ভ্রমর, অভিন্ন হৃদয়াসু,

মেঘ বসু


ভ্রমর, অভিন্ন হৃদয়াসু,
কাল ছায়াপথ ধরে যেতে যেতে তোমার সাথে দেখা হল। দেখা আমার ফুরোবে না কোনওদিন। প্রতিবার দেখা হলে ভাবি, শিহরণ রেখে দিই গুছিয়ে। লজ্জাভার, ইশারার চোরাটান। জানি, আমাকে তোমার প্রয়োজন হবে না কোনওদিন! বেসুরো হবে না বাঁশির ঐ সুর। কদমের গন্ধ ঠিক মিশে যাবে আসন্ন বর্ষায়। শুধু আমি আর প্রকাশ্য হব না তোমার কাছে। তুমি আর নিবিড়ের মতো ওড়াবে না হাসি, আমার দিকে! পাঠাবে না কলেরি সামান্য তিলের সৌরভ। জানি, আমি কোনওদিন অসামান্য হব না। হতে পারব না জাদুকর। আজ থেকে শব্দ আর মৃত্যু সব থেকে স্বজন আমার। হয়ত কোনওদিন পৌঁছবে না এই চিঠি তোমার কাছে। তবু জেনো, আমার সমস্ত অক্ষর জুড়ে তোমার হাসি। তোমার কুসুম গন্ধে আমার বাগান দিশেহারা। আমার সরোবরে তোমার চোখের ধারা। আমার নীরবতা খুঁজছে তোমাকে... কাল দূর থেকে দেখলাম—তুমি সূর্যাস্ত নিয়ে চলে যাচ্ছ... ঠোঁটে বাঁকা হাসি। পাশে ওটা কে? ইঞ্জিনিয়ার! ও যেন তোমাকে যন্ত্র না বানায়! আর তোমার গান যেন কোনওদিন থেমে না যায়। আমি বেতার খুলে শুনব তোমার গান। রাত্রির বিজন ভেঙে ভেসে আসবে তোমার মুখ। ধ্যানীর মগ্নতা নিয়ে তুমি গাইছ—‘আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী...’। ভ্রমর, দূর নিঃশব্দ যামিনী কুহক, আমাকে এবার মৃত্যুর অনুভূতি দাও। দাও স্তব্ধতা। তুমি ভালো থেকো। জীবনের বিচিত্র গমন নিয়ে। আমি থাকি অক্ষরের দাস হয়ে। জানি সেখানেই মিশে আছ তুমি, আমার নীরবতা হয়ে; প্রেম হয়ে, বিরহের আশ্চর্য বাগান হয়ে...


ইতি
তোমাদের...
হারিয়ে যাওয়া গানের মাস্টার

আপনার মতামত জানান