ভালোবাসার বিশ্বায়ন

কেয়া মুখোপাধ্যায়


“ছুটির দিনে সকাল থেকে এসে এতক্ষণ কাজ করলি, রেজাল্ট কই? কিচ্ছু হয়নি তো!”
বকুনি শুনে চশমার আড়ালের ঘাবড়ে যাওয়া চোখদুটো কয়েকবার বলি বলি করে কাঁচুমাঁচু মুখে শেষটায় বলেই ফেলল,
“কাজে মন ছিল না দিদি। এক্সপেরিমেন্ট তো ফেল করবই।”
“তা মনটা ছিল কোথায়? শুধু শুধু সময় নষ্ট ছুটির দিনে।”
“রেনবো হার্ট।”
“অ্যাঁ? কি?”
“তার জন্যে রেনবো হার্ট খুঁজতেসি দিদি। কত জায়গায় খুঁজলাম। কেউ দিতেই পারে না! সামনের হপ্তায় তো চলেই যাব। রেনবো হার্ট না নিয়া গেলে আমারে আর ভালবাসবে না সে। তুমি আমারে একটা রেনবো হার্ট খুঁজে দাও না দিদি! দেখবে, তারপর আর একবারও কিচ্ছু ভুল হবে না। একদম পাক্কা! এই আমি কথা দিতেসি তোমারে।”

বাংলাদেশ থেকে আমাদের ল্যাবে কাজ শিখতে এসেছিল এক মেডিকেলের ছাত্র। জিয়াউর, আমরা বলতাম জিয়া। আমরাও তখন সবে রিসার্চ শুরু করেছি। কিন্তু মেডিকেলের স্টুডেন্ট বলে হাতে কলমে রিসার্চের অভিজ্ঞতা নেই জিয়ার। আমরাই ওর বস। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আগে ফিরে যাবে বাংলাদেশে। মেয়েটি আবদার করে বলেছিল রেনবো হার্ট আনতে। হন্যে হয়ে ঘুরেও খুঁজে না পেয়ে ওইরকম কাঁদো কাঁদো মুখ বেচারার।

ফাগুন এসেছে। নীল দিগন্তে ফুলের আগুন লাগিয়ে এসে গেছে বসন্ত। আর এসেছে ভালবাসার দিন। ভ্যালেন্টাইনস ডে। মনের দরজার এসে কড়া নেড়ে জানান দিচ্ছে তার এসে যাবার খবর। শুধু কড়া নাড়ছেই বা বলি কেন! দাপুটে এই ইন্টারনেটের যুগে এক্কেবারে দরজা হাট করে খুলে উঠোনেই এসে পড়েছে বলা যায়। আর শুধু আসা তো নয়। এ তো যাকে বলে রীতিমত সাড়া জাগানো ‘আগমন!’ কদিন ধরে কাগজের প্রথম পাতাটাই হাওয়া। সেখানে ছোট বড় নানা মাপের লাল হৃদয়ের সার সার ছবি। সঙ্গে সোনা-মানিক-হিরের ছটা। অমুক জুয়েলার থেকে তমুক রত্নকার। কত হাজারের ওপর হলে ছাড় শুরু। হাজার আশি খরচ করলে তো কথাই নেই। সঙ্গে পেন্ডেন্ট এক্কেবারে ফ্রি! এক লাখ পেরিয়ে গেলে মণিরত্ন খচিত পেন্ডেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার লাকি ড্র-ও আছে। চাই কি, শিকে ছিঁড়লে প্রথম পুরস্কারে রাজারহাটে একটা ফ্ল্যাট পেলেও পেতে পারেন।

এইসব হিরে-মানিক দেখতে দেখতেই জিয়ার কথা মনে পড়ল। প্রেমিকা মুখ ফুটে রেনবো হার্ট চাইলে কি না দিয়ে পারা যায়? বেচারার করুণ অবস্থা দেখে সেবার আমরা ওকে নিয়ে দোকানে দোকানে ঢুঁ মারলুম পরের দিন। গোটা নিউ মার্কেট, গড়িয়াহাট চষে ফেলা হল। কেউ বলতে পারে না রেনবো হার্ট-এর কথা। জিয়া আপ্রাণ বোঝায়,
“আসলেই দাদা, হার্ট শেপের পেন্ডেন্ট। তাতে রেনবোর রঙ খেলা করে।”
দোকানিরা মাথা নাড়ে। জিয়া হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে আসে দোকান থেকে।
শেষে ওকে আলটিমেটাম দেওয়া হল। পরের দোকানেও না পেলে যে কোন একটা হার্ট শেপের পেন্ডেন্ট নিয়ে নিতে হবে। আর পারা যাচ্ছে না। পরের দোকানেও না পেয়ে জিয়া অগত্যা পকেট থেকে একটা খবরের কাগজের ভাঁজ করা পাতা বের করল। একটা ছবি দেখিয়ে বলল, সেই পেন্ডেন্টটাই চাই। পার্ক স্ট্রীট, ঝকঝকে দোকান। গোটা তিনেক সুন্দরী, সুবেশা তরুণী জিয়াকে ঘিরে ধরে তার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। আমরা এদিক ওদিক কাউন্টার ঘুরে দেখছি। হঠাৎ প্রবল উত্তেজনা!
জিয়া আমাদের ডেকে বলতে লাগল,
“কি অন্যায় কও দেখি! এই দ্যাখো, কাগজের ছবিটা কত্ত বড়। আর এই প্যান্ডান্ট তো এইটুকুনি পুঁচকি! এরে তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। এরা লোক ভাল নয় দিদি ! এতো জোচ্চুরি, এতো মানুষরে ঠকানো! এত বড় ছবি কাগজে দ্যাখায়ে আসল জিনিস এত্তটুকুন...”

সত্যি কি কঠিন ভালবাসার উপহার কেনা! কিন্তু ভালবাসা? ‘ভালবাসা কারে কয়?’
ভালবাসার এই দিনটার শুরুর গল্প তো আমরা সবাই জানি। সেই অনেক বছর আগে তৃতীয় শতাব্দীতে রোমের সম্রাট ছিলেন ক্লডিয়াস টু। তিনি মনে করতেন অবিবাহিত ছেলেরাই উপযুক্ত সৈনিক হতে পারে। তাই ফরমান দিয়ে তরুণদের বিয়েই নিষিদ্ধ করে দিলেন। সম্রাটের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেন এক সন্ন্যাসী। তিনি লুকিয়ে চুরিয়ে প্রেমিক প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে শুরু করলেন। ঘটনার কথা জানাজানি হলে সন্ন্যাসীর মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিলেন সম্রাট। সেই সন্ন্যাসীই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। জেলে বন্দী অবস্থায় তিনি জেলরের দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবার আগে তিনি জেলরের মেয়েকে একটি চিরকুট লিখেছিলেন। সেই চিরকুটে নাম সই করার জায়গায় লিখেছিলেন, ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। সেটাই শুরু। সেটাই প্রথম ভ্যালেন্টাইনস শুভেচ্ছাপত্র। আর আজও লেখা হচ্ছে ভ্যালেন্টাইনস গ্রীটিংস। লিখছে দেশি-বিদেশি-আম জনতা, আপনি-আমি- সব্বাই।

আমাদের তো বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর বাঙালির জাতীয় চরিত্রই হল হুজুগপ্রিয়তা। সন্ত ভ্যালেন্টাইনকে স্মরণ করে ভালবাসার কথা বলার দিন- এও হুজুগে মানুষের এক নতুন পার্বণ। লাইন দিয়ে গয়না কেনা, ধাক্কাধাক্কি করে গ্রীটিংস কার্ড কেনা, দরাদরি করে সেরা গোলাপ কেনা- এইসবই এই নতুন পার্বণের অনুষঙ্গ। কিন্তু ভ্যালেন্টাইনস ডে হাল আমলে পশ্চিম থেকে আমদানি করা সংস্কৃতি হলেও এইরকম ভালবাসার দিন কি আমাদেরও ছিল না?

পঞ্চাশ কি ষাটের দশকে ভালবাসা মানে ছিল ‘আধো আধো বোল।’ অনেক ভালোবাসা শুধু না বলতে পারার কারণে, বাধো বাধো হয়ে মনে মনেই রয়ে গেছে, প্রকাশ পায়নি। সত্তরের দশক থেকে ভালবাসা একটু সাহসী হতে শুরু করল। আশির দশকে ভালবাসা সাবালক, সবলীল। আর নব্বইয়ের দশকের সাহসী ভালবাসার আবার দুটো ভাগ। দশকের মাঝামাঝি অবধি বলতে গেলে একরকম আশির দশকেরই এক্সটেনশন। আর তারপর থেকে হাই-টেক প্রযুক্তির বিস্ফোরণে ইন্টারনেটের হাত ধরে ভালবাসার বিশ্বায়ন।

নব্বইয়ের দশকের প্রায় মাঝামাঝি অবধি কিন্তু আলাদা করে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালনের চল ছিল না। তখনও ভালবাসার দিন বলতে ছিল শুধু বসন্ত পঞ্চমীর সকাল। হলুদ শাড়িতে ফুরফুরে প্রজাপতিদের দেখে নতুন পাঞ্জাবি-পরিহিতদের দু-এক ঝলক মুগ্ধ দৃষ্টি কি অস্থির উঁকি ঝুঁকি, বাসন্তী রঙা আঁচল দুলিয়ে খিলখিল হাসির ঝরণায় হৃদয়ে ঢেউ তোলা, আর আড়চোখের দুষ্টুমির বসন্ত-জীবন। চেনা কোন প্রজাপতির জন্যে হন্যে হলে অপেক্ষা, তারপর দুজনের একটু একান্ত নিরালা যাপন, হাতে হাত, কি প্রথমবারের আলতো চুমু। মাঘ মাসের ওই একটা দিনে শীত করত না কারোর। শাড়ি, গয়না, সাজুগুজুতে সবাই ঝলমল আর সোয়াটার কি চাদরের সেদিন ছুটি। আর ছিল বইমেলা। বসন্তের বইমেলা ঘিরেও তৈরি হত প্রেমের আলাদা আমেজ। বই ছুঁতে গিয়ে ভালবাসার জন-কে হঠাৎ ছুঁয়ে ফেলার বিহ্বলতা, বলা আর না বলা অনেক কথা।

তারপর গ্লোবালাইজেশনের ফলে আমাদের সংস্কৃতি, সমাজবন্ধনে এসে লাগল ভিনদেশি ছোঁয়া। নব্বইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ পাড়ার কার্ডের দোকানগুলো জানুয়ারি মাস থেকেই ভরে যেত ভালবাসার কার্ডে। নানা জায়গায় আর্চিস গ্যালারি সেজে উঠেছিল আগেই। শুরু হল ভ্যালেন্টাইনস ডে কার্ড আর লাল গোলাপ দিয়ে ভালবাসার জয়গান। ‘ভালোবাসা মানে আর্চিস গ্যালারি/ ভালোবাসা মানে গোপন গোপন খেলা/ ভালোবাসা মানে কান্নাভেজা চোখে/ ভালোবাসা মানে নীল খামেদের মেলা...।’ আস্তে আস্তে ভ্যালেন্টাইন ডে-র দিন শুরু হল রিমেক প্রেমের গান কি ভাল-লাগা ব্যান্ডের অনুষ্ঠান। প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ভিড় জমালেন অনেকে। স্মৃতির শহরে ভাসালেন আদরের নৌকায়। তারপর এল ভ্যালেন্টাইনস ডে-র প্যাকেজ ট্যুরের বন্দোবস্ত। টিভির পর্দায় সব কিছুই ভ্যালেন্টাইনস স্পেশ্যাল। টিভি সিরিযালেও তাই, খানিকটা ভ্যালেন্টাইনস ডে থিম গুঁজে দেওয়া শুরু হল। দামি পেন্ডেন্ট, চেন, ট্রেন্ডি কস্টিউম জুয়েলারি, আর চিরকালীন সোনার গয়নার বিজ্ঞাপন টিভিতে। এমনকি আগে থেকে কেনাকাটার সুযোগ সাধ্যের মধ্যে এনে দিতে নানা ‘মাস্টার প্ল্যান’ বাজারে ছাড়ে বিভিন্ন সংস্থা। যেমন, মাসে টাকা রাখলে এক বছর পরে মিলবে আপনার পছন্দের গয়নাটি। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র মধ্যে ওই সুযোগ নিলে মিলবে আপনি পাবেন আরো নানা বিশেষ উপহার। রেস্তোরাঁতে যুগলে খাওয়া, যুগল নৃত্যের ব্যবস্থাও বাদ নেই কিন্তু। ক্যাচ লাইন- ‘চারদিকে শুধুই ভালবাসা’। নব্বইয়ের দশকে ছিল অর্কুট। সাবেকি গ্রীটিংস কার্ড-এর বদলে ভ্যালেন্টাইস ডে-র ‘ই-শুভেচ্ছা’-র সূচনা অর্কুট মরফত। আর এখন তো শুভেচ্ছা আর ভালবাসা জানাবার মাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ। মোদ্দা কথা, এখন এ দিনটি শুধু আবেগের দিক থেকে নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসার দিনকে ঘিরে সেলফোন কোম্পানী থেকে শুরু করে ফ্যাশন হাউজ, কার্ড আর ফুলের বিপণী- সর্বত্রই রমরমা বাণিজ্য। এই দিনটিতেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফোনকল ও এসএমএস চালাচালি বাবদ কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য।

এই দিনটাকে নিয়ে সবচেয়ে খুশি বোধহয় টিন এজাররা আর সদ্য তরুণরা। ক’দিন আগে দেশে ফোন করে শুনলাম পার্ক স্ট্রিটের কোনও নামী কফিশপে সদ্য তরুণ ‘ডেট’ করতে যাবে তার ‘জিএফ’-এর সঙ্গে। ভীষণ উচ্ছ্বসিত। এক রাই-কিশোরী ভাইঝি হয়তো এই প্রথমবার বন্ধুদের সঙ্গে ‘হ্যাং আউট’ করবে, তাই দারুণ খুশি। ওদের ভালোলাগায় শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে মনের মধ্যে কোথায় যেন এক চিলতে আশঙ্কার মেঘ এসে পড়ল চকিতে। ২০১১ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে মনে পড়ে গেল। ভালবাসার দিনেই তিন মদ্যপ যুবক অসভ্যতা করেছিল এক তরুণীর সঙ্গে। বাধা দিতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিল তার ছোট ভাই। প্রশাসকদের বাড়ির কাছেই। এতদিনে বিচারের রায় বেরোল। মনে পড়ে যায়, ভবানী দত্ত লেনে যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার-এর অফিসে বসে স্বপ্নাদি আর রীতাদিরা বলেছিল ভালবাসার মানুষের হাত ধরেই ভরসা করে কোনদিন ঘর ছেড়েছিল, গ্রাম ছেড়েছিল ওরা। তারপর সেই ভরসার হাতই অন্য হাতে বিক্রি করে দিয়েছিল ওদের। স্বপ্নের রাজপুত্র এসে ওদের রূপকথার দেশের প্রাসাদে নিয়ে যায়নি, রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল পণ্য করে। ভাবতে ভাবতে ভালবাসার দিনের মাধুর্য কেমন যেন ফিকে হয়ে যায়।

এখন আমি থাকি সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে, তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে এক ভিনদেশে। দু’বছর আগে প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে-র এক সপ্তাহ আগে আমার ছেলে একটা লিস্ট নিয়ে এল। তাতে তেরোটা নাম। ওর ক্লাসের বন্ধুরা। সবাই ওর ভ্যালেন্টাইন। ও-ও সকলের। টুকরো টুকরো কথায় আমাকে বুঝিয়ে বলল, বাবা, মা, দাদু, দিদু, টিচার, ফ্রেন্ডস- সকলে সকলের ভ্যালেন্টাইন। তাই সকলের জন্যে উপহার চাই। বেশি কিছু নয়, একটা চকোলেট আর ছোট্ট একটা কার্ড হলেই হবে। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, সংস্কৃতি আর ভালবাসা দিয়ে যাতে তিনটি প্রজন্মের বহমান ধারাকে ছোঁয়া যায়- তার চেষ্টা। সেভাবেই ভালবাসা আরও প্রগাঢ় হবে। এভাবে সকলকে ভ্যালেন্টাইন করে আনন্দে শামিল করে নেওয়াটা ভারি সুন্দর।

মাঝে মাঝে নানা সমালোচনা হয় এখনকার প্রজন্মের। এই জেন ওয়াই ভালবাসা বোঝে না, সম্পর্কের গভীরতায় বিশ্বাস করে না, একটা দিনের ভালবাসার হুজুগ- এইসব নানা সাত-সতেরো মূল্যায়ন তাদের সম্পর্কে। নাহ, ভালবাসা তাদের কাছে শুধুই আর্চিস গ্যালারি নয়। তবু কেউ যদি একটা বিশেষ দিনে উপহার পেয়ে বা দিয়ে, আর ভালবেসে আরও একটু বাড়তি খুশি পান জীবনে, তাতে ক্ষতি কি? ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, চ্যাট, ব্লাইন্ড ডেট, আর্চিস, সিসিডি, মাল্টিপ্লেক্স- এসব সবের পরেও জেন ওয়াই-এর ভালবাসার ম্যাজিক আজও একই রকম, চিরন্তন। অভিমান, আবেগ আর অপেক্ষাও এক। এদের মধ্যেই বোধহয় নিজেদের খুঁজে পাবেন অনেকে।

জিয়া-কে বলেছিলাম, ভ্যালেন্টাইন ডে-র জন্যে রেনবো হার্ট খুঁজে পেলি না তো কি? সত্যিকারের ভালবাসা শুধু যে কোন পেন্ডেন্ট কেন, সম্পর্ককেও রামধনুর সবকটা রঙে ভরিয়ে তুলবে।
ভালবাসার একটা দিন? তাই কখনো হয়? প্রতিদিনই ভালবাসার নতুন জন্ম হয়।
হঠাৎ কোন সন্ধ্যেয় প্রতিদিনের চলায় পাশে থাকা একান্ত প্রিয়জনের চোখে সেই প্রথম দেখার, প্রথম ভালবাসার মুহূর্ত আর মুগ্ধতাকে নতুন করে খুঁজে পেলে মনে হয় সেই দিনটাতে যেন আমার কাছে ফিরে এল কলকাতা, তার বসন্ত পঞ্চমীর আধভাঙা চাঁদ নিয়ে।
সেই দিনটাই আমার ভ্যালেন্টাইনস ডে।

আপনার মতামত জানান