আসল গল্প

দীপব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়


অভীক এবার সত্যিই চিন্তায় ফেলে দিল। এত তাড়াতাড়ি লেখা হয়। কি বিরক্তিকর ভাবে তাড়া দিতে পারে ছেলেটা। কি মধুমাখা ভাষা। “পারলে একটা অণুগল্প দাও তো!” দীপ খুব ভালোভাবে জানে ওই “পারলে”টা নেগলিজিবল, অতিরিক্ত। না দিতে পারলে মুখে কিছু বলবেনা। পরেরবার থেকে আর চাইবেও না। নিজে থেকে পাঠালেও উচ্চবাচ্য করবেনা। “আদরের নৌকা”র এ মাসের কবি, ও মাসের গল্পকার কলামে ঠাঁই পেতে গেলে শুন্য থেকে শুরু করতে হবে। সেটা দীপ হতে দিতে পারেনা। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আজ সে অভীকের থেকে লেখক স্বীকৃতি পেয়েছে।
কজনই বা চিনতো দীপ-কে? তার লেখার হাতটা তো বাংলা অনার্সের বাইরে জল থেকে তোলা মাছ। দীপের পরিচিতি তার বিষয় নির্বাচনের জন্য। এই বিষয় নির্বাচনই ফেসবুকে তার একটা ক্যাপ্টিভ অডিয়েন্স তৈরি করেছে। দীপ যাই লিখুক তারা “অসাধারণ” বলে কমেন্ট করবেই। কিভাবে এদের হাতে রাখতে হয় সেটাও দীপ ভালোই আয়ত্তে এনেছে। ফ্যান ফলোয়াররা বেহাত হলে লজ্জার একশেষ।
কি লেখা যায়?
এই কদিনে তেমন কোনও ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট তো কানে আসেনি। আইপিএল নিয়ে লিখবে? আইপিএল নিয়ে গল্প? নিজেই হেসে ফেললো। কষ্টকল্পনা করলেও পারবেনা। পুরভোট? রেপ? কিসব ভাবছে! নিজেকে খবরের কাগজ মনে হচ্ছে তো।
ব্যোমকেশ নিয়ে অনেক কিছু চলছে আজকাল। ব্যোমকেশ এর মত একটা গোয়েন্দা খাড়া করবে? ব্যোমকেশ সত্যান্বেষী ছিল, এ হবে...একে কি করা যায়? নাঃ, থাক, ব্যাপারটা খুব একটা ইয়ে লাগছেনা। এত কম সময়ে, হবেনা।
একবার নেট খুলে কোনও একটা ফরেন সিনেমার প্লট দেখে নেবে? এগুলো হেব্বি চলে। প্রচুর লাইক, কমেন্ট পড়বে। কয়েকদিন আগে স্পেন না কোথাকার একটা ছবির প্লট কলকাতায় ফেলে লিখেছিল। কেউ বুঝতেই পারেনি। বরং গৌতমদা কমেন্ট করেছিল, “অমুক পরিচালকের একটা ছবি আছে। একই বিষয়। যেভাবে এই জটিল বিষয়টা নিয়ে ভাবনার গভীরে গেছিস, দ্যাটস কমেন্ডেবল। খুব ভাল লাগল।“
কিন্তু বারবার এক কাজ করা যাবেনা। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
তাহলে? সুবীরদা বলত, লেখা না এলে কেন আসছেনা সেটাই লেখো। একটা কিছু ঠিক দাঁড়িয়ে যাবে।
দীপ লিখতে শুরু করে। “অভীক এবার সত্যিই চিন্তায় ফেলে দিল। এত তাড়াতাড়ি লেখা হয়। কি বিরক্তিকর...”

আপনার মতামত জানান