তিরভা মুদ্রিকা সার্ভিসের তিনটি কবিতা

দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়
সেকন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার
[উৎসর্গ- কমরেড অপ্রতিম মুখোপাধ্যায়]

চলো কমরেড, কাল ভোর বাড়লে বিগ্রেডের দিকে যাওয়া যাক
তারপর খালাসিটোলায়,
বেলেল্লা সর্বহারা তমিস্রায় এসে
নিজেদের সূর্যপরীক্ষা করে নিতে নিতে বুঝে নিই রক্ত কতো লাল
আলিমুদ্দিনের ঠিক পেছনে ঘুপচি ওই গোমাংসের ঠেকে
থ্যাঁতলানো সংখ্যালঘু, বোরখাপরানো ওই যৌনতায় দেখো
আমাদের ব্যক্তিগত পার্টির রাজ্য দপ্তর
ধর্মতলা সরগরম, সস্তার বেশ্যা আর ভিখারির কোহলচন্দ্রিমা
এই সমস্ত পেরিয়ে চলো
শহীদ মিনারের নীচে শহীদের মতো শুয়ে থাকি
দলিতের মড়া ঘুমে পাশে থাক শ্মশান কলকাতা
গ্রামসির উপমায় ঝরা ফুল, প্রথম ফাগুনে
কমরেড, তোমার নেশা তীব্র থেকে তীব্রতর হলে
বোমির উল্লাসে দেখো ফেটে পড়বে কতো না স্লোগান,
তুমিও ভালোই জানো ট্রামের লাইন সোভিয়েত দেশে
লেনিনের মূর্তিও পাখির হাগায় রোজ ভরে যায়

সময়ের মলমূত্র খেতে খেতে যেভাবে এখন
তোমার ফেরার পথও বেলুড় মঠের দিকে সরে যায়...।।




কিংসওয়ে ক্যাম্প
[উৎসর্গ- তাকে, ‘তাহাদের চেয়ে তুমি কাছে আছো আমার হৃদয়খানিতে’]

জুলেনা চলো না এই জন্মের মতো আমরা দুজনেই হিপি হয়ে যাই
পকেটে অল্প টাকা, ছেঁড়া জামা, বান্দানা,
এই নিয়ে পাহাড়ে পাহাড়
গলায় গুঞ্জার মালা, সারা হাতে রিষ্ট ব্যান্ড, পিঠে চোরা ট্যাটুর দাগ
জুলেনা, কেমন হত যদি এই লাল নীল রাতে
এল এস ডি ভরা ঘরে জ্যোৎস্নার মতো
তুমিও নগ্ন হয়ে ফিরে পেতে আমারই অতীত?
পকেটে কলম থাক, তার পাশে ছোট্ট ছিলিম
স্বপ্নের মতো কিছু মুখের পাগল পায়চারি-- আলগোছে নদী মেখে
উসকো খুসকো চুলে আঙুলের অবাধ সাঁতার
উপত্যকার মতো ক্লিভেজের গভীরে যে সমুদ্র গান গেয়ে যায়
যার ঘ্রাণে অঘ্রাণে কত ছায়া প্রেম হয়ে ওঠে
কত ধুলো কত বালি, কত কত নুড়ি ও পাথর সময়ের অবসরে
আমাদের মতো
অচিরেই ডুবে গেল আকাশের ভেজা সীমানায়

জুলেনা, তোমার দেহে রক্তের প্রলাপে জীবন
শরীরের অজুহাতে আমাদের খুন করে যায়



শোরা কোঠি ২১৪৫
[উৎসর্গ- রা, অনুজ, প্রিন্স, জিসি, রুপম ইত্যাদি এক বোতলের, এক জয়েন্টের বন্ধুদের]
'মালকাগঞ্জ সে আয়ি আওয়াজ ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চিল্লে উঠে চারজন মাতাল
শোরা কোঠির পাঁচ তলা থেকে ঝাঁপ মারল দিকশুন্যপুরে
ডিব্বার শেষ সিগারেটের মতো ফুরিয়ে আসছে কলেজ লাইফ
অন্ধ গলিতে গিয়ে স্কোর করা গেলেও আর ফিরে পাওয়া যাবে না এমএ প্রিভিয়াসের নেশা
সমস্ত ঘোরই যদি শেষ হবার জন্য হয়, অশেষ তাহলে কাকে বলে?
আজকাল আমরা প্রত্যেকেই তো একেকটা চোরাই টমাটোর সাথে শুই
তবু আরেক বোতল বিয়ার খুললে সময় কিছুটা থমকায়
পেছনে চলুক লিওনার্ড কোহেন, আরেকটু চড়লে সুজান এসে নদীর কিনারে নিয়ে যাবে
যিশু খৃষ্ট রোল করবেন শতাব্দীর শেষ সেই জয়েন্ট
আর আমরা হেঁটে যাবো অনির্বাণ দুপুরগুলোয়

জলের ওপর দিয়ে, জলের ভেতরে থাকা আশ্চর্য নির্লিপ্তির দিকে

আপনার মতামত জানান