পাঁচ প্রেম

বিশ্বজিৎ রায়




কুরুক্ষেত্র

সংঘাত ছাড়া দরকার নেই ,
সংঘাত দরকার ।

এসো ।
বিকেলে বাড়িতে এসো বনমালী
কিছু একটা ফাটাফাটি করে নেওয়া যাবে ।

কে কাকে চমকাবে
তা ঠিক করে দেবে
বিকেল বেলার সূর্য ।
বাড়ি বলতে তো বটগাছ তলা
ডালে ডালে ঢিল –
দুজনকে না হয় দুজনে সেখানেই বেঁধে ঝোলাবো ।
তারপর হাওয়ায় যেভাবে ঘোরে সুতো
সেভাবেই ঘুরে নেবো সাতবার সাতপাক ।




গাছ

কথা নেই বার্তা নেই
গাছকে গাছ ঢেলে দিচ্ছে রং ,
মাখাবার জন্য নয় দেখাবার জন্য ।

দেখছি
চোখ পর্যন্ত ঘোরাতে পারছি না ।

নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গাছেরা
এভাবেই দেখাতে পারে দিকশূন্য,
সেভাবে ভরাব বলে আমিও
একে একে ফেলে দিলাম সবকিছু ঠাট বাট ।
পেট ভর্তি ক্ষিদে ছাড়া
কোনো রাস্তাই আর খোলা রইল না ।

অথচ বুঝিনি
পাখি থেকে অনেক দিন আগেই
মানুষ হয়েছিস তুই ,
ভিখিরি পাখিরা ছাড়া
গাছের সঙ্গে
কে আর থাকবে বল এই ভর সন্ধেবেলা !



ঘরে-বাইরে

তুই দশদিন সকাল বিকেল সন্ধে
এ পথে আসিসনি বলে
আগাপাশতলা মন খারাপ ,
` চোখ থেকে দাঁত সর্বত্র কেমন
ভিজে ভিজে ভাব ,
ঠিক মতো খিদে হচ্ছে না
ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুম ।

তোরও এসব হচ্ছে
তবে কারণটা অন্য ।

সরকার বদল হল
দশমাস দশদিন ,
কে জানে কোন সার্ভিস কমিশন কী করবে!
চাকরি বাকরির অবস্থা খুব খারাপ
আর তাছাড়া
সরকার বল অসরকার বল
ঘর বল বাহির বল
এতো আর রবীন্দ্রনাথের ঘরে বাইরে মার্কা
উপন্যাস নয় যে
নিখিলেশের মতো লিখলেই হবে
প্রেম অযোগ্যতার ভাষা জানে –
কড়ায় গণ্ডায় আজকাল সবাই সবকিছু বুঝে নেয়
কে কে কী কী পারে ।



বান্দা

প্রিয়কে দেবতা করার বান্দা আমি নই ।

তোকে কুলুঙ্গিতলায় রেখে
দুবেলা শাঁখ ফুকে বাতাসা বিলবো
এ আমি কিছুতেই পারবো না ।

দুতিনটে শুকনো ফুল
আর না তোলা বাতাসায় পিঁপড়ের সারি
দেখতে দেখতে কেটে গেল
আমার গোটা ছোটোবেলা ।

তুলব
তোর যেখানে খুশি মুখ রাখব
ভোর সন্ধেবেলা।




রান্না

কোনো ব্যাপারে নাক গলাবো না ।

তোর মৌনজীবন , যৌনজীবন
পুরোটা দিবি
এমন বিতিকিচ্ছিরি দাবিও
আমার নেই ।

চাইলে ছেড়ে যেতে পারিস একগাছতলা
এককোটর ,
যতদিন খুশি ।


তবে চিন চিন করবে আমার সবকিছু
চোখ, গলা , বুক...
আর আমি সেই চিন চিন চিন
কেটে কেটে কেটে
মিশিয়ে মিশিয়ে দেব সব কাজে ।

কী যে স্বাদ হবে আহ্লাদ হবে দিন রাতের
তা কী আর বলব বল !

যে জানে সে জানে ।


অলংকরণ- নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

আপনার মতামত জানান