সোহাগ সাম্পান আমার,

অদিতি বসু রায়


সোহাগ সাম্পান আমার,
চিঠি লেখার দূরত্ব ছিলো না বলে লিখিনি। আজ এই মুহূর্তে বসন্ত এসে জানালো, আমার কথারা তর কাছে পৌঁছতে পারেনি বলে এর লক্ষ-কোটী দিন বসন্ত আনতে পারেনি আমাদের দু’জনের কাছে। এবছর শীত তাই হিম এনেছিল কিছু বেশী। ক্রমশ জমে যেতে যেতে তাই অক্ষর বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলাম। একই ছাতায় আমরা মাথা বাঁচাতে শিখিনি বলে একই সোয়েটার আমাদের ওম দিতে পারবে, না, তাই হয় নাকি? কিছু মনে করিস না, তোকে দীর্ঘদিন ভালোবাসতে পারাটা কঠিন। কেননা, তোর আঙ্গুলে অনেক জড়তা, ঠোঁটে ব্যস্ততা আর অভ্যাসে নিভে যাওয়া আগুনের তাপ। আমার সঙ্গে দেখা হওয়া মুহূর্তেও তোর সেলফোন তোকে বেশী টানে। মরে যাওয়ার মত তীব্র রাগ হয় আমার। তোর এই তুমুল উদাসীনতাকে দেখিস, একদিন কেমন গোড়া থেকে উপড়ে তোকে ভাবিয়ে আমি রাস্তায় নামাবোই, নামাবো। আসলে, প্রেম-ট্রেম বলে কিছু নেই। বারবার তোকে এটা বলতে গিয়েও বলিনি। মুগ্ধতা আছে। তোর সর্বস্বে আমার মুগ্ধতা। শরীরেও। কত চান্দ্রমাসে দোল-পূর্ণিমা উদযাপন করেছি আমরা। শরীরে-শরীরে খেলেছি জ্যোৎস্নার গোল্লাছুট। আর তোর সামান্য ধনুকের মত অপূর্ব চোখের পাতায় চুমু-চুমু আরো চুমুর সংসার আমার তৈরী করতে ইচ্ছে। -এই সবই মুগ্ধতা। তবে পুরুষের প্রতি প্রেম বড় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। তোরা বড় অল্প জলের সাঁতারু। আরু গভীরে গেলে তোদের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তোরও। তখন তোর চোখের পাতায় রোদ পড়ে না জানিস্‌! দ্রুত সিগারেট ফুরিয়ে যায়। মেঘে মেঘে দুপুর কাঁদতে থাকে। আমি ভুল না করেই একজন অন্ধকে দিয়ে দি পঞ্চাশ টাকার একটা নোট। বেভুল মেট্রো স্টেশনে গিয়ে পরপর ট্রেন গুনতে থাকি। কোনও জনকেই পছন্দ হয় না আমার। গ্যাঁজার ঝাপটাতে আরও বেশী স্বপ্ন হয়ে উঠি।শপিং মলগুলোতে ইচ্ছে করে কাগজ কুচি কুচি করে উড়িয়ে দি। তারপর ভয় করে। মরে যেতে ভয় করে। আরও বেশী ভয় করে বেঁচে থাকতে। তোকে ছাড়াও যায় না, তোর সঙ্গেও থাকা যায় না। এ কেমন মুশকিল বল? তুই বল? তোর সঙ্গে বাঁচা যায় না। এমন ঝামেলাতেই পড়ে কেউ? রাগে আমার সময় কেঁপে ওঠে। গলা দিয়ে ছুটে আসে রক্ত। ব্যথার ওষুধ। ইনহেলার-ডাক্তার – সক্কলে শুশ্রুষা লেখে। কেবল তুই আমাকে মারতে শিখিস। মরতে শেখাস। ওভারব্রিজ ডাকে ভোররাতে। মেট্রোর থার্ডরেল হাতছানি দেয়। আর তুই। লাস্ট কাউণ্টার কবে দিবি তুই ? সামান্য আগুন দিয়ে দেবো আর নিয়ে যাবো অহংকারের কূর্ণিশ।
-আমি, আমি
-অর্থাৎ আমরা চারজন

আপনার মতামত জানান