মেঘের ছবি

উৎসব দত্ত
একটা কফি শপে আলাপ। টল ডার্ক হ্যান্ডসাম। সবসময় কাঁধে ক্যামেরার ব্যাগ। ফোটো তোলা নেশা ছিল। তখন এখনকার মতো ডিজিটাল ক্যামেরা ছিলনা। অনেক ছবি তুলেছিল। সব ছবি ওয়াশ করে পাঠিয়ে দিত। খামের ওপর লেখা থাকতো "মেঘের ছবি"।

নভেম্বর কি ডিসেম্বর হবে সেবার শীতে দাদুর বাড়ি শিলিগুড়ি বেড়াতে আসা একমাসের ছুটিতে। নীল কে দেখে ভালোলাগা। ওর সাথে কাটানো দিন। হাইওয়েতে বাইক রাইড, কাম্পফায়ার, গলা ছেড়ে গান গাওয়া, ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে একই ব্লাঙ্কেট জড়িয়ে ছেড়ে না যাওয়ার প্রমিস। একসাথে রাত কাটানো।

নীলের তোলা ছবি গুলোর মতই সব ঘটনা এখনও ছবি হয়ে রয়েছে মেঘের মনের ক্যানভাসে। পুরোনো অ্যালবাম গুলো মেঘ উলটে পাল্টে দেখে যদি কোথাও নীলের ছবি থাকে। কিন্তু শুধুই মেঘ আর মেঘ।

চল্লিশ পেরোনো মেঘের এক মেয়ে তিথি। মাইক্রো বায়োলজি নিয়ে পড়ে। মা মেয়ের বন্ধুত্বে ভাগ বসাতে আরও একজন আছে। যার কথা বললেই তিথি সব সময় এড়িয়ে যায় কিছু জিগেস করলে বলে "বিশেষ বন্ধু"। মেঘ বলেছে ওর সাথে আলাপ করিয়ে দিতে।

মায়ের পুরনো অ্যালবাম গুলো তিথি দেখতে দেখতে বলছে 'মা তোমায় কি অসাধারন দেখতে ছিল ইশ আমি যদি তোমার মতো হতে পারতুম! কে তুলেছে গো এই ছবি গুলো? কি অপূর্ব লাগছে তোমায় কার তোলা ছবি গো কোনোদিন দেখাওনি তো আমায়।'

মেঘ বলে 'তোর মতো আমারও একটা বিশেষ বন্ধু ছিল।'

আপনার মতামত জানান