ফিবোনাকি পদ্য

তপোময় ভট্টাচার্য্য

একসময়,
ছেলেবেলায়,
তোমার কোলে
মাথা রাখলেই দুঃখগুলো
কেমন হাসিমুখে মামাবাড়ি চলে যেত ।
আজ কি ওরাও আমার মত বড় হয়ে গেছে ?

একটা নৌকা,
একটু কাগজ পেলে
ভেসে যেতে পারত বৃষ্টির জলে ।
আমার কালি-কল্পনার অভাবে অকালেই ভেসে যায় কবিতারা ।

আজকের
ভ্যালেন্টাইন,
পুরোনো মদ,
পুরোনো বন্ধুত্বের দাবিতে
ক্রুশ কাঁধে দাঁড়িয়ে আছে অপেক্ষায় ।
কিন্তু যে শিশুর নগ্নতা বিলিতি পত্রিকার আর্ট হয়,
সমাজের অলৌকিক আবদারে যে নারীকে সীতার মত প্রমান করে যেতে হয় সতীত্বের উপপাদ্য,
গনতন্ত্রের উচ্ছিষ্ট খেয়ে যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেই খুশি,
তাদের কোলেই কি জন্ম নেবেন
খ্রীষ্ট অথবা কেষ্ট ?
অথবা অন্যকেউ?
অথবা,
কল্কি ?


কফিটা
পুরোনো কাপে
ঠান্ডা হয়েছে বহুক্ষন ।
ভেজাচুলে তোমাকে যে কেন ঠিক
পরনারীর মত সুন্দর লাগে – সেই চিন্তায় কফির বাস্প
শরীর ছাপিয়ে মাথা রেখেছে মনের বুকে, তোমার মত পাতলা ঠোঁটের আলতো হাসি হেসে-
আবদার জুরেছে নিচু গলায়, তোমার ঠোঁটের স্পর্শ নেবে ।
তোমাকে যে অনেকদিন হল দেখেনি ।
ফিরে এসো অরণি,
শেষবারের মতো ?
প্লিজ ?


আমার
সাপ্তাহিক বাজারে
আলু – পেঁয়াজের পরিমান
ক্যালেন্ডারের তারিখ মেনে চলে ।
ডারউইনের তত্ত্বে বুঝি এভাবেই ডাইনোসর হয় দুর্বল মানুষ ।


সব
কান্নাই নাকি
একদিন কবিতা হয় ।
কাল দিস্তে-খানেক নিংড়ে দেখেছি -
দুই- এক ফোঁটা কালি ছাড়া আর কিছুই নেই ।



আজ
আমার স্বপ্নে
তুমি এক হাইজেনবার্গ,
ভালোলাগা ও ভালোবাসার অনিশ্চিত নিত্যতা ।
পোষা নেড়ির মত আমার পৃথিবীও ল্যাজ নাড়ে একমনে –
এপাড়া ওপাড়া বেপাড়া দাপিয়ে সারাদিন পর ফিরে আসে তোমার কাছেই; মাধ্যাকর্ষন নয় – পিছুটানে ।

আপনার মতামত জানান