দু মিনিট

অভীক দত্ত


বনগাঁ লোকালে বহু দিন পর মিলির সাথে দেখা।দুর্গানগর স্টেশন থেকে উঠল। একে রবিবার তার ওপর এই দুপুরে সেই কালান্তক ভিড়টা আর নেই। মিলি সেই একই রকম আছে। রজত ওকে দেখে খানিকটা থমকাল। বিড়িটা ফেলবে ফেলবে করে ফেলেই দিল শেষমেষ। শাড়ির বস্তাটা রেখে তার ওপর বসে বিড়ি খেতে খেতে মিলিকে দেখার পর হঠাৎ বা দিকটা চিন চিন শুরু হল।
মিলির হাত ধরে একটা ছোট্ট ছেলে। হাতে একটা খেলনা পিস্তল। বন্দুকটাই নিবিষ্টমনে দেখছে। মনে হয় আজকেই কেনা হয়েছে।
মিলি পায়ে পায়ে এগিয়ে এল তার দিকে, "এখন কি?"
"তোমার ছেলে?" বাচ্চাটাকে দেখাল রজত। কথাটা শাড়ির বস্তার দিকে যাক চাইল না সে।
"হু"।
“নাম কি?”
“অর্জুন”।
“এই রে”।
“কেন?”
“অর্জুন বাপের ছেলে না জান?”
“মানে?”
“অর্জুনের বাবার নাম কি?”
“পান্ডু”।
“ধুস। সে তো স্কুলের খাতায় নাম, আসল বাপ কে?”
“কে?”
“ইন্দ্র”।
“হু”।
“স্কুলের খাতার নামটাই দরকার, কি বল”?
মিলি জবাব দিল না। পিছিয়ে গেল।
আরেকটা বিড়ি বের করে ধরাল রজত।

আপনার মতামত জানান