গুচ্ছ কবিতা

তোফায়েল তফাজ্জল
ইচ্ছের বুলবুল

কী অপূর্ব রোদেলা আনন!

চোরা দৃষ্টি উড়ে গিয়ে পড়ে
উর্বর ফুটন্ত, স্নিগ্ধ পলকের সৌরভ পরখে।

বাগানে যেমন ফুটে থাকে ফুল – হয় না সাজাতে,
বাতাসকে কাছে পেলে দোল খায় পাতার বাহার
যা দেখে আচমকা নড়ে পেন্ডুলাম মন;
যে ক্রিয়ায় ফুলে ফুলে বাঁধে গান ইচ্ছের বুলবুল –

এ সবই দেখলাম ওর মাঝে
প্রকৃতি সুলভ বিদ্যমান।

কেউ, যত্নের পসরা যোগে তুলে ধরে
মৌসুমী বায়ুর বাক, কুলুকুলু রাগিনী আওয়াজ
চাল-চলনে, ইঙ্গিতের দু'চার কথায়।
আর কারো পায়চারির শব্দে, জন্মসুলভ চাউনিতে
এক দিকে ঝুঁকে পড়ে কিংবা মুষড়ে পড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

অনুকারে, সতর্ক নয়ন ঠারের ঝিলিকে বোঝে,
ঝিম ধরে ছোঁড়া তীর চাঁদমারির ঠিক নিশানায়।

শিকার কী আর ঝোপ পায় গা ঢাকার?




ঝুঁকি বাজ, আঁকাবাঁকা রশি

সাজানো মিথ্যের ঝুঁকি-বাজ, আঁকাবাঁকা রশি নামতে দেখে
উপস্থিত বিদ্যাবুদ্ধি খায় ভ্যাবাচেকা।

অবাঞ্ছিত সেই স্পন্দিত শিখার বুভুক্ষু লতিয়ে থাকা জিভ
বিলোকনে নিভে যায় দাদের ধকল,
খাড়া হয়ে ওঠে শয্যাগত রোগী।
আশঙ্কাজনক ডিগ্রিজ্বর জানালা টপকিয়ে ধপ করে পড়ে পথ মাপে,
চারপাশের বাড়ন্ত সমূহ শব্দ-বল
ঊর্ধ্বগামী হয়ে হয় পেঁজা পেঁজা তুলো।

লেজ নাড়া অনেক দুশ্চিন্তা
পরিত্যাক্ত পরিখার দিকে দৌড়ে দিশাবিশাহীন।
ধ্যান, নীরবতা পলকেই চলন্ত গাড়ির ইট খাওয়া গ্লাস টুকরো।
পিছে কেউ নেই, অথচ সংশয় কেউ যেনো পিছে – কী যন্ত্রণা!
ফট করে বাঁ-পাশ মাড়িয়ে সটান দাঁড়িয়ে ভুতুরে সময় –

সেই ঝুঁকি যখন বাড়ির পথ ছাড়ে
ভাবে, বাঘ ঘুমিয়ে থাকে গুহা থাকা বেঁচে এলো তার উপলব্ধি,
যে সবের সাক্ষী, ঝেঁপে আসা ঘাম-বৃষ্টি, লবণ প্রাধান্য দেহ,
অগোছালো কথা, ছেঁড়া-প্যান্ট, হিসুগন্ধি আবহাওয়া ...

স্তম্বিত দাঁড়ায় ঘুরে, ধীরে-লয়ে কাটে মেঘ, ছত্রভঙ্গ হয়ে
পড়া স্পৃহা ফিরে এসে জড়ো হয় কর্মে।
তবে, আঁতে গজায় আক্কেল দাঁত যথা-প্রত্যুত্তরে
যাতে লোকে বোঝে ডালে ঝোলে আজ সেই প্রতিফল।


ইতিউতি, দু'নামতা

ইচ্ছে হলেই ইতিউতি, দু'নামতায় বলবে কথা
ঝাল-মসলা মাখিয়ে দিয়ে কাঁচা পাকা আমড়া জুড়ে ;
ঝোপেঝাপে লুকিয়ে থেকে ফুল ফোটাবে
ছিটাবে ঘ্রাণ নাক বরাবর, পেতে কদর –
বলবে আবার কেনো অলি উড়ে এসে
গলায় গলায় সুর মিলিয়ে, গা এলিয়ে – ?

কৈয়ের ভাজি, ডিমের ভাজি
টেবিল জুড়ে সাজিয়ে রেখে ভরদুপুরে
দাঁড়িয়ে যাবে অন্য মনে একটু দূরে
সুযোগের এই খিড়কি খোলা মাঝামাঝি
ভাগ বসালে দোষ কি হবে আতা বড় ?

ছড়িয়ে দেবে চিনির দানা
পিপীলিকা দলের ওপর, মাছির কাছে মাছের হাটে
নীতি-নৈতিকতার বাণী শুনিয়ে যাবে
কে কান দেবে
আমরা কাঠের ঢেঁকি ঠেলতে গোয়াল ঘরে
কাঁটাঅল়া এই অরণ্যে ?

কূলের কাছে নাম পাঠাবে খাম পাঠাবে নদী থেকে –
যার এ নেশা, জল পিপাসা যাবেই কাছে নিরবধি,
সময়ে বা অসময়ে সাধের শোলে
কাটতে চাবে রংবেরঙের লম্বা সাঁতার
ঘোলা জলে খুঁজবে খাবার কাদা ঘেঁটে।
গাঙচিলেরাও তাকে তাকে থাকবে ছোঁয়ের অধ্যয়নে।
অতিথিদের দাওয়াত দিয়ে কি পালাবি ?


চাতক ইচ্ছুক

মন টেকে এমন সৌন্দর্যে গাঁথা পরম প্রকৃতি –
টুক করে নিতে পারে এর স্নিগ্ধ স্পর্শ, উপভোগ
যে যখন চাতক ইচ্ছুক।

মাঠের ফসল মাথা তুলে
অনটন যখন এগিয়ে –

ঝর্নাজল, নর্তকীর মল
কানকে জামিন দেয় সজাগ হলেই।
জলজের নড়াচড়া, সাঁতার ও ডুব
মনে ঢালে কোলাহল ;
কাশফুল আদর মাখে চলমান বায়ু ।
নদী বা গাঙের দু'পাশের সবুজের দোলনা-ঢেউয়ে
দর্শকের দৃষ্টি জুড়ে কেবল নরম ছুঁয়ে ছুঁয়ে –

ডালের বাসিন্দা থেকে নেমে আসা সুর
তুলে এনে পান করে বাতাস বেহুশ ;
অদূরে দাঁড়িয়ে থেকে তাস্কা খায় গিরি।

তরুলতা, বৃক্ষফুলে, জলেস্থলে, দূরের আকাশে
চাহিদা মিটাবে দু'নয়ন,
আজন্মই পেয়ে থাকে এই অধিকার।



আপনার মতামত জানান