স্মরণের চান্স বিশেষ ছিলোনা বললেই চলে।
রুচিরা আর সেমন্তিকা ছিলো মোটামুটি আলাদা আলাদা মায়ের পেটে জন্মানো সহোদরা টাইপ। আর সুন্দরী বুদ্ধিমতীর সংখ্যা এ পোড়া দেশে খুব বেশি নয়, বিশ্বাস না হলে ইদানীং কালের কমার্শিয়াল বাঙলা ছবি দেখে নেবেন। তো বুদ্ধির দিক দিয়ে সেমন্তিকা অনেকটাই রুচিরার উপর ডিপেন্ডেন্ট ছিলো।
নকশালদের একটা ভিশন ছিলো – গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরতে হবে। স্মরণ এই একটা দিক দিয়ে বেশ অতিবামপন্থী ছিলো।
রুচিরা ছিলো একটা মহাগুরুত্বপূর্ণ গ্রাম – প্রায় শহরতলিই বলা যেতে পারে আর কেন জানা যায়নি স্মরণকে প্রথম থেকেই রুচিরার বেশ পছন্দ ছিলো। তাই এই গ্রাম থেকে স্বেচ্ছায় শহররূপিণীর কাছে প্রচুর বার্তা যেতো। তবে সেমন্তিকার দিক থেকে মেসেজ বক্স ফুল থাকায় সেগুলোতে বিশেষ লাভ হতোনা।
এরকম ভাবে বছর দু’য়েক চলবার পর – স্মরণ ওয়ান ফাইন মর্নিং ডিসকভার করলো সেমন্তিকা আর ওর সাথে কথা বলছেনা। ইয়েস, নো, ভেরি গুড কিচ্ছু না। অনেক কাকুতিমিনতি, অনেক বিচলিত এস-এম-এসের পর রুচিরার কাছে স্মরণ জানলো – যে এটা কনশাস ডিসিশান – টু অ্যাভয়েড ফার্দার কম্পলিকেশানস হিয়ারাফটার।
সেদিন স্মরণ বাবুবাগানের গলিতে একটা বিজবিজে গরমের ঢাকুরিয়া ব্রিজ থেকে ওঠানামা করা সন্ধেকে সাক্ষী রেখে রুচিরার সামনে কেঁদেছিলো – অসহায়তায়।
রুচিরা সম্ভবতঃ সেই অসহায়তারই প্রেমে পড়েছিলো।
স্মরণ যখন কোলকাতায় ছিলো মাঝেসাঝে ওরা দু’জন অফিস পালাতো। কোনো মরা পিসেকে মেরে দিয়ে অথবা বিনা টেম্পারেচারে ধূম জ্বর এনে।
তো সেই যৌথ পলায়নগুলো বেশিরভাগ সময় রূপান্তরিত হতো – সিনেমা হলে, দক্ষিণ কোলকাতার অবিশ্রান্ত সমাগমের মধ্যে কিছু কিছু প্রায় অনাবিষ্কৃত গলিতে এবং মাঝেসাঝে চিত্ত বেশি পুলকিত হলে ঢাকুরিয়া লেকের বিকেলে – যৌবন সমবায়ে।
ওরা অবশ্য ওদের বাড়িতে এই হঠাৎ ডেটগুলোর সম্বন্ধে ইনফর্ম করার প্রয়োজন বোধ করেনি – বাড়ি থেকে বেরোনো আর বাড়িতে ফেরাটা এমন সময় মেপেই করতো যে অফিসে ছিলাম বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। সমস্যাটা হতো মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে ফোন এলে, তখন হয়তো রাস্তায় আছে দু’জন এমন সময় ফোনে তো অফিস বললে সামান্য সত্যান্বেষী হলেই বুঝে যাওয়া যায় – দুধ আর পানির আনুপাতিক বন্টন। তার জন্য ব্যোমকেশ হবার দরকার নেই। সেই সময়গুলোতে দৌড়ে কোনো দোকানে অথবা শপিং মলের রেস্টরুমে ঢুকে পড়তে হতো।
একবার মনে আছে – রুচিরার মা – যিনি স্বাভাবিক নিয়মেই স্মরণকে বিশেষ পছন্দ করতেন না – তিনি লুচি আলুভাজা দিয়েছিলেন। সেদিন দু’জনে মিউজিয়াম দেখতে গিয়েছিলো – রুচিরার প্ল্যাটিপাস দেখার শখ হয়েছিলো বলে। রুচিরার মা স্মরণকে পছন্দ করতেন না তার কারণগুলো অবশ্য বিবিধ – এক, রুচিরারা বেশ উচ্চঘর, কংস রাজার না হলেও চারুচন্দ্র চক্রবর্তী যাঁর নামে চারু মার্কেট তাঁর বংশধর। দ্বিতীয়তঃ রুচিরাদের ঘটিত্বে কোনো ভেজাল নেই। যদিও ব্যাপারটা এ যুগে খুব কম বাড়িতেই মানা হয়, কিন্তু স্মরণের দুর্ভাগ্যবশতঃ রুচিরাদের বাড়িতে হতো – আর স্মরণের পূর্বপুরুষরা পশ্চিমবঙ্গীয় এলুম, খেলুম বাঙলা শিখে বড়ো হয়েছেন, এই অপবাদ কেউ দিতে পারবেনা। তৃতীয়তঃ স্মরণের গায়ের রংটা জাস্টিফাই করতে গেলে – পলাতক ছবির ‘কৃষ্ণ কালো আঁধার কালো’ জাতীয় গানের রেফারেন্স টানা ছাড়া উপায় নেই। আর রুচিরা দৃশ্যমান বডি পার্টসে বেশ অনেকখানি দুধে সামান্য আলতার মিক্সচার রং ছিলো।
যাই হোক সেসব দুঃখের কথা – তো সেই লুচি আলুভাজাটা দিয়ে দু’জনে মিলে মিউজিয়ামের সামনের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে সকাল সকাল মিনি পিকনিক সারার মধ্যে একটা শীতের আদুরে পশমের জ্যাকেট মার্কা ওম ছিলো। স্মরণ আর রুচিরার উষ্ণতায় কোলকাতা শহর শীতকালবাহিনী হয়ে যেতো – যে ঋতুতে শহরের মেয়েদের একটু বেশিই সুন্দর দেখায়।
স্মরণ চলে যাওয়ায় রুচিরা সেই আরামটা, সেই ওমটা চূড়ান্ত মিস করছিলো – এপ্রিলের ঘাম-ধূলো-বালির শীতকালহীনতাতেও।
রুচিরার শুধু কোলকাতাটা ছিলো।
(এরপর পরবর্তী রবিবারে)

আপনার মতামত জানান