একটা তক্তার ব্যাট ও সেই তুমি ...

সেখ সাহেবুল হক


অংক পরীক্ষার আগের রাতেও ঘুম ভেঙে গেছে অতর্কিতে।মাথার কাছে রাখা তক্তার ব্যাটটা তুলে স্যাডো প্রাকটিস,যাতে কালকের ম্যাচটাও তুমি জেতাও...অ্যালান ডোনাল্ডের বিষাক্ত সুইং সামলেছো অবলীলায়,সেঞ্চুরীর পর চুমু খেয়েছো হেলমেটের তেরঙ্গাতে - জিতেছে দেশ।
পরীক্ষার হলে তিনখানা পাটিগণিত ছেড়েছি অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলের মতো,সম্পাদ্যটা চওড়া বাঁধের মত এঁকে কোনোরকমে খাতা জমা দিয়ে ফিরে গেছি ঘরে।বাবা বলেছিলেন অংকে একশো পেলে ব্যাট কিনে দেবেন।অংকে একশো পাওয়া হয়নি - বলা ভালো পেতে চাইনি,তোমার একশোটাই বেশি জরুরি ছিলো।
তক্তার ব্যাটে রংপেন্সিল দিয়ে লিখেছি এম.আর.এফ,ওতেই কেটে গেছে ছোটবেলা।বড় হয়েও কোন ব্যাট কিনিনি,তুমি ক্রিজে নামলে তোমার ব্যাটেই ব্যাট করেছি।ক্ষুধার্ত ম্যাকগ্রার বলে যখন ছিটকে গেছে স্টাম্প,পেটব্যথার অজুহাতে শুয়ে গেছে অভুক্ত রাত... স্টিভ বাকনোরের সাথে আমার আজন্ম শত্রুতা।প্রতিটা অপূর্ণ শতরান জানে ভুল আউটের মানে...বাড়িতে টিভি ছিল না,এর বাড়ি ওরবাড়ি পড়ে থাকা।টিভির দোকান,চায়ের ঠেক কিংবা 'ওনলি ফর মেম্বার্স' গোছের ভাগাড় ক্লাবে একপ্রকার হাতে পায়ে ধরে একটু জায়গা করে নেওয়া ।আড়ালে মান্না দে বহুবার গেয়েছেন - 'আমি সবার পিছনে থাকবো...' । তুমি যেদিন শোয়েব আখতারের চামড়া তুলছো,পড়তে বসিনি বলে আমার পিঠেও বসেছে কালশিটে দাগ।বাবা একটু আড়াল হলেই অল ইন্ডিয়া রেডিওর চোখে মনে মনে কল্পনা করে নিয়েছি পারফেক্ট কভার ড্রাইভগুলো।
দুহাজার সাতে ল্যাজেগোবরে হয়ে ফিরছে দেশ।তোমার ছবির কানে দুল,ঠোটে লিপস্টিক,হাতে চুড়ি...ভগবানের এই অবমাননায় নিজেকে বৃহন্নলা ভেবে স্বান্তনা দিয়েছি।নাস্তিকের ঈশ্বর থাকে না,তবু সচিন তাদের দেবতা।
তোমার একশোটা একশো,কয়েকশো ব্যাট।আমার অংক পরীক্ষায় কোন সেঞ্চুরী নেই,ব্যাট রয়ে গেছে স্পোর্টস সেন্টারের গোডাউনে।হয়ত আজও বিক্রি হয়নি সেই ব্যাট...
হাজার মিথ্যে বলা,অগুনতি স্কুল কামাই,পেচ্ছাপের বেগ চেপে রেখে পুরো ওভার দেখা,প্রবল টেনশনে কেঁপে ওঠা কব্জি... চোখবুজে প্রার্থনার রেকর্ড নীরবে গড়েছি।তক্তার ব্যাটে যেটুকু কৈশোর ছিলো বেঁচে,তাও গেলো।এতদিনে বুঝলাম তুমি কাঁদাতেও জানো

আপনার মতামত জানান