কাঁচ-যাপন

সোম সরকার
কাঁচের মত ভাঙতে গেলে আগে পায়ের তলায় মাটি শক্ত হতে হবে । একথা অনেকে হয়তো মানে । আর যারা মানে না তারা শুধু ছুঁড়ে ছুঁড়ে কাঁচ ভাঙে, পা থেকে অনেক অনেক অনেক দূরে একটা কিছু লক্ষ্য করে । অব্যর্থ কাঁচভাঙা কখনোই সুখের হয়না যেখানে টিপ একটা নিছক স্পোর্টিং ।

চোখের খোলা কাঁচের উপর আরেকটা কাঁচ নিলে আমরা ধরে নিই শক্তিহ্রাসের স্বাভাবিকতা । কিন্তু ডাক্তারেরা আমাদের আশ্বাস দেয় 'পাওয়ার' বেড়ে গেছে বলে । উঃ ? পারে এরা ? দারুণভাবে ম্যানেজ করতে পারে । এই ম্যানেজমেন্টের চেয়ে বড় মিথ্যা আর হয় না । কারণ, উপরিকাঁচে মিথ্যা ধরা পড়ে ।
অনিল কাপুরের মিস্টার ইন্ডিয়া । সেই লালকাঁচ । অশরীরীর একমাত্র দুর্বলতা । মনে পড়ে ? নিশ্চয়ই । শুধু ভুলে যাই আমাদের সশরীরেও হাজারো সমস্যা । কাঁচের টুকরো বিঁধে দিলেই কি আর সমস্যা মিটবে ? বোকার মত প্রশ্ন করে ফেলি আর রক্তের সাথে বেরিয়ে আসে লাল লাল কাঁচ । বস্তুত নিরুত্তর । এতকিছুর পরও হাততালি কুড়োয় মিস্ ইন্ডিয়ারা ।

পুলিশ আসে । অ্যাম্বুলেন্স আসে । লোকজন জমা হয় । সবই চলে খুব স্বাভাবিক ছন্দে । আস্তে আস্তে সব ফাঁকা হয় দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়িসুদ্ধু । রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা চিকমিক করা কাঁচের গুঁড়ো সযত্নে এড়িয়ে চলে পরের গাড়িগুলোর চাকা । চাকা কি এতটা মজবুত নয় ? নাকি অতিসাবধানতার শো-অফ ? বরং বসে বসে একটা রিপোর্ট বানাই যার হেডিং 'কাঁচের গুঁড়ো দিয়ে যায় চেনা' ।

যাদের মুদ্রাদোষ নেই তাদের মতে বেশিরভাগ একই কাঁচের দু'পিঠ । এপিঠে 'আমি', ওপিঠে 'আমি, তুমি ও সে' ।

আপনার মতামত জানান