সম্পাদকীয়

অভীক দত্ত
এক ইনোসেন্ট মেয়ে তার মাকে জিজ্ঞেস করেছিল "মা ভ্যালেন্টাইন্স ডে কি?"
মা অতি বিরক্তির সাথে জবাব দিয়েছিল "ওসব কিছুই না, সবই ছেলেদের শোবার তাল"।
উপরিউক্ত জোকটি আমি পড়েছিলাম কোথাও একটা কয়েক বছর আগে। তারপর থেকে যে কটা ভ্যালেন্টাইন্স ডে এসেছে আমার এই জোকটা মনে পড়েছে।
যদ্দুর মনে পড়ে এই ইন্টারনেট আর টিভি চ্যানেল আর উনিশ কুড়ি পত্রিকাটা আসার আগে ভ্যালেন্টাইন্স ডে খায় না মাথায় দেয় জানতাম না। আরেকটু ছোট যখন ছিলাম পাড়ার সরস্বতী পুজোয় একটু বড় দাদাদের পুজোর দিন এলাকায় খুঁজে পাওয়া যেত না সেটা মনে আছে। পরে বুঝেছিলাম তারা "ফিল্ডিং" দিতে গেছে। বলাই বাহুল্য এই ফিল্ডিংগুলি মেয়েদের স্কুলের সামনে হত, অতি সাহসী, যারা নিজেদের কলম্বাস লেভেলের ভাবত তারা ওই মেয়েদের স্কুলগুলিতে ঢুকত প্রসাদ নেবার জন্য। শালপাতার প্রসাদ নিয়ে যখন বেরিয়ে আসত তখন তাদের চোখ মুখ দেখে মনে হত তারা বিশ্বজয় করে ফেলেছে।
এরপর কয়েকটা বসন্ত পেরিয়েছে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে জাঁকিয়ে বসেছে। সরস্বতী পুজোয় যেমন বাড়ির বাইরে বের হবার পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়, একদিনের বাদশা টাইপ ব্যাপার হয় ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখনও সেরকম জায়গায় যায় নি। তবে হোয়াটস আপ আর ফেসবুকের যুগে তার সাথে ষড় করে বাড়ি থেকে বেরনোটা এখন আর এমন কিছু ব্যাপার না।
প্রসঙ্গত মনে পড়ে যায় আমাদের পাড়াতেই দেখা, চোদ্দ পেরোতে না পেরোতেই মেয়ে ভ্যালেন্টাইন্স ডের দিন বেপাড়ার এক ছেলের সাথে পালায়, এক বছরের মধ্যেই ছেলে তার পৌরুষত্বের প্রমাণ দেয়, মেয়েটি পনেরো ষোল বছর বয়সে কোলে বাচ্চা নিয়ে আধ বুড়ি সেজে ঘুরতে লাগল, ছেলেটি যথারীতি ফুল বাবুটি সেজে ঘুরতে লাগল, তখন ওই জোকটির কথাই মনে পড়ে যায় বইকি।
আর আজকাল তো সম্পর্ক তৈরি হতে যতটা না সময় লাগে তার থেকে বেশি তাড়াতাড়ি সম্পর্ক ভেঙে যায়। এই দেখা গেল ফেসবুকে মাখোমাখো প্রেম, দুনিয়ার লোককে জানিয়ে লদকা লদকি, দুদিন পরই দু পক্ষ কুরু পান্ডবের মত যুদ্ধে নেমে পড়ল দুর্যোধনের সেই "বিনা যুদ্ধে" ডায়লগের মত।
তবু... ফুল ফুটুক না ফুটুক...
এই দিন গুলি থাকে বলেই তো না আদরের সংখ্যা করার অজুহাত পাওয়া যায়... কি বলেন?

আপনার মতামত জানান