সবজেটে গ্রীন ক্যাম্পাস

অষ্টম পর্ব
ACT II


“The middle of the road is where the white line is – and that’s the worst place to drive.” – Robert Frost





(১১)
সুমেধা, সুষমা আর স্মরণ ইতিমধ্যে নিজেদের এম্পিরিকাল প্রজেক্ট গ্রুপ বানিয়ে ফেলেছিলো।
এম্পিরিকাল স্টাডিজ প্রজেক্টটা পিনাকলের একটা ইউনিক ব্যাপার।
আসলে কি হয় – যেকোনো বি-স্কুলের কোর্সের মধ্যে একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয় – সামার ইন্টার্ণশিপ বা সংক্ষেপে সারলে শুধু ইন্টার্ণশিপ। আই-আই-এম এ,বি,সি জাতীয় মহীরুহুগুলোতে অবশ্য শুধু সামারেই ব্যাপারটা আবদ্ধ থাকেনা। এই ইন্টার্ণশিপের সময় বিভিন্ন কোম্পানিতে টেম্পোরারি বেসিসে বিভিন্নরকম প্রজেক্টে কাজ করে উঠতি বিজনেস প্রফেশনালরা গা গরম করবার সুযোগ পায়।
পিনাকলে সামার ইন্টার্ণশিপ জিনিসটা ছিলোনা।
অবশ্য থাকা সম্ভবও ছিলোনা – কারণ এদেশের অন্যান্য বি-স্কুলের মতো পিনাকলের কোর্সটা দুবছরের নয় এক বছরের।
ফলে সামার ব্রেক জাতীয় বিলাসিতা রাখা সম্ভব ছিলোনা। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বস্তুটি আখেরে যাই হোক না কেন – দাবি তো করা হয় যে এটা একটা প্র্যাকটিকাল সায়েন্স – তাই সম্পূর্ণ থিওরি ওরিয়েন্টেড হয়ে ম্যানেজমেন্টটা পড়ানো ঠিক সম্ভব নয়।
তাই ঘোলের ভূমিকায় এম্পিরিকাল স্টাডিজ। প্রত্যেক স্টুডেন্টকে বাধ্যতামূলকভাবে কোনো না কোনো প্রজেক্ট করতে হতো। সেটার জন্য ডেটা কালেকশন, অ্যানালিসিস, তার থেকে রেজাল্ট ফরমুলেশান সবই করতে হতো।
সুমেধা, সুষমা আর স্মরণ তিনজনেই আইটি এন্ড অপারেশনসে এমবিএ মেজর করা ঠিক করেছিল। আউটসোর্সিং সহ বেশ কিছু আইটি সাবজেক্টসে এম্পিরিকাল করাতেন প্রফেসর অচ্যুতানন্দন। সেই প্রফেসর পূর্বোল্লেখিত অচ্যুতানন্দন যিনি অ্যাডকমের দায়িত্ব সামলান।
তো গেলো ত্রিমূর্তি। প্রফেসর অচ্যুতানন্দন যা বললেন তাতে বোঝা গেল ভদ্রলোকের নতুন ফ্যাসিনেশন আউটসোর্সিং নয় – ক্লাউড কম্পিউটিং।
এখানে একটু টেকনো জ্ঞান দেওয়া দরকার। ক্লাউড কম্পিউটিং মডেলটা না বুঝলে ভবিষ্যতে একটা গনগনে ক্রোধ জেনারেট করতে পারে লেখকের ওপর – তাই লেটস গেট আ লিটল টেকনিকাল।
পৃথিবীতে মোটামুটি ম্যাচিওর করে যাওয়া কম্পিউটার ইন্ডাস্ট্রির একটা মেজর দু’একটা মেজর সমস্যা হলো – মেমরি, মেমরি এবং মেমরি। আমরা প্রত্যেকে সারা বছর যে পরিমাণ মেমরি ইউজ করি সেগুলো একএকটা এক টেরাবাইট সাইজের পোর্টেবেল হার্ডডিস্কে ভরে, একের পর এক সাজিয়ে যদি একটা মিনার তৈরী করা যায় – সেই মিনারটা বেয়ে উঠে গেলে সটান চাঁদে চলে যাওয়া যাবে। মধ্যিখান থেকে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর চন্দ্রযান জাতীয় ফক্কুরি করার পয়সাটা বেঁচে যাবে।
ক্লাউড কম্পিউটিং এই সমস্যার একটা খুব দরকারী সমাধান। এখানে মেমরিটা ডিস্ট্রিবিউটেড হয়ে যায়। ধরা যাক পৃথিবীতে হাজারখানা সার্ভার কানেক্টেড আছে – জিমেইলজাতীয় ওয়েববেসড মেইল সার্ভিসের জন্য। এবার যদি একটা সার্ভার ভর্তি হয়ে যায় – সাথে সাথে আরেকটা সার্ভারে ডেটা স্টোর হতে শুরু করবে। মাইক্রোসফট আউটলুক জাতীয় মেশিন বেসড ইমেইল সার্ভিসে যেটা হয়না – ওখানে ডেটা লোকালি যে কম্পিউটারেই স্টোর হয়। তাছাড়াও সফটওয়্যার ইনস্টল করা জাতীয় হ্যাপা তো আছেই।
এই মোটামুটি ক্লাউড কম্পিউটিং ইন আ নাটশেল – কোনো ইনস্টলেশন নেই, কোনো লোকাল মেমরি স্পেস দরকার নেই – অল ইউ নিড ইজ – না লাভ নয় – ইন্টারনেট – পুরো কম্পিউটিংটাই অন্য কোনো সার্ভিস প্রোভাইডার ইন্টারনেটে বানিয়ে রেখে দিয়েছে – জায়গায় জায়গায় অর্থমূল্যের বিনিময়ে। কড়ির পতনে তেলের মর্দন – যখন খুশি।
এখনো অবধি যা বলা হলো – তা ক্লাউড কম্পিউটিং-এর প্রধান বিভাগ সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস বা স্যাসের বিবরণ। আরো দুই মূল বিভাগ প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ আ সার্ভিস (প্যাস) বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ আ সার্ভিস (আইএএএস) নিয়ে জানতে গেলে বাজারে অনেক ভালো বই এবং সবার ওপরে গুগল সত্য আছে। খুলে পড়ে নিন –উপন্যাসে এর চেয়ে বেশি টেকনিকাল জ্ঞান হ্যাজালে পাব্লিশার বলবে মাস কানেক্ট নেই।
যাই হোক প্রফেসর অচ্যুতানন্দনের দিগনির্দেশে ঠিক হলো বঙ্গব্রিগেড ক্লাউড কম্পিউটিংয়েই নিজেদের এম্পিরিকাল করবে।
এঞ্জিনিয়ারিংটা যারা একবার পড়ে ফেলে তাদের জীবন মোটামুটি আড়াআড়ি বিভাজন হয়ে যায় – দুটো গোলার্ধে – টেকনিকাল আর ইমোশনাল।
স্মরণের জীবনে দ্বিতীয়টি দেখা দিলো অচিরেই। সুমেধার বাবা মা এসেছিলেন পিনাকল হয়ে একবার দক্ষিণ ভারতটা ভালো করে দেখবেন বলে। তো সেই সূত্রে একবার সুমেধা, সুষমা, স্মরণ আর সুমেধার বাবা-মা মিলে মামাল্লাপুরমটা দেখতে যাওয়া হলো – খাওয়া দাওয়ার বাইরেও যে জায়গাটায় বেশ কিছু দেখার জিনিস আছে – সেটা পিনাকলে থাকতে অনেকেরই মনে থাকেনা।
মামাল্লাপুরম জায়গাটা কিন্তু যথার্থ অর্থে ঐতিহাসিক – একশো চল্লিশ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দেও জায়গাটা বহাল তবিয়তে ছিলো – দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াগামী জাহাজদের জন্য একটা অন্যতম সমুদ্রবন্দররূপে।তবে জায়গাটার আসল রমরমা হয় সাত খ্রিষ্টাব্দ থেকে – পল্লব রাজাদের আমলে সমুদ্রশহররূপে বেশ ঝাড়ে বংশে বিস্তৃত হয়। রাজধানী ছিলো কিনা – তাই।
প্রাচীন এবং মধ্যযুগে ভারতীয় রাজাদের একটা বদভ্যেস ছিলো – তারা এখনকার রাজাদের তুলনায় শিল্পস্থাপত্যের একটু বেশিই সমঝদার ছিলেন। তাই যেখানে যা করেছেন – তার সাথে বেশ কয়েকটা দাঁত কপাটি লাগানো আর্কিটেকচার বানাতে ভোলেননি। হোকই না সেগুলো মন্দির, মসজিদ, কিম্বা সমাধিস্থল। রাণী মরলে যদি কোনো রাজা যদি বারবার তাজমহল বানাতে পারেন – অমন রাণীর মরণকামনায় বর্তমান লেখক চোদ্দো বছর বনবাসে যেতেও রাজি।
যাই হোক সেই শৈল্পিক ধ্যাষ্টামো থেকে মামাল্লাপুরমও বঞ্চিত নয় – বেশ কয়েকটা পাথরে খোদাই করা স্থাপত্যকীর্তি আছে – যেগুলো মূলতঃ হিন্দু স্থাপত্য হলেও স্থানে অস্থানে বৌদ্ধ স্থাপত্যরীতির প্রভাবও দেখা যায়। জায়গায় জায়গায় অজন্তা-ইলোরার পাথুরে শিল্পরীতি
সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্যগুলোর মধ্যে একটা পঞ্চরথ – পান্ডবদের পাঁচজনের নামে একটা করে গুহাস্থাপত্য। পুরো জিনিসটাই নাকি একটা বিশাল গ্রানাইটের টুকরো কেটে বানানো। মজার ব্যাপারটা এই যে পাঁচটা রথ কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা শৈলীতে বানানো – একটার সাথে আরেকটার কোনো মিল নেই। বলা হয় – এই জায়গাটায় স্থাপত্যশিল্পের গুরুরা শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন।
স্মরণরা অবশ্য এতো কিছু না ভেবে একটা বড়োসড়ো হাতিকে নিয়ে ঝগড়া করছিলো। পিনাকলে আসার পর সুমেধা আর স্মরণ দু’জনেই পাল্লা দিয়ে মুটোচ্ছিল – তো একজন আরেকজনকে বলছিলো – যে আসলে সেই আয়তনে ওই ঐরাবত ছুঁই ছুঁই করছে।
তারপরে ওরা শোর টেম্পল দেখতে এলো। শোর টেম্পলটা একদম সমুদ্রের পাড়ে – আদতে একটা বিষ্ণু মন্দির। ওই পল্লবদেরই ডালপালা।
তো সেখানেই ইমোশনাল হারাকিরির সূত্রপাত।
ঘটনাটা এই যে শোর টেম্পলের সামনে দাঁড়িয়ে সুষমা আর স্মরণ একে অন্যের কাঁধে হাত রেখে বেশ ‘রেলিশ করছি রেলিশ করছি’ মুখে একটা ছবির জন্য পোজ দিয়েছিল – সুমেধা বেশ ভালো ছবি তুলতো। একটা এনট্রি লেভেল ডিএসএলআর ছিলো নিকনের।
তো এই ছবিটায় পিছনে শোর টেম্পলের চূড়ো – চকচকে নীল আকাশ, সামনে যুবক-যুবতীর বত্রিশ পাটি দাঁত, উড়ন্ত চূল ইত্যাদি মিলে একটা বেশ হনিমুন হনিমুন ব্যাপার এসে গিয়েছিলো।
উপরের কমেন্টটা লেখকের নয় – রুচিরা দত্তর।
ছবিটা ফেসবুকে পোস্ট করতে সুমেধা বিশেষ দেরি করেনি। স্মরণ আর সূষমাকে ট্যাগও করে দিয়েছিলো। পিনাকলের লোকজন বেশ দয়ালু ছিলো – কারো ফোটো আপলোড হলেই খান পঁচিশেক লাইক এসেই যেতো। এখানেও এলো।
রুচিরার প্রথমে একটা কমেন্ট এলো ফেসবুকে ছবিটার নীচে – ‘ছবিটায় দু’জনকেই খুব ভালো লাগছে’।
সাথে সাথেই স্মরণের মোবাইলে একটা এস-এম-এস এলো – ‘খুব বেশি মিস করছিস না আমাকে তা’লে আজকাল’।
স্মরণ রুচিরার সাথে কোলকাতায় নয় নয় করেও প্রায় গোটা তিরিশ মাস কাটিয়েছে – বন্ধু এবং বয়ফ্রেন্ড দুই চরিত্রেই। মোটামুটি নিশ্বাস প্রশ্বাসেরও মানে বোঝে।
ফোন করলো – কেটে গেলো।
আবার করলো – কেটে গেলো।
প্রায় দেড় ঘন্টা এবং বার কুড়ির চেষ্টায় যখন ফোনটা লাগলো – তখন রুচিরার গলা ভারী – এবং বেশির ভাগ অ্যাপলজি এবং জাস্টিফিকেশানের একটাই উত্তর আসছিলো – একটা ভীষণ ঠান্ডা ‘ঠিক আছে’।
রুচিরা এমনিতে কিন্তু স্মরণকে কোলকাতায় প্রায় পূর্ণ স্বাধীনতা দিতো – মেয়ে দেখায়। এমন কি নিজেও মাঝেসাঝে ডেকে রাস্তাঘাটে দেখাতো – স্মরণ ওভারলুক করে গেলে।
দিন দু’য়েক বাদে রুচিরা নিজের থেকেই আবার আগের মতো হয়ে গেলো।
কেউ কিছু জানতেও পারলোনা। শুধু স্মরণের মনে হতে লাগলো – বিশ্বাস এবং ইকুয়েশান দুটো কি একটা আড়াই ঘন্টার প্লেন জার্নির ডিসট্যান্সে এতোটাই পালটে যায়?
(১২)
ডক্টর মল্লিকা সারাভাই ১৯৫৪ সালে যখন মিয়োনো, সদ্য স্বাধীন এক শৈশব অনুত্তীর্ণ গণতন্ত্রের কোল আলো করে জন্মাচ্ছিলেন –তখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু, মানুষ তখনো চাঁদে পা দেয়নি, বিটলসের বিখ্যাত চার তখনো লিভারপুলের অখ্যাত ক্লাবগুলোতে ‘টেডি বয়’ সেজে এর ওর গান গেয়ে বেড়াচ্ছে, সিপিআই-সিপিএম ভাঙন তখনো ভাবীকালের কাছে গচ্ছিত।
এই গুজরাতকন্যা জন্মসূত্রে মহাকাশবিজ্ঞানী দীপক সারাভাই এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী মৃণালিনী সারাভাইয়ের অফস্প্রিং – কর্মসূত্রে গোটা দেশের, হয়তো বা গোটা পৃথিবীরও।
পিনাকলে প্রতি বছর বেশ কয়েকটা ইভেন্টস হতো। কোনো কোনোটা বিজনেস ইভেন্ট,কোনোটা ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট, কোনোটা কালচারাল–আবার কোনো কোনোটা তার থেকেও একটু বেশি কিছু। ইভেন্টস কমিটির হেড ছিলেন এ.কে.শান্তিপ্রিয়া – তারই কাজ ছিলো এইসব তত্ত্বাবধান।
তারই একটা ছিলো – স্যুইম – প্রতি বছর নারী দিবসে ইভেন্টটা হতো – না স্যুইম এক্ষেত্রে বিকিনির সাথে সম্পর্কবিরহিত একটি শব্দবন্ধ। আসলে একটি অ্যাক্রোনিম – গোটা নামটা সাকসেসফুল উইমেন ইন ম্যানেজমেন্ট।
দোলনা ডিরেক্ট ইভেন্টস কমিটির মেম্বার ছিলোনা – আগেই লেখা হয়েছে অ্যাডমিশন কমিটির ছিলো। কিন্তু এই পার্টিকুলার ইভেন্টটাতে সমস্ত ভলান্টিয়ারস হতো মেয়েরা – তাই পিনাকলের প্রায় সব চাঁদপানা মুখেরই ডাক পড়তো। কেউ কেউ সাড়া দিতো – কেউ কেউ দিতোনা।
দোলনা দিয়েছিলো।
প্রফেসর চন্দ্রকান্ত বলতেন – এই দিনটায় মেয়েগুলো দিওয়ালির চেয়েও বেশি সাজে।
যাই হোক গেস্ট লেকচারার হিসেবে মল্লিকা সারাভাইয়ের নাম শান্তিপ্রিয়াই সাজেস্ট করেছিলেন। তার সাথে এও বলেছিলেন যে ‘আমি জানি তোমরা বিজনেস উইমেন দেখতেই পছন্দ করবে স্যুইমের মঞ্চে। ইন্দ্রা ন্যুয়ি কি বিনীতা বালি জাতীয় ভারী ভারী নাম। এই ভদ্রমহিলা ঠিক বিজনেস উইমেন ডেফিনিশনটায় ফিট করেন না। কিন্তু একবার ওনাকে ডাকা হোক এটা আমার ইচ্ছে। দেখাই যাক না কেমন লাগে’।
এই একটিবারের জন্য দোলনা শান্তিপ্রিয়ার কাঠিন্যকে ভালোবেসে ফেললো।
পুনম আর রাধিকা দোলনাকে পরে জিজ্ঞেস করেছিল – ‘মল্লিকা সারাভাই ডান্সার না?’
দোলনা উত্তর দিয়েছিলো - ‘আমায় না জিজ্ঞেস করে প্রতি অ্যাসাইনমেন্টের আগে আমরা যা করি সেটাই কর – গুগল’।
তো স্যুইমের দিন মল্লিকা সারাভাইকে ইন্ট্রোডিউস করাবার সময় রাধিকা ছিলো এম-সি বা মিটিং কোঅর্ডিনেটর। ভালো বাঙলায় বললে ঘোষক।
রাধিকা যা বললো তা এইরকম – ডক্টর মল্লিকা সারাভাই ভদ্রমহিলা ম্যানেজমেন্ট মিটে মোটেই অপাঙক্তেয় নন। একটা এমবিএ ডিগ্রি আছে উনিশশো চুয়াত্তরের – যে বি-স্কুলটা থেকে তার নাম বেশি কিছু না - আইআইএম আহমেদাবাদ। তারপর গুজরাত ইউনিভার্সিটি থেকে ডকরেক্ট উনিশশো ছিয়াত্তরে – অরগানাইজেশনাল বিহেভিয়ারে। তারপর অবশ্য তথাকথিত বি-স্কুল গ্র্যাডদের তুলনায় খানিক ধিঙ্গিপনাই করেছেন। নেচেছেন – অভিনয় করেছেন একাধিক নাটক এবং সিনেমায়। তার মধ্যে পিটার ব্রুকের মহাভারতে দ্রৌপদী চরিত্রও আছে। কুচিপুড়ি এবং ভরতনাট্যম নাচের জন্য বেশ নাম করেছেন। দু দু’বার ভোটে দাঁড়িয়েছেন – তাঁর মধ্যে একবার নির্দল প্রার্থী হিসেবে লালকৃষ্ণ আদবাণীর বিপক্ষে – বলেছিলেন এটা ওঁনার সত্যাগ্রহ। বিপুল ভোটে হেরে জামানত বাজেয়াপ্ত হবার পর আবার নরেন্দ্র মোদীর এগেনস্টে চিল্লেছেন – তারে পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।অবশ্য ধিঙ্গিপনার সূচনা কলেজ জীবনেই – সেই আর্লি সত্তরে মিনিস্কার্ট পরিহিতা এক এবং একাধিক ছেলেকে ডেটিং করতেন। যখন লিভ টুগেদার করা শুরু করলেন তখন ওঁনার মা ভির্মি খেতে যাবেন যাবেন করছেন – মা’কে বুঝিয়েছিলেন – পার্মানেন্ট কমিটমেন্ট ওঁনার জন্য কিনা জানতে এটা করা দরকার। বিয়ে করেছিলেন –কলেজের বন্ধুকে – বিপিন শাহ। রেবন্তা আর অনাহিতা নামে একজোড়া পুত্রকন্যা হয় দু’জনের। সাত বছর পরে ডিভোর্স হয়। তারপরে ১৯৮৪ সাল থেকে মল্লিকা আর বিপিন এখনো অবধি ম্যাপিন পাব্লিশিং বলে একটি সংস্থা চালাচ্ছেন। এছাড়াও মল্লিকা ওঁর মায়ের সাথে দর্পণ অ্যাকাডেমি অফ পারফর্মিং আর্টস বলে একটি চালান আহমেদাবাদে। ভদ্রমহিলার নামের পাশে পদ্মভূষণ এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ক্রিস্টাল অ্যাওয়ার্ড জ্বলজ্বল করছে – আরো অনেক অ্যাওয়ার্ডস এবং অ্যাকোলেডসদের সাথে।
বলে রাখা ভালো রাধিকা যা যা বলেছিলো সবই পাব্লিকলি অ্যাভেইলেবেল ইনফর্মেশন। মল্লিকা নিজে তখনো বলতে ওঠেননি।
উঠলেন – প্রথমেই সামনের মনিটরটি অফ করালেন – নিজেকে দেখতে দেখতে কথা বলতে অস্বস্তি হয় বলে।
দোলনাদের গ্রুপে মৃগাঙ্ক আর মোহিত নিজেদের মধ্যে গুজগুজ করছিলো ভদ্রমহিলার এখনো কি গ্ল্যামার এটসেট্রা নিয়ে। দোলনা ভলান্টিয়ার হিসেবে আশেপাশেই ছিলো, পিছন থেকে দুজনের মাথায় বেশ জোরেই দুটো ট্যাপ করলো।
তারপর মল্লিকা সারাভাই বলতে শুরু করলেন – এর পর আর মাথা ঘামিয়ে কলম চালানো বোকামো। বুদ্ধিমানেরা বরাবরই ভালো জিনিস শেমলেস কপি পেস্ট করে। আর লেখক উপন্যাসের দ্বিতীয় অঙ্কেই নিজেকে বোকা প্রমাণ করতে খুব একটা উদগ্রীব নয়।
তাই মোটামুটি সংক্ষিপ্ত (কনটেম্পোরারি বাঙলায় বললে সংক্ষেপিত) অনুবাদ রইলো গোটা ভাষণটার।
“কৈকেয়ীকে আমরা খারাপ রানী বলেই দেখি। দোষের মধ্যে ভদ্রমহিলা নিজের ছেলেকে রাজা দেখতে চেয়েছিলেন। যুগ যুগ ধরে রাজারা নিজেদের ছেলেদের রাজসিংহাসনে আসীন দেখতে চান – কিন্তু যে মূহুর্তে একজন রানীর মনে সেই ইচ্ছা হলো – আমরা তাকে তিন হাজার বছরের দোষারোপ ছাড়া আর কিছুই দিলাম না।
শূর্পনখা রামকে প্রেম নিবেদন করতে গেছিলেন – প্রত্যাখ্যাতা হয়ে লক্ষণের কাছে যান – দুজনের কাছেই উপহাসের পাত্রী হয়ে এবং আক্ষরিক অর্থে নিজের নাক কাটিয়ে লঙ্কা ফিরে যান – আমরা ভদ্রমহিলাকে পাপিষ্ঠা রাক্ষুসী বলেই জানি। ঘটনাক্রমে শূর্পনখার নাম অর্জুন আর রাম-লক্ষণের নাম সুভদ্রা-চিত্রাঙ্গদা হলে – আমরা বলতাম আহা কি বীর – দু দু’জন বীরাঙ্গনা তাঁর প্রেমাস্পদা।
ঠিক এইভাবে আমরা মেয়েদের দিকে দেখি, এই আমরাটা শুধু ছেলেদের নয় – অন্যান্য মেয়েদের জন্যও সমান ভাবে প্রযোজ্য।
সাকসেসফুল উইমেন বস্তুটা খায় না মাথায় দেয় জানার আগে আমরা আরেকটু খতিয়ে দেখি? সাকসেস জিনিসটা কি? আমরা আমাদের কুড়ি থেকে তিরিশ বছর বয়েসের মধ্যে কিছু ডিসিশন নিয়ে ফেলি – যেগুলো আমরা আর কখনো ফিরেও দেখিনা – আর সেগুলো পরবর্তীকালের বিরাট বিরাট মনখারাপগুলোকে জন্ম দেয়। স্টুডেন্ট হিসেবে আমরা ভাবি ঠিকঠাক গ্রেড পাওয়া সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস – এটাও ফেলে দেবার মতো নয় যে সত্যিই ওটা একটা অন্যতম ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস। তারপর? পিনাকল থেকে বেরিয়ে প্রথম বড়ো চাকরি, প্রথম বাড়ি, প্রথম গাড়ি – ইন শর্ট ‘এস্ট্যাব্লিশড’ হয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট মনে হয়। কিন্তু আমরা তিরিশের মধ্যে এই পাওয়াগুলো পেয়ে গিয়ে একবারও ভাবিনা যে আমরা একটা খুব খুব সিম্পল জিনিস হারিয়ে ফেলছি – জীবন।
আমার জীবনে আমার সবসময় একটা মেন্টাল চার্ট ছিলো – এর মধ্যে কোনো কোনো এলিমেন্টস চিরকাল ম্যাটার করে এসেছে – কোনো কোনো এলিমেন্টস মাঝেসাঝে। কাজ, পরিবার, আমার জন্য শারীরিক সুস্থতা, টাকাপয়সা – আর আমি বারবার একটা জিনিস ভেবে এসেছি – কোনটার কখন প্রায়োরিটি বেশিকম হওয়া দরকার। কোনটায় কখন টাইম আর এনার্জি বাড়ানো কমানো দরকার। কিন্তু আদতে এটা একটা ডায়নামিক চার্ট – আর প্রত্যেকটা এলিমেন্টে টাইম টু টাইম সুইচ অন অফ করার ক্ষমতাটা আমার হাতে ছিলো – জীবনটা অটো মোডে চলেনা।
আত্মমন্থন বলে একটা প্রসেস তোমরা কেউ করেছো? এটা বুঝতে যে তোমরা কে আর কী চাও? সমাজ নয়, পরিবার নয়, পিয়ার প্রেশার নয়, বাবা-মা নয়। তুমি কী চাও? তোমরা অ্যাস ইন্ডিভিজুয়ালস কী চাও? আমরা বেশির ভাগ মানুষই এতোগুলো মুখোশ পরে থাকি – যে এই প্রশ্নগুলো নিজেদের করার সাহসটা জোটাতে জোটাতেই জীবনটা কেটে যায়। একটা বিবাহিতা যুবক-যুবতী সন্তানধারণ করতে চায় কিনা নিজেরাই সেটা জানেনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। জেনারেলি যেটা হয় – কোনো মামি এসে বলে – বৌমা সুখবরটা কবে পাচ্ছি। মেয়েটি প্রেগনেন্ট হবার সাথে সাথেই সবাই আশু প্রাণের জন্য কোন স্কুলে অ্যাডমিশন নেওয়া যায় ভাবতে থাকে। স্কুলে গেলেই চিন্তা শুরু হয় গ্রেড, টিউশন নিয়ে। এমন কি এই ভাবনাটাও শুরু হয় যে সংসারের কোন খাতে খরচা বাঁচালে আরেকটা টিউশনে ঢোকানো যাবে সন্তানকে। তারপর কলেজ, কেরিয়ার, কি করা উচিৎ আর কি করা উচিৎ নয়, তারপর তার বিয়ে এবং বিয়ে হলেই তার পরবর্তী জেনারেশন নিয়ে ভাবনাচিন্তার সূত্রপাৎ।
কেউ এখনো পর্যন্ত ভেবেছে একবারও যে চিৎকার করে উঠে বলে – থামো। না – কারণ সমাজ একটা গিল্ট ট্র্যাপ চাপিয়ে রাখে। বাবা-মা বলে দেখো তোমার জন্য কতো কিছু করলাম – এই দিনটা দেখবার জন্য?
ওয়েল – কাউকে বাবা-মাকে গিয়ে বলতে হবে – হেল্লো আমি স্বেচ্ছায় পৃথিবীতে আসিনি। তোমরা – সেক্স করেছিলে – যার জন্য অবতীর্ণ হয়েছি। আমার ঘাড়ে এই গিল্ট ট্র্যাপটা চাপিও না।
আসলে আমরা সবার ওপর – নিজেদের ওপরেও এই গিল্ট ট্র্যাপটা চাপিয়ে রাখি। তোমরা সবাই আমি অরগানাইজেশনাল বিহেভিয়ারে পি-এইচ-ডি শুনে ফিকফিক করে হাসলে।ভাবলে মহিলা নিশ্চয় ডাম্ব, এইচ-আর ছাড়া কিছু জোটেনি।
আমি আই-আই-এমে পড়ার সময়ই কিন্তু ঠিক করে নিয়েছিলাম – জীবনে এমন কোনো সেক্টরেই কাজ করবো যেটা আমার দেশের প্রত্যন্ততম নাগরিকটার জীবনেও কিছু ভালো প্রভাব ফেলে।
বিশ্বাস করো একটা নট ফর প্রফিট অরগানাইজেশানের ব্যালান্স শিট, প্রফিট এন্ড লস স্টেটমেন্ট সামলানো কিন্তু একটা ফর প্রফিট অরগানাইজেশানের স্টেটমেন্টে জালিয়াতি করার চেয়ে অনেক অনেক বেশি কঠিন কাজ।
কারণ দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রফিট একটা খুব স্বাভাবিক মোটিভেশান থাকে। আমার অরগানাইজেশনাল বিহেভিয়ার স্কিলটা সেখানে কাজে লাগে। মানুষকে কিভাবে মোটিভেট করা যায় সেসব ক্ষেত্রে যেখানে প্রফিট মানে টাকার ঝনঝনানি নয়।
কিভাবে দু’হাজার বছরের অ্যাটিটিউড চেঞ্জ করাটাই একটা মোটিভেশান হতে পারে – সেটাই চেষ্টা করতে হয়েছে। কারণ এক্ষেত্রে টার্গেট অডিয়েন্সকে শোনাতেও দশ বছর লেগে যেতে পারে।
আমার বেশ কিছু আই-আই-এম সহপাঠী এখন বিভিন্ন কোম্পানির প্রেসিডেন্ট, সিইও, পটবেলি, আদ্ধেক দাঁত খোয়ানো মানুষ – যারা নিজেরাও স্বীকার করে তারা তাদের সন্তানদের চেনেনা। তারা কেউ ছবি আঁকতে চেয়েছিলো – পারেনি, চেষ্টা করেনি। সেটা বোঝার জন্য কিন্তু পঞ্চাশের রং সাইডে দাঁড়াবার দরকার নেই। একবার থামো আর ভাবো – আমি কী যেটা করছি এটাই চাই? অনেক পুরুষ বলে আমরা যদি বাড়ি গিয়ে বলতাম – আমার স্ত্রীকে বাইরে কাজ করতে দিয়ে আমি যদি ঘরে বাচ্চা সামলাতাম – আমার বাবা-মা সেটা মেনে নিতো?
জাকির হুসেন – ভারতবিখ্যাত তবলচি – তবলচি ঘরানায় জন্ম কর্ম – আমার বন্ধু – একবার আমায় বলেছিলো – জানো মল্লিকা পৃথিবীর সমস্ত অ্যাওয়ার্ড জিতেও মাঝে মাঝে ঘরে কাকী-পিসি-মাসির কাছে প্রশ্ন শুনি – বেটা তুমি সেটল কবে করবে?
কাজটা সত্যিই সোজা নয়। আমি জীবনে পাঁচটা কেরিয়ার সামলেছি, বাইশ বছর ধরে আমি সিঙ্গল মাদার, একটা ছোটোখাটো অর্গানাইজেশন চালাই যেটা তিরিশ হাজার আর্টস গ্র্যাজুয়েট প্রোডিউস করেছে। আর সেখানে এমন কিছু ডিপার্টমেন্ট আছে – যেগুলো সোশাল চেঞ্জের জন্য আর্টস ব্যবহার করে।
বাচ্চা চাইনি কোনোদিন, বিয়েও না – একদিন একজনকে পেলাম যার সাথে দুটোই পেতে ইচ্ছে করলো। পেলাম। কিন্তু বাচ্চা চেয়েছিলাম – কারণ বাচ্চা চেয়েছিলাম। ভেতর থেকে, চাইতে হয় বলে নয়।
আমায় বছরে ছয় থেকে আট মাস রাস্তায় কাটাতে হয় – কিন্তু আমি চাইনি আমার সন্তানরা আমার থেকে আলাদা থাকুক। কিন্তু এ’রম একটাও স্কুল নেই যেখানে সন্তানরা মায়ের সাথে ঘুরতে ঘুরতে লেখাপড়া শিখতে পারে। তাই ঠিক করলাম নিজেই সে’রম একটা স্কুল বানাবো। স্কুলটায় একটাই পরীক্ষা হয় – যখন বাচ্চারা ফেরৎ আসে তাদের একটা প্রেজেন্টেশন দিতে হয় – যেখানে যেখানে ঘুরে এলো তার ওপর। শুধু আমার সন্তানরা নয়, অনেকের সন্তানই আস্তে আস্তে স্কুলটায় যোগ দিলো। কেউ পিরামিড এঁকে আনলো, কেউ অজন্তা-ইলোরার ছবি তুলে আনলো। কেউ প্রথম হলোনা, কেউ – গোল্ড মেডেল পেলোনা। কিন্তু তাদের শৈশবটা আনন্দে কাটলো।
ওদের স্ট্রেস কম ছিলো। তাই বলে সমস্যা ছিলোনা তা নয় – সব বাচ্চাদের নিজেদের বাবা-মা’কে নিয়ে সমস্যা থাকে। কিন্তু সেটা সত্যিই এমন কিছু বড়ো সমস্যা নয়।
সমস্যা তো আমারও ছিলো – ফ্যাসিজমের এগেইনস্টে পলিটিকাল স্ট্যান্ড নেবার সমস্যা। আমার বিরুদ্ধে ফলস কেস ফাইল করা শুরু হয়েছিলো – আমার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো – কারণ আমি নাকি বেআইনিভাবে ভারতীয় নাগরিকদের ইউনাইটেড স্টেটসে পাঠাচ্ছিলাম। সমস্যা ছিলো – বড়ো বড়ো সমস্যাই ছিলো।
কিন্তু কোনো কিছুর জন্য আমি আর পারছিনা বলে দাঁড়িয়ে পড়তে নিজের ওপর একটা বিশ্বাস লাগে – যে এটায় আমি জোর দিয়ে বিশ্বাস করি। আর কেউ এটা আমার ওপর চাপিয়ে দেয়নি।
এটা কিন্তু শুধু নারীদের নয় – পুরুষদেরও বিশ্বাস করতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের চেয়ে পুরুষরা সামাজিক দায়বদ্ধতায় বেশি ট্র্যাপড। আজকাল মেয়েরা বিদ্রোহী হবে – সেটাই অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম হয়ে উঠেছে – পুরুষদের সেই সুযোগটাও নেই। সেটা অনেক সময় না বুঝেই।
সামাজিক দায়বদ্ধতা কেমন হয় দেখবে? একটা খারাপ প্রশ্ন করি – এখানে সব মেয়েরা স্যুট পরিহিতা কেন? প্যান্ট না পরলে ম্যানেজার হওয়া যায়না কেউ বলেছে বুঝি?
এই দায়বদ্ধতা কিম্বা ভিন্ন শব্দে ক্রীতদাস মানসিকতার কথাই বলছি। এই ক্রীতদাস মানসিকতা যেটা আমাদের গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আমাদের দেশে কোনো এক সময় সবকিছুর বিরুদ্ধে প্রশ্ন করা হতো – বেদ, উপনিষদ প্রশ্ন দিয়েই লেখা। এখন সেই দেশেই ক্রীতদাস মনীষার নাগরিকরা প্রশ্ন করতেই ভুলে গেছে।
আমরা বড়ো বড়ো বিষয়ে প্রশ্ন করি, জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলো না করে। পাঁচটা গাড়ি আর একটা গাড়ি থাকার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করি। আসলে আমাদের সিটে ঠেকাবার জন্য পেছন কিন্তু একটাই সেটা ভুলে যাই।আমরা যতোবার যতো যতো বার পৃথিবীকে বোঝাতে যাবো আমরা কি পরি, কি কিনি, আমরা কতোটা ইম্পর্ট্যান্ট – আমরা নিজেদের ছোটো করবো। ক্রীতদাস মানসিকতা।
এটা আসল আনন্দ নয় – নিজের জামা কাপড়ে অন্যের নাম লাগিয়ে নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। থাকতে পারেনা।
জীবনকে আশি বছর বয়েসে বুড়োর চোখে দেখে কোনো লাভ নেই – কারণ তদ্দিনে জীবন শেষ হয়ে যাবে। প্রশ্নটা জীবনের শুরুতে করাই ভালো না? যাতে জীবনটা না নষ্ট হয় – কারণ আজকের বাজারেও জীবন কিন্তু দুর্মূল্য – বরাবরের মতোই।
প্রথম প্রশ্নটায় ফিরে যাই। সাকসেস কি? তোমাকে তোমার সাকসেসটা ডিফাইন করতে হবে।
খুব জেনেরিক ভাবে বললে প্রত্যেকদিন সকালে উঠে – ইয়েস অ্যানাদার ডে বলাটা সাকসেস। নিজেকে জানাটা সাকসেস। নিজের ভেতরে ঢুকে নিজের ইচ্ছের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়াটা – সাকসেস। তোমাদের আদ্ধেকই হয়তো মার্কেটিংয়ে যাবে আর পৃথিবীর বারোটা বাজাবে। কারণ আপামর জনতা আসলে তোমাদের কাছে তোমাদের বানানো সাকসেসের ডেফিনিশন কিনবে।
কাম অন গাইজ – ওয়েক আপ। তোমার নিজের জন্য কি আছে সেটা খোঁজো। নিজের অন্তরাত্মার মুখোমুখি দাঁড়াও। মনে রেখো এটা ডায়নামিক ব্যালেন্স – এটা পাল্টাবে।সেটাকে মেনে নিয়েই বাঁচার সাহসটা দেখাও।
থ্যাঙ্ক ইউ”।
স্ট্যান্ডিং ওভেশনের সময় দাঁড়িয়ে পড়া প্রথম দুটো মাথা মৃগাঙ্ক আর মোহিতের ছিলো।
(ক্রমশ)

আপনার মতামত জানান