ডে -আ-ডে-ই

দেবজিৎ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায়


কিস-টানো, হাগ- আনো হল, দুরু প্রো এবং প্রি পজ কিম্বা পোজ, উরিনাহ। বাজার থেকে কিনে আনা গোলাপ চারা, কুড়ি সমেত। দিন হিসাব করে পোয়াতি গাছ কেনাটাও আর্ট। ঠিক যাতে রোজ ডে নির্লজ্জের মত অথচ ফ্রেশ
ফ্রেশ ব্যাপার নিয়ে খুলে ফেলে পাপড়ি গুলো। তাপ্পর কাঁটা গুলোকে সাইজ করে রোজ ডে তে একটা খুশি খুশি এবং “হু হু আমার হাতে তৈরি গাছের ফুল” (পুরো কেবিকেসি কেস মানে কার বউ কে চোদে) মার্কা ফালতু ঘ্যাম মেশানো হাসি নিয়ে দেখা, উফ, কে যেন একটা রোজ ডে কে রোজ দে উচ্চারণ করে ফেলেছিল বলে আমি হাই জাম্প মেরেছিলাম খুশি তে। ফেব্রুয়ারির জন্ম সার্থক, চুন চুন কে দিন যোগার করা হচ্ছে, জানুয়ারি মাসের কামাই সফল। চুনচুন কে খরচ করা হচ্ছে, সাত থেকে চোদ্দর কি রেলা! সিঙ্গল ডের হার্টে হাফসোল কেস। হয় মন খারাপ না হয় এসব ডে ফে জালি জিনিস বলে সান্ত্বনা পুরস্কার।

মাইরি তবে এসব ডে ফে গুলোর মাহাত্ম্য আছে, জড়িয়ে ধরলেও চুমু খাওয়া যাবে না, সেদিন গলি চরমতম অন্ধকার আর ফাঁকা থাকলেও না। ডে উহাদের সংযমী বানাইয়াছে।
চকলেট ডেটায় অবলীলায় চকলেট ফ্লেবার অনেককিছুই দেওয়া যেত, কিন্তু কজন দিল কে জানে, বড়জোর সেই নিয়ে একটু বখেরা হয়েছে খানিকটা ব্লাসের ফ্লাশ নিয়ে।
সি সি ডির উল্টো দিকে কফি ফ্লেবারড কনডমের অ্যাড দেখে বিলা লেগেছিল। একজন ওষুধের দোকানে কাজ করা ছেলে জানিয়েছে, এই ফেব্রুয়ারিতে প্রোটেকশন ও এমারজেন্সি প্রোটেকশনের কাটতি ওই দিনটা কিবে?
ভি ডে তে গার্ল ফ্রেন্ড কিংবা বয় ফ্রেন্ড থাকা বাধ্যতা মূলক নয় কারণ এইডস ডে তে এইডস থাকা বাধ্যতামূলক না।
যারা সিঙ্গল ও ঝাড় কেস তাদের এই মাসে ভারী দুঃখ। আরও খানিকটা হ্যান্ড সাম হওয়া, আরও খানিকটা স্মৃতি চারণ এবং এটিএম কার্ডের আঁচর গুলি দেখে খিস্তানো।


এই প্যাথেটিক প্যাথেটিক গন্ধের মধ্যে “ভালবাসা মানে এলোচুল মাতোয়ারা” ভেসে এলে ঝাট জ্বলে না, তা যাদের তারাই একমাত্র বুঝবে। এল খেল দিল গেল।
একবার দেখেছিলাম রাস্তার দুদিকে দুটো স্টেজ। এক স্টেজে ব্যান্ডিও সঙ্গীত ভি ডের পক্ষে, অন্যদিকেও ব্যান্ডিও সঙ্গীত ভি ডের বিপক্ষে, একদিকে ডুয়াল খুশবু, অন্য দিকে ডেটল ডেটল গন্ধ।
“আগের দিন আমরা এই দিনে একসাথে”... এরকম কত মেসেজ ড্রাফটে পুষে যায় ওই ১৪ তারিখে। অবিশ্যি ডেব ডি তে মলম দিয়েছে সাক্ষাৎ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ, ভুলে থাকার মোক্ষম ওসুধ। ঝাড় কেসরা অতিরিক্ত খেলা প্রেমী হয়ে পড়বে আর ফোনের মত যারা এনগেজ, তাদের বাঁশ পরের দিন চিরাচরিত মারমার কাট কাট। ঘুমালেও বাঁশ সনটা মনার কাছে। না ঘুমালেও সকালে খেলা দেখা যাবে না, বন্ধুদের কাছে প্যাঁক।
একদল ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। ১৪ তারিখ বিরাট কোহলি নেট প্র্যাক্টিস করে ১৫এ ঘুম চোখে কি করবে। অবশেষে বিসিসিআই সেই সব জনগণ কে স্বস্তি দিয়ে ঘোষণা করেছেন বিরাট কোহলিকে ১৪এ নিরাপদ দূরত্বেই রাখা হবে।

যাদের বাড়ি থেকে বিয়ে দেবে না দেবে না করছে, তারা নির্দ্বিধায় ফেসবুক খুলে খুলে “আই লাভ ইউ অমুক” লিখে দাও, কারা যেন বলেছে এসব বেলেল্লাপানা করলে তারাই বিয়ে দিয়ে দেবে। বিয়ের খরচাও বাঁচবে। বাবা মায়ের আপত্তিও টিকবে না।
“ভালবাসা নীল খামেদের ভেলা” যেমন থাকবে তেমনি থাকবে “আমি এইমহীন, প্রেম হীন স্বাধীন”। ১৪ তারিখ আসবে কিছু সম্পর্ক কিছু স্মৃতি উস্কে দিয়ে চলে যাবে। কিছু কাপল গোল্ড ফিসের ছবি বিকোবে। কিছু টেডি ৪ গুণ আগুন দামে বিকোবে , বহু ফন্টে আই লাভ ইউ বিকোবে , আমিশা প্যাটেলের দেখানে আই লাভ ইউর ডাম্ব সারাড এর ডিটো হবে। কিছু আঙ্গুল আগের বছরের কিংবা বেশ কয়েক বছর আগের একটা দিনের স্পর্শের কথা মনে করে মুঠো হয়ে যাবে, এসব চলতেই থাকবে। ভি ডের একটা নিজস্ব নিস্তব্ধতা আছে, সেটা প্রেমে কিম্বা রোমন্থনে । সেটুকুকে ঝিঁঝিঁ ডাকুক। সেখানে হালকা করে পারফিউমহীন স্পষ্টতা ভাসুক।
অপ্রসঙ্গত, ২১শে নাকি ব্রেক আপ ডে?

আপনার মতামত জানান