চৈত্র সেল

অদিতি ভট্টাচার্য্য


“রিবেট বাদ দিয়ে এটা কত পড়ছে তাহলে?” শ্রীপর্ণার জিজ্ঞাসা।
“এগারোশো পঞ্চাশ ম্যাডাম,” দোকানের সেলসম্যানটি উত্তর দেয়।
একটি নামী বিপণীতে শাড়ি কিনতে ঢুকেছে শ্রীপর্ণা। নিজের মার জন্যে। প্রমিতের ভূমিকা এসব ক্ষেত্রে শুধু মাত্র নীরব দর্শকের। তার মধ্যে এখন চৈত্র সেল চলছে, কার সাধ্য যে শ্রীপর্ণাকে থামায়!
“এরকম শাড়িই মা নিতে বলেছে। এ দুটোই আছে?”
“হ্যাঁ ম্যাডাম। সব বিক্রি হয়ে গেছে। শুধু এই পিঙ্ক আর অরেঞ্জ – এই দুটোই আছে।”
“তাতো দেখতেই পাচ্ছি। কোনটা যে মার জন্যে নি!”
“দুটোই খুব লাইট শেড ম্যাডাম, যে কোনো একটা নিতে পারেন।”
দোকানে আরো কয়েকজন ক্রেতা ছিল। এবার শ্রীপর্ণা তাদের দ্বারস্থ হল, “আমাকে একটু হেল্প করুন না প্লীজ। আমার মার জন্যে কোনটা নি? মার এজ ধরুন এই ফিফটিফাইভ। মাকে কিন্তু দেখতে এখনও সুন্দর।”
প্রমিত অবাক হয়ে দেখল পরামর্শ দিতেও লোকের কী উৎসাহ! স্পষ্ট দুটো দল ভাগ হয়ে গেল, পিঙ্ক আর আরেঞ্জের। সমস্যা আরো বাড়ল।
“নাহ মাকেই ফোন করি,” শ্রীপর্ণা ওখানেই ফোন করে।
কিছু কিছু কথা প্রমিতের কানে আসে।
“কী বলছ? পিঙ্ক নেব না? অরেঞ্জ চলবে?”
..........................................
“হালকা অরেঞ্জ স্কোয়াশের রং চলবে? মানে অনেকটা জলে একটু স্কোয়াশ মেশালে যেরকম হয় তো?”
..........................................
“বুঝেছি, বুঝেছি। ঠিক আছে।”
প্রমিত প্রমাদ গোনে। কী রঙ বোঝানোর কায়দা রে বাবা! এখন এই শাড়িটার রঙ ঠিক ওই রকম হলেই বাঁচা যায়। নাহলে আরো কত জায়গায় যে ঘুরতে হবে ভগবানই জানেন।
শ্রীপর্ণা কমলাটাই নিল। নিজের জন্যে তো আগেই ক’টা বাছা ছিল। সব ক’টা সেলসম্যানের হাতে দিয়ে কাউন্টারে যায় দুজন। টাকা মিটিয়ে প্যাকেট হাতে বেরিয়ে প্রমিত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।
কিন্তু এ স্বস্তি বড়োই ক্ষণস্থায়ী। বাড়ি পৌঁছবার একটু পরেই শ্রীপর্ণা এসে বলল, “একটা গোলমাল হয়েছে। অরেঞ্জটার বদলে পিঙ্কটা চলে এসেছে। আসলে ও দুটো নিয়েই কনফিউশন হচ্ছিল তো।”
প্রমিত আঁতকে ওঠে।
“ও রকম কোরো না তো। পিঙ্কের ঠিক এই শেডটা আমার নেই। এটা আমিই রেখে দি। মার জন্যে আরেকটা কিনে নেব।”
প্রমিত কোনো রকমে বলে, “খুব ঘুম পাচ্ছে, খেতে দেবে?”

আপনার মতামত জানান