ভালবাসার কবিতা

রুহুল মাহফুজ জয়


নাইটমেয়ার-১৭
আফ্রোদিতি, আপনি কখনো পুস্তকহাওয়ায় স্তন থেকে মাছি তাড়াতে তাড়াতে কেঁদেছেন?

প্রতি রাতে কাকে যেন খুন করে উন্মাদ ট্রেনের কামড়ায় তুলে দেই ছুরি, নদীপাড়ের সঙ্গমস্মৃতি, দুখি নার্সিসাসের প্রলাপ। দূরদেশ ভ্রমি দিনান্তে ফিরে আসে অ্যান্দালুসিয়া, মৃত্যু পরোয়ানা! আমার খুনি হবার রাতে স্নান করতে নেমে পদ্মায় টুপ করে ডুবে গেছে জ্যোৎস্নাপ্রলয়, ডুবুরি হতে গিয়ে মাছের সেক্স লাইফ মুখস্থ করে নিয়েছে চাঁদ। এখন সেই পদ্মাই নেই। কোন্ চরে কাকতাড়ুয়া হয়ে বেগুনসঙ্গীত গাইছো হে মৃতসুন্দর? আমি খুনি। খুন না করে ঘুম ভাঙে না আমার। নাসিমা আপার স্তন থেকে গুটিবসন্তের দাগ মুছে দিতে আর কত দেবীকে খুন করবো আমি?

আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো-১২
সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা কেন বলো না গাইতে গাইতে ব্যাচেলর লোকটা প্রতিরাতে বাড়ি ফেরে, ক্ষুধার সাথে আই হেট ইউ টাইপ সম্পর্কের পরও চুপিসারে প্রতিবেশীর লেবু বাগানে যায়, নতুন গান ধরে।

লোকটা জেনে যায় কারো কারো পাশে থাকা আরো একা করে দেয়, আরো আরো তোমার তুমিকে ডাকাতি করে ভেগে যায় একেকটা দিন।দিনকে প্ররোচিত করে ডালমাখা ভাত, গরীবী স্বভাব, পাশের বাড়ির লেবু বাগান –

ভাবীর ব্লাউজের নিচে আরো ডাল-ভাত মাখা হতে থাকে, গাপুস-গুপুস খেয়ে বাড়ির কোনায় বেড়ে ওঠে রিরি স্পর্শ–সামনে আরো কিছু রাত চুরি হবে ডাল-ভাত আর কাগজি লেবু ঠোঁটে.....।

স্টেশন
আমার নাকের উপর বসে জিরিয়ে নিচ্ছে
শহরের সব ক’টি মিথ, গোলকধাঁধা

এসব আনন্দঘাম যেন জংশন এক
এখানে থেমেছে রোদের ট্রেন আলোকবর্ষ পর

প্রতীক্ষায় একবিংশ শতকের লখিন্দর
বেহুলা, দিনান্তের ট্রেনে চলে গেলে কি?


আপনার মতামত জানান